📌 চট্টগ্রামে বিয়ের চার মাসের মাথায় স্ত্রীকে হত্যা করে তার মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ফেলে পালিয়ে যান স্বামী। নিহত তানজিনা আক্তারের ভাই জানান, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর স্ত্রীকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়
চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় স্ত্রী হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। আজ সোমবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে স্ত্রীর লাশ ফেলে পালিয়ে যান স্বামী মোহাম্মদ আকাশ। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে নিহত তানজিনা আক্তারের ভাই মোহাম্মদ রহিম জানান, পরিবারের অমতেই বিয়ে করেছিলেন তাঁরা। তবে পরবর্তীতে তাঁরা বিষয়টি মেনে নেন। ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে আকাশ তাঁদের বাড়িতেই থাকতেন। বিয়ের মাসখানেক পর থেকেই তাঁদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি শুরু হয়। আজ সকালেও দু’জনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়েছিল বলে জানান তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্ত্রী হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে — বিয়ের চার মাস পর ঘটনা ঘটে
- 📌 স্ত্রী তানজিনা আক্তারের ভাই জানান, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর স্ত্রীকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায়
- 📌 স্বামী মোহাম্মদ আকাশ স্ত্রীর মৃতদেহ হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যান
- 📌 ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন খুলশী থানার উপপরিদর্শক মনিতোষ বিশ্বাস
📰 বিস্তারিত
খুলশী থানাধীন ঝাউতলা টিকিট প্রিন্টিং প্রেস কলোনির বাসিন্দা তানজিনা আক্তার (২২) গাইবান্ধা জেলার মোহাম্মদ আকাশকে বিয়ে করেছিলেন। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পরিণতি হিসেবে এই বিয়ে হয়েছিল। তবে ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে আকাশ পরিবারের সদস্যদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। বিয়ের মাসখানেক পর থেকেই তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। আজ সকালেও দু’জনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়েছিল বলে জানান তানজিনার ভাই রহিম।
রহিম আরও জানান, একপর্যায়ে আকাশ তাঁর মাকে ডেকে বলে তানজিনার কিছু একটা হয়েছে। তাঁর মা দৌড়ে রুমে গিয়ে তানজিনাকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান। আকাশ তখন তাঁর বোনকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তাঁর মা হাসপাতালে গিয়ে দেখেন তানজিনাকে মর্গের সামনে ফেলে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে আকাশ পালিয়ে যান এবং তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিতোষ বিশ্বাস জানান, তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা দাবি করছেন, মেয়েটি স্বামীর হাতে খুন হয়েছে। স্বামী পলাতক রয়েছেন। অভিযোগের বিষয়টি আরও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বর্তমানে হাসপাতালে নিহতের মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে।
"পরিবারের অমতেই বিয়ে করে তানজিনা। তবে পরবর্তীতে বোনের সুখের জন্য বিয়েটা মেনে নিই আমরা। আগে ব্যবসা করলেও বর্তমানে বেকার হওয়ায় আকাশ আমাদের বাড়িতেই থাকতেন। তবে বিয়ের মাসখানেক যেতেই তাঁদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি শুরু হয়। আজ সকালেও দু’জনের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। একপর্যায়ে আকাশ আমার মাকে ডেকে বলে তানজিনার কিছু একটা হয়েছে। আমার মা তখন দৌড়ে রুমে গিয়ে তানজিনাকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় ‘ওর তেমন কিছু হয়নি’ বলে সে নিজেই আমার বোনকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর মা হাসপাতালে গিয়ে বোনকে মর্গের সামনে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় আকাশকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলশী, চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তানজিনা আক্তার, মোহাম্মদ আকাশ, মোহাম্মদ রহিম, মনিতোষ বিশ্বাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!