📌 বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল লেনদেন বাড়িয়ে আগামী দুই বছরে কর-জিডিপি অনুপাত ৩ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি করতে চায়। পাকিস্তানের উদাহরণ অনুসরণ করে নগদ থেকে ডিজিটাল পেমেন্টে রূপান্তর ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বাংলা কিউআর কোড চালু করা হবে
বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বাড়িয়ে আগামী দুই বছরে কর-জিডিপি অনুপাত ৩ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ব্যাপক উদ্যোগ নিচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্নীতি কমিয়ে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আনুষ্ঠানিকায়ন ঘটানো হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি: আগামী দুই বছরে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়িয়ে ৩ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি করার লক্ষ্য রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে এই অনুপাত ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
- 📌 পাকিস্তানের উদাহরণ: পাকিস্তান ডিজিটাল লেনদেন বাড়িয়ে কর-জিডিপি অনুপাত ৮ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ করেছে। বাংলাদেশও এই পথ অনুসরণ করতে যাচ্ছে।
- 📌 বাংলা কিউআর কোড চালু: ১ নভেম্বর থেকে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) অর্থ স্থানান্তর করতে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার করা যাবে। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান বা ছবি আপলোড করে লেনদেন করা সম্ভব হবে।
- 📌 ডিজিটাল লেনদেনের ব্যয় কমবে: ২০২৩ সালে নগদ লেনদেনে অর্থনীতির বার্ষিক ব্যয় ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৩.২৪ শতাংশ)। বিপরীতে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যয় ছিল মাত্র ৫ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা (জিডিপির ০.১১ শতাংশ)।
- 📌 ব্যবসায়ীদের সুবিধা: ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ ফি শূন্য করা হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের কাছে লেনদেনের অর্থ নিষ্কাশনের ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘ব্যাপক ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে করের আওতা বাড়ানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বৃহত্তর আকারে আনতে হবে।’ তিনি উল্লেখ করেছেন, পাকিস্তান ডিজিটাল লেনদেন বাড়িয়ে কর-জিডিপি অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। বাংলাদেশেও এই পথ অনুসরণ করে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
১ নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) অর্থ স্থানান্তর চালু হবে। এই ব্যবস্থায় মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান করে বা কোডের ছবি আপলোড করে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক বা এমএফএস হিসাবের মধ্যে টাকা পাঠানো যাবে। ব্যাংক, এমএফএস প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য পেমেন্ট সেবাদাতাদেরকে এই সুবিধা চালুর জন্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল লেনদেনের ব্যয় কমাতে ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি শূন্য করা হয়েছে। এছাড়াও ব্যবসায়ীদের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে লেনদেনের অর্থ নিষ্কাশনের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্টে উৎসাহিত করা।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর গবেষণায় বলা হয়েছে, সরকারি কার্যক্রমের ডিজিটালাইজেশন উন্নত দেশগুলোর পর্যায়ে নিতে পারলে মূসক, ব্যক্তিগত আয়কর ও করপোরেট আয়কর আদায়ের দক্ষতা বাড়িয়ে জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশের সমপরিমাণ অতিরিক্ত রাজস্ব পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি একটি মডেলভিত্তিক প্রাক্কলন।
"ব্যাপক ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে করের আওতা বাড়ানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আরও বড় অংশকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (সারাদেশ)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: মো. সিরাজুল ইসলাম (বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ শতাংশ পয়েন্ট (কর-জিডিপি বৃদ্ধি), ৬.৭৮ শতাংশ (বর্তমান কর-জিডিপি), ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা (নগদ লেনদেনের বার্ষিক ব্যয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!