📌 বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষ ও আবাসন সংকটের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত অস্বাভাবিক হওয়ায় শিক্ষার মান হুমকির মুখে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতি বছর শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও শিক্ষকের সংখ্যা সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি। ফলে বর্তমানে গড়ে ৬৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক পাঠদান করছেন। অর্ধশতাধিক শিক্ষক শিক্ষা ছুটিতে থাকায় এই অনুপাত আরও খারাপ হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার, শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ২১০ জন
- 📌 গড়ে ৬৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক পাঠদান করছেন
- 📌 অর্ধশতাধিক শিক্ষক বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন
- 📌 শ্রেণিকক্ষ ও আবাসন সংকটে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে
- 📌 ইউজিসির সুপারিশকৃত শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:২০ হলেও বাস্তবে তা ১:৬৯
📰 বিস্তারিত
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতি বছর শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও শিক্ষকের সংখ্যা সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পায়নি। ফলে বর্তমানে গড়ে ৬৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক পাঠদান করছেন। অর্ধশতাধিক শিক্ষক বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়। নিয়মিত পাঠদান করছেন মাত্র ১৪৮ জন শিক্ষক।
বিশ্ববিদ্যালয়টির জনবলকাঠামো অনুযায়ী, অধ্যাপক পদের সংখ্যা ৪৯টি হলেও বর্তমানে অধ্যাপক রয়েছেন মাত্র একজন। শিক্ষক পদের সংখ্যা ৪০১টি হলেও ইউজিসির অনুমোদন রয়েছে মাত্র ২৬০টি। এর বিপরীতে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা ২১০ জন। ফলে অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৫০টি পদ খালি রয়েছে।
শিক্ষক সংকট শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নয়; গবেষণা, উচ্চশিক্ষা তত্ত্বাবধান এবং একাডেমিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ছে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. খোরশেদ আলম বলেন, তাঁদের বিভাগে সাতটি ব্যাচে চার শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। কিন্তু তাঁদের জন্য শিক্ষক রয়েছেন মাত্র চারজন। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান, গবেষণা ও অন্যান্য শিক্ষাবিষয়ক কাজ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
"শিক্ষক সংকটের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ছাড়াও পরীক্ষা, খাতা মূল্যায়ন, শিক্ষার্থীদের গবেষণা তত্ত্বাবধান, প্রশাসনিক দায়িত্ব ও বিভিন্ন কমিটির কাজ করতে হয়। ফলে কাগজে-কলমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত যা দেখা যায়, বাস্তবে শ্রেণিকক্ষে একজন শিক্ষকের ওপর চাপ আরও বেশি।"
শ্রেণিকক্ষ সংকটেও পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২৫টি বিভাগে স্নাতক এবং ২৪টি বিভাগে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে। কিন্তু প্রয়োজন ৭৫টি শ্রেণিকক্ষের বিপরীতে রয়েছে মাত্র ৩৬টি। ফলে বিভিন্ন বিভাগকে একই শ্রেণিকক্ষ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্লাসের সময় পরিবর্তন করতে হচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরিশাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. খোরশেদ আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ হাজার শিক্ষার্থী, ২১০ জন শিক্ষক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!