📌 ফেসবুক থেকে মাসে লাখ টাকা আয় করার স্বপ্নে ই-টিন খুলে নেওয়ার পর বিলিয়নিয়ার হওয়ার স্বপ্ন ভাঙ্গে। এনবিআর থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা পাওয়ার পর লেখক বুঝতে পারেন যে, জালসাজির শিকার হয়ে পড়ার আগেই ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করতে হতো
ফেসবুক থেকে মাসে লাখ টাকা আয় করার স্বপ্নে ই-টিন খুলে নেওয়ার পর বিলিয়নিয়ার হওয়ার স্বপ্ন ভাঙ্গে। এনবিআর থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা পাওয়ার পর লেখক বুঝতে পারেন যে, জালসাজির শিকার হয়ে পড়ার আগেই ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করতে হতো।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইউটিউবের ভিডিও দেখে ফেসবুক থেকে মাসে লাখ টাকা আয় করার স্বপ্নে ই-টিন খুলে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কোনো ফলাফল আসেনি
- 📌 ই-টিনের জরিমানা ১০ হাজার টাকা পাওয়ার পর লেখক বুঝতে পারেন যে, ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল না করায় এনবিআর তাদের জরিমানা করেছে
- 📌 মার্ক জাকারবার্গের মতো বিলিয়নিয়ার হওয়ার স্বপ্ন ভাঙ্গে এবং বাবার কাছেই টাকা পেতে হয়
- 📌 ই-টিনের জালসাজিতে পড়লে শুধু হাত কাটে না, পকেটও কাটে
📰 বিস্তারিত
আজ থেকে বছর দুয়েক আগের কথা। ইউটিউবে ‘ফেসবুক থেকে মাসে লাখ টাকা আয়’ টাইপের ভিডিওর খুব রমরমা অবস্থা ছিল। থাম্বনেইলে এমন সব এডিটিং ছিল যেন ল্যাপটপ খুলে বসলেই স্ক্রিন থেকে ডলারের বান্ডিল বের হয়ে সোজা পকেটে ঢুকে যাবে। এসব মোটিভেশনাল ভিডিও দেখে লেখকের ভেতরেও বিলিয়নিয়ার হওয়ার সুপ্ত বাসনা জেগে উঠল। ভাবলেন, মার্ক জাকারবার্গ যখন দুই হাত ভরে টাকা বিলোচ্ছেন, তখন তিনি কেন গরিব হয়ে বসে থাকবেন!
ইউটিউবের ওই ভিডিওতে শুনেছিলেন, ডলার হাতে পেতে নাকি একটা ‘ই-টিন’ সার্টিফিকেট লাগে। ই-টিন জিনিসটা আসলে কী, এটা দিয়ে কী করে, সে বিষয়ে লেখকের বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। লেখকের একটাই লক্ষ্য ছিল—ডলার! মনে হয়েছিল, এই সার্টিফিকেটটা হচ্ছে আলাদিনের জাদুর চেরাগ। কোনোমতে বানিয়ে ফেসবুকে আপলোড করে দিলেই, জাকারবার্গ সাহেব খুশিতে গদগদ হয়ে সরাসরি লেখকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ডলারের বস্তা পাঠিয়ে দেবেন। কিন্তু বাস্তবে ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল।
চরম উৎসাহ নিয়ে, এদিক-ওদিক ক্লিক করে কোনোমতে অনলাইনে একটা ই-টিন খুলে ফেললেন। পিডিএফটা ডাউনলোড করার সময় লেখকের ভেতরে এমন একটা ফিল ছিল, যেন সুইস ব্যাংকের লকার আনলক করে ফেলেছেন। কিন্তু দুই বছর কেটে গেল, ফেসবুক থেকে এক ডলার তো দূরের কথা, এক সেন্টও লেখকের অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি। যে পেজ খুলেছিলেন, সেটার রিচ দেখে মনে হয়েছিল পেজটা নিজেই আইসিইউতে চলে গেছে। বিলিয়নিয়ার হওয়ার স্বপ্ন কবেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। মাস শেষে নিজের হাতখরচের জন্য লেখক বাবার কাছেই হাত পাততে হয়।
ই-টিনের কথা লেখক পুরোপুরি ভুলেই গিয়েছিলেন। কিন্তু আসল বিপত্তিটা ঘটল কয়েক দিন আগে। ফেসবুকে স্ক্রল করতে গিয়ে হঠাৎ একটা পোস্টে চোখ আটকে গেল। সেখানে লেখা ছিল, যাঁরা ই-টিন করার পর ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করেননি, তাঁদের নাকি জরিমানা করেছে এনবিআর! পোস্টটা পড়ার পর লেখকের আক্ষরিক অর্থেই মিনি হার্ট অ্যাটাক করার দশা হয়েছিল। কৌতূহল আর ভয় নিয়ে অনলাইনে চেক করে দেখলেন, লেখকের নামে একদম নগদ ১০ হাজার টাকা জরিমানা এসে বসে আছে!
"এই কোন বিপদে পড়লাম! আমি ইনকাম ট্যাক্স দেওয়া তো দূরের কথা, আমার আর্থিক অবস্থা এমন যে সরকার চাইলে আমাকেই উল্টো কিছু বেকার ভাতা দিতে পারে। ফেসবুকে ডলার কামানোর আশায় ই-টিন খুলেছিলাম, আর এখন শুনছি জাকারবার্গের ডলার তো আসেইনি, উল্টো দেশি টাকায় আমাকেই সরকারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে!"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অনলাইন (ই-টিন ও ফেসবুক)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লেখক (ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!