📌 ভোলা সদর উপজেলায় নদীপথে ২৯০ বস্তা সার আটক হয়। স্থানীয়রা সন্দেহ করে সেগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে অন্য জেলায় পাঠানো হচ্ছিল বলে জানান। ইউএনও সজল কুমার দাশ গোডাউনে সিলগালা করেন সারগুলো। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা সার বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা করছেন।
ভোলা সদর উপজেলায় নদীপথে সরকারি সার পাচারের সন্দেহে স্থানীয়রা ২৯০ বস্তা সার আটক করেছেন। পরে স্থানীয় প্রশাসন গোডাউনে সেগুলো সিলগালা করে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সারগুলো অন্য জেলায় পাঠানো হচ্ছিল বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভোলা সদর উপজেলায় মঙ্গলবার রাতে চর ইলিশা গ্রামের দারগার খাল এলাকায় ২৯০ বস্তা সার আটক হয়
- 📌 প্রতিটি বস্তায় ছিল ৫০ কেজি করে টিএসপি ও ডিএপি সার
- 📌 স্থানীয়রা সন্দেহ করে সারগুলো ভোলা থেকে মাদারীপুরে পাচারের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছিল
- 📌 ইউএনও সজল কুমার দাশ গোডাউনে সিলগালা করেন সারগুলো
- 📌 কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা সার বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা করছেন এবং স্থানীয় কৃষকদের সার পৌঁছানোর ব্যবস্থা না করছেন
- 📌 কৃষি কর্মকর্তা জানান, তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে
📰 বিস্তারিত
ভোলার ইলিশায় নদীপথে জেলার বাইরে সার পাচারের সন্দেহে স্থানীয়রা মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর ইলিশা গ্রামের দারগার খাল এলাকা থেকে ২৯০ বস্তা সার আটক করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোলার কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি সার বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে অন্য জেলায় পাঠানো হচ্ছিল। তবে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, সেগুলো বিভিন্ন চরের কৃষকদের কাছে সরবরাহের জন্য নেওয়া হচ্ছিল।
আটককৃত সারগুলো ট্রলার ও নসিমন থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বস্তায় ছিল ৫০ কেজি করে টিএসপি ও ডিএপি সার। ট্রলারের মাঝি শহীদ জানান, সারগুলো চর ইলিশা গ্রামের রফিক মাঝি ও মন্নান বিএডিসি সার ও বীজ ডিলার মেসার্স মিজান ট্রেডার্স থেকে কিনেছেন। তিনি দাবি করেন, সেগুলো বিভিন্ন চরের কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পরিবহন করা হচ্ছিল। তবে কৃষক রফিক ও শহীদ কোনো মূল্য পরিশোধের রসিদ দেখাতে পারেননি।
কৃষক মাইনুদ্দিন জানান, শহীদের কাছ থেকে পাওয়া একটি রসিদে ৮০ বস্তা ডিএপি সারের দাম প্রতি বস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা হিসাবে মোট ৮৪ হাজার টাকা উল্লেখ রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেন, ৮০ বস্তার রসিদ থাকলে বাকি ২১০ বস্তা কোথা থেকে এলো? তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ কৃষকদের কাছে স্বল্পমূল্যে বিক্রি না করে অধিক মুনাফার আশায় সারগুলো অন্য জেলায় নেওয়া হচ্ছিল।
কৃষক মাকসুদ জানান, ডিলাররা কৃষকদের নামে ভুয়া ভাউচার তৈরি করে সার উত্তোলনের পর বেশি দামে বিক্রির জন্য অন্যত্র পাঠান। তিনি দাবি করেন, মাঠপর্যায়ে সংকট থাকলেও ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা করছেন। অন্যান্য কৃষকের অভিযোগ, ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে সারের দাম ঘন ঘন বাড়ছে। ফলে বেশি দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে ফসল উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
"সারগুলো ভেলুমিয়া, ভেদুরিয়া ও বরিশালের আলিমাবাদ ইউনিয়নের কৃষকদের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। বিভিন্ন চরে তরমুজ, ক্যাপসিকাম, চিচিঙ্গা ও শসা চাষের জন্য কৃষকরা এগুলো কিনেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।"
ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, ডিলার পয়েন্টের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারগুলো ভোলা থেকে বরিশালের আলিমাবাদ ইউনিয়নের কৃষকদের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। তিনি বলেন, কোনো কৃষক বা ডিলার অবৈধভাবে কাগজপত্র তৈরি করে সার উত্তোলন করেছেন কি না, তা তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরে রাতে উদ্ধার করা ২৯০ বস্তা সার স্থানীয় একটি গোডাউনে রেখে সেটি সিলগালা করেন ইউএনও সজল কুমার দাশ। তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে সারগুলোর বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। তাই যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সেগুলো গোডাউনে রেখে সিলগালা করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভোলা সদর উপজেলা, চর ইলিশা গ্রাম, দারগার খাল এলাকা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ইউএনও সজল কুমার দাশ, কৃষক মাইনুদ্দিন, কৃষক মাকসুদ, ট্রলারের মাঝি শহীদ, কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯০ বস্তা সার, ৫০ কেজি প্রতি বস্তা, ৮০ বস্তা (রসিদে), ২১০ বস্তা (অবৈধ), ১ হাজার ৫০ টাকা প্রতি বস্তা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!