📌 কুড়িগ্রামের উলিপুরে আমজাদ হোসেনের সংগ্রহে রয়েছে ২২টি সচল গ্রামোফোন ও প্রায় পাঁচ হাজার পুরোনো গানের রেকর্ড। তাঁর এই সংগ্রহ শুধু যন্ত্র নয়, হারিয়ে যাওয়া সময়ের স্মৃতি হিসেবে টিকে আছে
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার কেবলকৃষ্ণ জুম্মাহাট এলাকার বাসিন্দা আমজাদ হোসেনের ঘরে প্রবেশ করলে চোখে পড়ে পুরোনো দিনের গ্রামোফোন ও গানের রেকর্ডের এক বিশাল সংগ্রহ। তাঁর সংগ্রহশালায় রয়েছে ২২টি সচল গ্রামোফোন, যার মধ্যে আটটি হাতে ঘোরানো দুষ্প্রাপ্য মডেল এবং ১৪টি ইলেকট্রিক রেকর্ড প্লেয়ার। এছাড়া প্রায় পাঁচ হাজার গানের রেকর্ড রয়েছে তাঁর কাছে—এর মধ্যে তিন হাজার ইপি ও দুই হাজার এলপি রেকর্ড। আরও আছে হাজারখানেক অডিও ক্যাসেট।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 উলিপুরের আমজাদ হোসেনের সংগ্রহে রয়েছে ২২টি সচল গ্রামোফোন ও প্রায় পাঁচ হাজার পুরোনো গানের রেকর্ড
- 📌 তাঁর সংগ্রহে রয়েছে আব্বাসউদ্দীন আহমদ, আব্দুল আলীম, কিশোর কুমার, রুনা লায়লাসহ বিভিন্ন শিল্পীর গান
- 📌 ১৯৯০ সালে চাকরির বেতনের একটা অংশ ব্যয় করে তিনি গ্রামোফোন ও রেকর্ড সংগ্রহ শুরু করেন
- 📌 স্ত্রী মোছলেমা বেগম জানান, তাঁর স্বামীর সংগ্রহের প্রতি নেশা থাকলেও চিকিৎসার টাকার অভাব রয়েছে
- 📌 সংগ্রহশালাটি টিনের ঘরে তিনটি কক্ষে ছড়িয়ে থাকায় যন্ত্র ও রেকর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে
📰 বিস্তারিত
আমজাদ হোসেনের সংগ্রহশালায় প্রবেশ করলে দেখা যায়, পুরোনো গ্রামোফোনগুলো বিভিন্ন স্থানে রাখা রয়েছে। কোনোটি বাঁশের তাকে, কোনোটি বিছানার পাশে আবার কোনোটি মাটিতে বস্তা বিছিয়ে রাখা। তাঁর সংগ্রহের সব গ্রামোফোনই এখনো সচল। তিনি জানান, প্রতিদিন তিনি গ্রামোফোনগুলো পরিষ্কার করেন এবং মশার কয়েলের খালি প্যাকেট সংগ্রহ করে রেকর্ডগুলো সংরক্ষণ করেন।
তাঁর সংগ্রহে রয়েছে উত্তরবঙ্গের ভাওয়াইয়া গানের পাশাপাশি আব্বাসউদ্দীন আহমদ, আব্দুল আলীম, কিশোর কুমার, আশা ভোসলে, পঙ্কজ উদাস, মোহাম্মদ রফি ও রুনা লায়লাসহ বিভিন্ন শিল্পীর গান। এছাড়া রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা গান ও তাঁর ভাষণের তিনটি রেকর্ড।
আমজাদ হোসেনের বাবা দেলওয়ার হোসেন ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ‘জনতা মাইক সার্ভিস’ নামে মাইকের ব্যবসা শুরু করেন। তখন কিশোর আমজাদ মাইক চালাতে গিয়ে গ্রামোফোনের সঙ্গে পরিচিত হন। সেই পরিচয় ধীরে ধীরে নেশায় পরিণত হয়। তিনি জানান, যেখানেই পুরোনো গানের রেকর্ডের খবর পেয়েছেন, সেখানেই ছুটে গেছেন। একবার আব্বাসউদ্দীন আহমদের একটি গানের রেকর্ডের জন্য তিনি পাঁচ হাজার টাকা ব্যয় করেছিলেন।
"আমার প্রতিদিনের কাজ হলো গ্রামোফোনগুলো পরিষ্কার করা। বাজার থেকে মশার কয়েলের খালি প্যাকেট সংগ্রহ করে মোড়ক বানিয়ে শিল্পী ও অ্যালবামের নাম লিখে রেকর্ডগুলো সংরক্ষণ করি।"
তাঁর স্ত্রী মোছলেমা বেগম জানান, তাঁর স্বামীর সংগ্রহের প্রতি নেশা থাকলেও চিকিৎসার টাকার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, "সবাই চাকরি করে টাকা সঞ্চয় করেছে। আর আমার স্বামী ক্যাসেট প্লেয়ার সংগ্রহ করেছে। তার কোনো সঞ্চয় নেই। এখন আমি অসুস্থ, অথচ চিকিৎসা করানোর টাকা নেই। গ্রামোফোনের জন্য লোকটা এত ত্যাগ করল, সেই ক্যাসেট রাখার তাকও আমাদের ঘরে নেই। অযত্নে সব নষ্ট হচ্ছে। বিক্রি করতে বললেও সেটাও করে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার কেবলকৃষ্ণ জুম্মাহাট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আমজাদ হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২টি গ্রামোফোন, প্রায় পাঁচ হাজার রেকর্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!