📌 ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনে সরকারি ঋণের অতিরিক্ত চাপের কারণে মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে উঠে এসেছে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা সরকারি ঋণ, রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যাংক খাতের সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন
বাংলাদেশের মুদ্রানীতির কার্যকারিতা সরকারি ঋণের অতিরিক্ত চাপে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে আজ (২৮ অক্টোবর) ঢাকার মিরপুরে অনুষ্ঠিত ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনে উঠে এসেছে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা সরকারি ঋণ, রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যাংক খাতের সংস্কারের দাবি জানিয়ে বলেছেন, মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য মুদ্রানীতি, রাজস্ব নীতি ও বাণিজ্য নীতিকে পরস্পরের সহায়ক করে পরিচালনা করতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৬০% অভ্যন্তরীণ ঋণ** নেওয়ার কারণে মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার।
- 📌 **৪০% টাকার অবমূল্যায়ন** মোকাবিলায় শুল্ক হ্রাস বা ‘কমপেনসেটেড ডেপ্রিসিয়েশন’ গ্রহণের সুপারিশ করেছেন তিনি।
- 📌 **ব্যাংক খাতের সংস্কার** করতে হবে রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ করে, সৎ উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন নিশ্চিত করে — বলেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
- 📌 **বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার** উন্নীত হওয়ায় ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা তৈরি হয়েছে — জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহমেদ।
- 📌 **অনাদায়ি ঋণের হার ৩৬%** ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর আশা করা হচ্ছে।
- 📌 **বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ প্রায় শূন্য** কোঠায় নেমে আসায় অর্থনৈতিক সংকোচনের ইঙ্গিত দেয় — বলেছেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সভাপতি মাসরুর আরেফিন।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) আয়োজনে গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) মিরপুরে অনুষ্ঠিত ‘১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং কনফারেন্স ২০২৬’-এ মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণ হিসেবে সরকারি ঋণের অতিরিক্ত চাপকে প্রধান দায়ী করা হয়েছে। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলেছেন, মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য মুদ্রানীতি, রাজস্ব নীতি ও বাণিজ্য নীতিকে পরস্পরের সহায়ক করে পরিচালনা করতে হবে।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার বলেছেন, সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ ঋণ নেওয়ায় মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা অর্জনে মুদ্রানীতি, রাজস্ব নীতি ও বাণিজ্য নীতির পৃথক ভূমিকা থাকতে হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি, প্রবৃদ্ধিতে সহায়তায় রাজস্ব নীতি এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে নমনীয় বিনিময় হার নীতি অনুসরণ করা উচিত। তিনি ২০২২ সালের মে মাস থেকে টাকার অবমূল্যায়নের প্রভাব মোকাবিলায় শুল্ক হ্রাস বা ‘কমপেনসেটেড ডেপ্রিসিয়েশন’ গ্রহণের সুপারিশ করেছেন।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, ১৯৮০-এর দশকে কার্যকর নিয়ন্ত্রণকাঠামো তৈরি না করেই বেসরকারি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং কিছু ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ২০১০ সালের পর ব্যাংক খাতে ঋণখেলাপির সংস্কৃতি থেকে আরও ভয়াবহ ‘লুটপাটের সংস্কৃতি’ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেছেন, শুধু কঠোর আইন দিয়ে ব্যাংক খাতের সংস্কার সম্ভব নয়। ব্যাংকার ও শিল্পোদ্যোক্তাদের ন্যূনতম নৈতিকতা ও মূল্যবোধ থাকতে হবে। আর্থিক খাতকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সুবিধা বিতরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহমেদ বলেছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ায় ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের ওপর আস্থা ফেরাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ১৫টি ব্যাংকের সম্পদের মান পর্যালোচনা (একিউআর) করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অনাদায়ি ঋণের হার ৩৬ শতাংশ ছিল, চলতি বছরের শেষ নাগাদ তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর আশা করা হচ্ছে। এ জন্য বিশেষ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট আইন ও মানি অ্যাক্ট প্রণয়নের কাজ চলছে।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেছেন, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি ও কারখানা সম্প্রসারণে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। পিএমআই ৪৮-এ নেমে আসা অর্থনৈতিক সংকোচনের ইঙ্গিত দেয়। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ৯ দশমিক ৫ শতাংশ নীতি সুদহারের প্রভাবও অর্থনীতিতে সংকোচনমূলক নীতির প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেছেন, এই পরিস্থিতিতে বাজারে গতি ফেরাতে সরকারি মেগা প্রকল্পগুলো চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।
"মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য মুদ্রানীতি, রাজস্ব নীতি ও বাণিজ্য নীতিকে পরস্পরের সহায়ক করে পরিচালনা করতে হবে। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা অর্জনে নীতিগুলোর মধ্যে অধীনতামূলক সম্পর্কের পরিবর্তে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।" — **ড. জায়েদী সাত্তার**, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, মিরপুরে (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. জায়েদী সাত্তার, ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, কবির আহমেদ, মাসরুর আরেফিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১তম বার্ষিক সম্মেলন, ৬০%, ৪০%, ৩৬ বিলিয়ন ডলার, ১৫টি ব্যাংক, ৩৬%, ৪৮, ৯.৫%
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!