📌 গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনে ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন ১০ বছর ধরে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের পাঠদান ও সহায়তা করছেন। 'মুসাফির ইশকুল'-এর মাধ্যমে তিনি শতাধিক শিশুকে শিক্ষা ও জীবনযাপনের উপকরণ সরবরাহ করছেন। জেলা প্রশাসকও এই উদ্যোগের পাশে দাঁড়িয়েছেন
গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনের পরিত্যক্ত প্ল্যাটফর্মে প্রতিটি শুক্রবার একটা বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের জন্য একটি পাঠশালা শুরু হয়, যেখানে শিক্ষা ও আনন্দের মিশ্রণে তাদের জীবন পরিবর্তিত হচ্ছে। এই মহৎ উদ্যোগের পেছনে দাঁড়িয়েছেন ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন, যিনি ১০ বছর ধরে এই শিশুদের পাঠদান ও সহায়তা করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **মুসাফির ইশকুল** নামে গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনে প্রতিষ্ঠিত একটি পাঠশালা, যেখানে প্রতিদিন শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশু শিক্ষা লাভ করছে
- 📌 **ইমরান হোসেন** নিজের ব্যবসার ১০ ভাগ লভ্যাংশ এই পাঠশালার জন্য ব্যয় করেন, যা ২০১৬ সাল থেকে চলমান
- 📌 **২০ জন শিক্ষিত তরুণ** ইমরানের সাথে যুক্ত, যারা শিশুদের পাঠদানে সহায়তা করছেন
- 📌 **২০২৪ সালে এসএসসি পাস** করেছেন মুসাফির ইশকুলের শিক্ষার্থী মৌসুমি, আর **২০২৭ সালে** বনলতা ও বীথি পরীক্ষায় অংশ নেবেন
- 📌 **জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া** এই উদ্যোগের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সহযোগিতা জানিয়েছেন
- 📌 **শিশুদের জন্য** বই, খাতা, জামাকাপড়, চকলেট ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়
📰 বিস্তারিত
গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনের একটি পরিত্যক্ত প্ল্যাটফর্মে প্রতিটি শুক্রবার একটা বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিশুদের জন্য একটি পাঠশালা শুরু হয়, যা 'মুসাফির ইশকুল' নামে পরিচিত। এই পাঠশালায় শিশুদের পাঠদানের পাশাপাশি গান, কবিতা আবৃত্তি ও নাচের আয়োজন করা হয়। ইমরান হোসেন, যিনি এই পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা, নিজের ব্যবসার ১০ ভাগ লভ্যাংশ এই উদ্যোগে ব্যয় করেন। তিনি বলেন, '২০১৬ সাল থেকে এই পাঠশালা শুরু করেছি। প্রথমে শিশুদের খুঁজে এনে পাঠদান করতাম, কিন্তু এখন তারা নিজে নিজে এসে আমাদের জন্য অপেক্ষা করে।'
মুসাফির ইশকুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে মৌসুমি, যিনি ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করেছেন। এছাড়াও, বনলতা ও বীথি নামের দুজন শিক্ষার্থী ২০২৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন। ইমরান হোসেনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তি করার জন্য খরচ বহন করা হয়, এমনকি পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপের টাকাও দেওয়া হয়। তিনি বলেন, 'এই পথশিশুরাই একসময় প্রতিষ্ঠিত হয়ে মুসাফির ইশকুলের দায়িত্ব নেবেন।'
শিশুদের মধ্যে আত্মমর্যাদা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান শিক্ষার্থী বনলতা। তিনি বলেন, 'আমরা স্টেশনে ঘোরাঘুরি করে টাকা চাইতাম, কিন্তু এখন আমাদের মধ্যে আত্মমর্যাদা বোধ সৃষ্টি হয়েছে। সবকিছু সম্ভব হয়েছে ইমরান স্যারের জন্য।'
গাজীপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেছেন, 'এই ধরনের কাজের মানুষ খুঁজে পাওয়া খুব সহজ নয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষে যতটুকু সহযোগিতা করা যায় ততটুকু করা হবে। এই কাজ চালিয়ে যেতে জেলা প্রশাসন পাশে থাকবে।'
"প্রথমে আমরা তাদের স্কুলে পড়ার যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করি। পরে তাদেরকে কাছাকাছি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে ভর্তি করে দেওয়া হয়। সেখানকার বেতনসহ আনুষঙ্গিক সব খরচই বহন করা হয় মুসাফির ইশকুলের মাধ্যমে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন, গাজীপুর
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ইমরান হোসেন, মৌসুমি, বনলতা, বীথি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরুল করিম ভূঁইয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ বছর (উদ্যোগের দৈর্ঘ্য), ১০ ভাগ (লভ্যাংশ), ২০ জন (শিক্ষক), শতাধিক (শিক্ষার্থী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!