📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ জানান, জিন্নাহর বাংলা-বিরোধী অবস্থান তুলে ধরতে তাঁর ছবি ও উর্দু-ভাষা দাবি প্রদর্শিত হয়েছে। ছাত্রদল এই ছবি সরিয়ে নিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। এছাড়াও লক্ষ্মীপুরে শিক্ষার্থীর মোবাইল ভাঙা হয় নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ জানান, পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাংলা-বিরোধী অবস্থান তুলে ধরতে তাঁর ছবি ও উর্দু-ভাষা দাবি প্রদর্শিত হয়েছে। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, জিন্নাহর বাংলা-বিরোধী অবস্থান তুলে ধরতে তাঁর ছবি ও উর্দু-ভাষা দাবি প্রদর্শিত হয়েছে।
- 📌 ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমি হিসেবে জিন্নাহর উর্দু-ভাষা দাবি উল্লেখ করা হয়েছে: “পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু”।
- 📌 ছাত্রদল জিন্নাহর ছবি সরিয়ে নিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে, যা ডাকসুকে ইতিহাস আড়াল করার অভিযোগে নিয়ে আসে।
- 📌 ফরহাদ মন্তব্য করেন, ছাত্রদল জিন্নাহর বাংলা-বিরোধী অবস্থান আড়াল করার চেষ্টা করছে।
- 📌 লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার একটি শিক্ষার্থীর মোবাইল ভাঙা হয় নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য।
📰 বিস্তারিত
আজ সোমবার বিকেলে ডাকসু আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এস এম ফরহাদ বলেন, “১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন হঠাৎ করে সংঘটিত হয়নি। এর আগে ধারাবাহিকভাবে অনেক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। জিন্নাহ সরাসরি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু’। তাঁর সেই বক্তব্যটি আমরা ভাষা আন্দোলনের পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করেছি। ছবির নিচে ইংরেজিতে তাঁর বক্তব্যের সরাসরি উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছিল।”
ফরহাদ আরও বলেন, “আমরা যদি জিন্নাহর ছবি এবং তাঁর ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ এই বক্তব্যসংবলিত ক্যাপশনটি না দিতাম, তাহলে বলা হতো, আমরা জিন্নাহ যে বাংলা ভাষার বিরোধিতা করেছিলেন, তা লুকিয়েছি কিংবা তাঁকে দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছি। অথচ এখন ছবি ও ক্যাপশন দেওয়ার পর সেটির বিরোধিতা করা হচ্ছে।”
ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমার কাছে মনে হয়েছে, ছাত্রদল পক্ষান্তরে জিন্নাহর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা ছবিটি সরিয়ে নিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ায়, জিন্নাহ যে বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেই ইতিহাস তারা আড়াল করতে চায়। আমরা সেখানে সঠিক ইতিহাসই তুলে ধরেছিলাম।”
ফরহাদ আরও উল্লেখ করেন, “এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয় হতে পারে—হয় তারা ইতিহাস জানে না এবং পড়াশোনা করেনি, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে জিন্নাহর ভূমিকা আড়াল করার চেষ্টা করছে। সম্ভবত জিন্নাহর প্রতি তাদের আলাদা প্রীতি রয়েছে।”
এদিকে, জিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় ফরহাদ বলেন, “আজ একজন শিক্ষার্থী ছবিটি ভেঙেছেন বলে দেখলাম। শুনেছি, তিনি উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী। আমরা ছবি ও ক্যাপশনের মাধ্যমে দেখিয়েছি যে জিন্নাহ উর্দুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। সম্ভবত ওই শিক্ষার্থী চান না, উর্দুর বিষয়ে জিন্নাহর সেই অবস্থান মানুষ জানুক। এ কারণেই তিনি ছবিটি ভেঙে থাকতে পারেন।”
অপরদিকে, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় এক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের মাঠে মোবাইলটি ভাঙেন শিক্ষক নেওয়াজ শরীফ রায়হান।
"পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু।"
"উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এস এম ফরহাদ (ডাকসু জিএস), নেওয়াজ শরীফ রায়হান (শিক্ষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ ঘণ্টা (আলটিমেটাম), ১০ টা (মোবাইল ভাঙা সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!