📌 অভাবের মধ্যেও অসাধারণ প্রচেষ্টায় এবারের এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন চার শিক্ষার্থী। তবে কলেজ ও উচ্চশিক্ষার খরচ জোগাড় নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া চার শিক্ষার্থীর জীবনের গল্প শুধু সাফল্যের নয়, বরং সংগ্রাম ও অনুপ্রেরণার। অটোরিকশাচালক, দিনমজুর ও নির্মাণশ্রমিকের পরিবারের সন্তানরা নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যেই থেকেও অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেছেন। তবে উচ্চশিক্ষার খরচ জোগাড় নিয়ে রয়েছেন দুশ্চিন্তায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া চার শিক্ষার্থীর মধ্যে রয়েছেন রেখা আক্তার, খাদিজা আক্তার ও শাম্মি আক্তার
- 📌 রেখা আক্তারের বাবা অটোরিকশাচালক, মা গৃহিণী; তাঁরা ফরিদপুর সদরের বিশ্বাসডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা
- 📌 খাদিজা আক্তারের বাবা দিনমজুর, পরিবারের তিন বিঘা জমি বার্ষিক বন্দোবস্তে চলে; রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বাসিন্দা
- 📌 শাম্মি আক্তারের বাবা রংমিস্ত্রি; তিন শতক জমিতে টিনের ঘরে ছয় সদস্যের পরিবার বসবাস করে
- 📌 চার শিক্ষার্থীরই স্বপ্ন উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা, তবে কলেজ ও মেডিক্যালের খরচ নিয়ে রয়েছেন দুশ্চিন্তায়
📰 বিস্তারিত
ফরিদপুর সদরের বিশ্বাসডাঙ্গী গ্রামের অটোরিকশাচালক মো. রেজাউল ও গৃহিণী হালিমা খাতুনের মেয়ে রেখা আক্তার এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাঁর বাবা-মা পঞ্চম শ্রেণির পর আর লেখাপড়া করতে পারেননি। তবে মেয়ের পড়াশোনায় তাঁরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। রেখা নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণের পাশাপাশি দুই শিক্ষকের কাছে ব্যক্তিগতভাবে পড়াশোনা করেছেন। প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পড়াশোনা করে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেন।
রেখা স্বপ্ন দেখেন একজন গাইনি চিকিৎসক হওয়ার। তিনি জানান, গ্রামের অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসূতি মায়েদের দুঃখ-কষ্ট দেখে তাঁর এই স্বপ্ন জন্মেছে। তাঁর মা হালিমা বেগম বলেন, ‘মেয়ের স্বপ্ন একসময় আমাদেরও স্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমরা ওকে উৎসাহ দিতে কোনো কার্পণ্য করিনি।’ তবে কলেজ ও মেডিক্যালের খরচ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দরিদ্র দিনমজুর খবির উদ্দিন মোল্লার মেয়ে খাদিজা আক্তার নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই বহন করেছেন। তিনি এলাকায় টিউশনি করেছেন এবং সময় পেলে মায়ের হাঁস-মুরগি পালনে সহযোগিতা করেছেন। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া খাদিজা রাজধানীর গোয়ালন্দ সরকারি কামরুল ইসলাম কলেজে ভর্তি হতে চান। তাঁর ইচ্ছা ভবিষ্যতে কলেজে শিক্ষকতা করা।
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের রংমিস্ত্রি খাজের আলীর মেয়ে শাম্মি আক্তারও এবারের এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাঁর পরিবারে তিন শতক জমিতে টিনের ঘরে ছয় সদস্যের বসবাস। কাজ পেলে খাবার জোটে, না হলে অনাহারে দিন কাটে। শাম্মি জানান, কলেজে ভর্তি হওয়া ও পড়াশোনার খরচ জোগাড় নিয়ে তাঁর দুশ্চিন্তা রয়েছে।
‘মা ও বাবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ছাড়া তাঁর পক্ষে এ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হতো না।’ — রেখা আক্তার
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফরিদপুর সদর, রাজবাড়ী, তারাগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রেখা আক্তার, খাদিজা আক্তার, শাম্মি আক্তার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: জিপিএ-৫ (৪ বার), শিক্ষার্থী (৪ জন), বয়স (১৭ বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!