📌 দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের প্রথম এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয়া ১৩ শিক্ষার্থীর সবাই ফেল হয়। শিক্ষকসংকট ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে এই বিপর্যয় ঘটে বলে জানা যায়। প্রতিষ্ঠানটিতে ৩১টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে
দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের প্রথম এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয়া ১৩ শিক্ষার্থীর সবাই এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। এই বিপর্যয়ের পেছনে শিক্ষকসংকট ও শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল বলেছেন, শিক্ষক ও কর্মচারীর ঘাটতি এবং শিক্ষার্থীদের পরিবারের অর্থনৈতিক অসুবিধা এই ফল বিপর্যয়ের মূল কারণ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের প্রথম এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয়া ১৩ শিক্ষার্থীর সবাই ফেল হয়েছেন।
- 📌 ১২ জন শিক্ষার্থী ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স এবং ১ জন ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল অ্যান্ড কমিউনিকেশন ট্রেডের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
- 📌 প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে মোট শিক্ষার্থী ৬৭৩ জন, কিন্তু শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে শূন্য পদ রয়েছে ৪৩টি — এর মধ্যে শিক্ষক পদ শূন্য ৩১টি।
- 📌 প্রতিষ্ঠানটির ১৫ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মচারী কর্মরত থাকলেও অনুমোদিত জনবল ৬৪ জনের মধ্যে ৪৩টি পদ শূন্য রয়েছে।
- 📌 ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই ঢাকার পোশাক কারখানায় কাজ করতে যায়, যা তাদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
📰 বিস্তারিত
দেবীগঞ্জ উপজেলা শহরে অবস্থিত দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণিতে ভোকেশনাল কোর্স চালু করে। ২০২৪ সালে এইচএসসি (ভোকেশনাল) পাঠদান শুরু হয় এবং এবার ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয়া ১৩ শিক্ষার্থীর সবাই ফেল হয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১২ জন ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স এবং ১ জন ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল অ্যান্ড কমিউনিকেশন ট্রেডের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল বলেছেন, শিক্ষকসংকট এবং শিক্ষার্থীদের পরিবারের অর্থনৈতিক অসুবিধা এই ফল বিপর্যয়ের মূল কারণ। তিনি আরও বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই ভর্তি হওয়ার পর ঢাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কাজ করতে যায়, যা তাদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৬৭৩ জন। তবে শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে অনুমোদিত জনবলের সংখ্যা ৬৪ জনের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছে মাত্র ২১ জন (১৫ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মচারী)। অর্থাৎ শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে ৪৩টি পদ শূন্য রয়েছে — এর মধ্যে শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে ৩১টি। প্রতিষ্ঠানটির পাঁচতলা ও চারতলা বিশিষ্ট দুটি একাডেমিক ভবন রয়েছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সংকট তৈরি হচ্ছে বলে জানা যায়।
"ফল বিপর্যয়ের পেছনে অন্যতম কারণ হলো শিক্ষকসংকট। এ ছাড়া এখানে ভর্তি হওয়া বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর পরিবারগুলো অর্থিক সংকটে থাকে। এ জন্য অনেক শিক্ষার্থীই ভর্তি হওয়ার পর ঢাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কাজ করতে যায়। এই বিষয়ও ফল বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, দেবীগঞ্জ উপজেলা, পঞ্চগড়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. মোস্তফা কামাল (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ), ১৩ শিক্ষার্থী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ জন ফেল শিক্ষার্থী, ৬৭৩ জন মোট শিক্ষার্থী, ৪৩টি শূন্য পদ, ৩১টি শূন্য শিক্ষক পদ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!