📌 নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরা গণহিস্টিরিয়া হিসেবে দেখলেও অভিভাবক ও কর্তৃপক্ষ সন্দেহের আড়ালে তদন্ত চায়
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার ঘটনা তৃতীয় দফায় এসেছে। বুধবার অভিভাবক সমাবেশ চলাকালে ১০ শিক্ষার্থী মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাবের পর অচেতন হয়ে পড়লে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে তিনজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ে মোট ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে — সর্বশেষ ১০ জনের মধ্যে তিনজনকে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে
- 📌 উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শেখ মাহমুদুর রহমান গণহিস্টিরিয়া হিসেবে দেখলেও অভিভাবক ও কর্তৃপক্ষ সন্দেহের আড়ালে তদন্ত চায়
- 📌 অসুস্থ শিক্ষার্থীর বাবা ওষুধের দোকানে কীটনাশক বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে — বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে
- 📌 তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেনি — প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির মধ্যে বিরোধের কথা জানা গেছে
📰 বিস্তারিত
জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার ঘটনা তৃতীয় দফায় এসেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অভিভাবক সমাবেশ চলাকালে ১০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে তিনজনকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে এটিকে গণহিস্টিরিয়া বা মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা হিসেবে দেখছেন। তবে অভিভাবক ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে সন্দেহের আড়াল রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে কমিটির সদস্যরা সরেজমিন তদন্ত শুরু করেনি। প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, অসুস্থ শিক্ষার্থীর বাবা বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য এবং স্থানীয় ওষুধের ব্যবসায়ী। তার দোকানে কীটনাশক বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিষয়টি উপজেলা ও থানা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, প্রধান শিক্ষক তাঁকে জানানোর বদলে অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন। অসুস্থ শিক্ষার্থীর বাবার ওষুধের দোকানে তল্লাশি চালিয়ে কীটনাশক বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার কারণ নিছক মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তদন্ত কমিটিকে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে বলা হয়েছে।
"জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি সাতজনের চিকিৎসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলছে। সব শিক্ষার্থীর প্রায় একই ধরনের লক্ষণ—অচেতন হয়ে পড়া ও বমি বমি ভাব। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকেরা এটিকে গণহিস্টিরিয়া বা গণমনস্তাত্ত্বিক সমস্যা হিসেবে দেখছেন।"
এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক মানসী রানী সরকার জানান, তদন্ত কমিটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেনি। কমিটির সদস্যরা সময় দিলে সরেজমিন বিদ্যালয়ে যাবেন। তবে অসুস্থ শিক্ষার্থীর বাবার আচরণ নিয়ে সন্দেহের কথা জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়, হাতিয়া উপজেলা, নোয়াখালী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শেখ মাহমুদুর রহমান (আরএমও), মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন (প্রধান শিক্ষক), রাসেল ইকবাল (ইউএনও), মানসী রানী সরকার (উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ জন (মোট অসুস্থ শিক্ষার্থী), ১০ জন (সর্বশেষ দফায় অসুস্থ), ৩ জন (জেলা হাসপাতালে পাঠানো), ২৫০ শয্যা (নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!