📌 বস্টন ফেডারেল আদালত রুয়ান্ডার আমেরিকান নাগরিক এরিক নশিমিয়েকে ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা জেনোসাইডে তার জড়িত থাকার কথা লুকিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে এবং বিচারবহির্ভূত বিচারের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে। তিনি মিথ্যা সাক্ষ্য ও নাগরিকত্ব পেতে মিথ্যা তথ্য দানের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন।
বস্টন, ম্যাসাচুসেটস: একটি ফেডারেল জুরি রুয়ান্ডার আমেরিকান নাগরিক এরিক নশিমিয়েকে ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা জেনোসাইডে তার জড়িত থাকার কথা লুকিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে এবং বিচারবহির্ভূত বিচারের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে। ৫৫ বছর বয়সী নশিমিয়ে, যিনি চার সন্তানের বাবা এবং মার্কিন নাগরিক, ২০১৯ সালে তার প্রাক্তন মেডিকেল স্কুলের সহপাঠী জঁ লিওনার্ড টেগান্যার বিচারে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি দাবি করেছিলেন যে তিনি বা তার বন্ধু রুয়ান্ডার বুতারে টুতসি সম্প্রদায়ের হত্যা ও ধর্ষণে কোনো ভূমিকা পালন করেননি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 এরিক নশিমিয়েকে ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা জেনোসাইডে তার জড়িত থাকার কথা লুকিয়ে ৪টি মিথ্যা সাক্ষ্য ও ১টি বিচারবহির্ভূত বিচারের অপরাধ দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
- 📌 ২০১৯ সালে টেগান্যার বিচারে তিনি দাবি করেছিলেন যে তিনি বা তার বন্ধু কোনো হত্যা বা নির্যাতনে জড়িত ছিলেন না, কিন্তু রুয়ান্ডার সাক্ষীরা বলেছেন তিনি ক্লাব দিয়ে লোকদের হত্যা সহ জেনোসাইডে অংশ নিয়েছিলেন।
- 📌 ২০০৯ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে তিনি অভিবাসন কর্মকর্তাদেরকে বলেছিলেন যে তিনি জেনোসাইডে কোনো ভূমিকা পালন করেননি, যা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
- 📌 ২০২৪ সালে মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের তদন্তকারীরা তার বাড়িতে তাকে গ্রেফতার করে, কারণ তিনি তাদের সাথে সাক্ষাৎকারে জেনোসাইডের সময় তার ভূমিকা লুকিয়ে রেখেছিলেন।
- 📌 ২.৫ বছর কারাবাস করার পর তার প্রতিরক্ষা দল আদালতে দাবি করেছে যে তিনি মুক্তি পেতে পারেন, কারণ এই সময় তার কারাদণ্ডের চেয়ে বেশি।
- 📌 জেনোসাইডে নিহত হয়েছিলেন ৮০০,০০০-এরও বেশি লোক, যার মধ্যে অধিকাংশ ছিল টুতসি সম্প্রদায়ের লোক।
📰 বিস্তারিত
আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের তদন্তকারীরা ২০২৪ সালে ওহাইওতে নশিমিয়েকে তার বাড়িতে গ্রেফতার করে। তদন্তকারীরা দাবি করেছিলেন যে তিনি ২০১৯ সালের বিচারে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন এবং অভিবাসন কর্মকর্তাদেরকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। নশিমিয়ে ২০০৯ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। তবে অভিযোগের মধ্যে অভিবাসন সম্পর্কিত দোষের দায় দাবি করা হয়নি।
বিচার চলাকালীন, সরকারের পক্ষ থেকে এক সিরিজ বিশেষজ্ঞকে জুরির সামনে উপস্থাপন করা হয়। তারা রুয়ান্ডার জেনোসাইডের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। রুয়ান্ডার সাক্ষীরা বলেছেন যে নশিমিয়ে ১৯৯৪ সালে বুতারে টুতসি সম্প্রদায়ের লোকদের হত্যা ও নির্যাতনে অংশ নিয়েছিলেন। তারা বলেন, তিনি হুতু জাতীয় বিপ্লবী আন্দোলন এবং ইন্টারাহামওয়ে নামক জেনোসাইডে জড়িত সামরিক গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন।
প্রতিরক্ষা দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে নশিমিয়ে কখনো রুয়ান্ডার অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক বিচারকক্ষের সামনে উপস্থিত হননি। তারা বলেন, রুয়ান্ডার একটি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা গাচাচাতে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না, যেখানে এক মিলিয়নেরও বেশি লোক জেনোসাইডের অপরাধে বিচার করা হয়েছিল। প্রতিরক্ষা দল আরও দাবি করেছে যে সরকারের সাক্ষীদের সাক্ষ্য অসঙ্গতিপূর্ণ ছিল এবং নশিমিয়ে কিগালি ও রুয়ান্ডার অন্যান্য অংশে থাকার প্রমাণ দিয়েছেন।
বিচারের পর, নশিমিয়ে পরিবার, যার মধ্যে তার মার্কিন জন্মের সন্তানও ছিলেন, বিচারের সময় উপস্থিত ছিলেন। তার ছেলে ট্রেসর নশিমিয়ে আল জাজীরার সাথে কথা বলতে গিয়ে বলেন, “এটি খুবই শকিং ছিল। প্রথমে এটি প্রক্রিয়া করা কঠিন ছিল, কারণ আমরা ভাবতাম যে আমরা তাকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে পারব। আমরা ভিন্ন ফলাফল আশা করতাম।”
“এই অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায় তিন দশক ধরে ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা জেনোসাইডে তার জড়িত থাকা এবং তিনি যে নৃশংস অপরাধ করেছেন, যেমন লোকদের ক্লাব দিয়ে হত্যা করা, তা লুকিয়ে রেখেছিলেন। তারপর তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে অভিবাসন কর্মকর্তাদের মিথ্যা বলেছিলেন এবং একটি ফেডারেল জুরির সামনে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন নিজেকে এবং রুয়ান্ডা জেনোসাইডের আরেকজন অপরাধীকে রক্ষা করার জন্য।”
— এসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল টাইসেন ডুভা, মার্কিন বিচার বিভাগের অপরাধ বিভাগ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বস্টন, ম্যাসাচুসেটস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: এরিক নশিমিয়ে (৫৫), ট্রেসর নশিমিয়ে (সন্তান), এসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল টাইসেন ডুভা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০০,০০০+ (জেনোসাইডে নিহত), ৪ (মিথ্যা সাক্ষ্য), ১ (বিচারবহির্ভূত বিচারের অপরাধ), ২.৫ (বছর কারাবাস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!