📌 রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ইউরোপীয় নেতাদের সমালোচনা করে বলেছেন, তারা নিজেদের জনগণের কল্যাণকে বাজি রেখে ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সামাজিক কল্যাণ খাতে কাটবাড়ি ও বাজেট সংকোচনের পিছনে এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ইউরোপীয় নেতাদের ‘রাজনৈতিক মর্ষকামী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে পরাজিত করার লক্ষ্যে ইউরোপীয় নেতারা নিজেদের জনগণের জীবনযাত্রার মান কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মস্কোয় গতকাল মঙ্গলবার আফ্রিকার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রধান সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে লাভরভ এই অভিযোগ উত্থাপন করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ইউরোপীয় নেতাদের ‘রাজনৈতিক আত্মনিপীড়ক’ বলেছেন, যারা নিজেদের জনগণকে জীবনযাত্রার মান কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার জন্য।
- 📌 জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ ম্যার্ৎজকে লাভরভ বিশেষভাবে উল্লেখ করে বলেছেন, ‘তারা জনমতকে এমন অবস্থানে ধরে রাখার চেষ্টা করছে, যেখানে মানুষকে বেতন, চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সুযোগ-সুবিধা বিসর্জন দিতে হবে।’
- 📌 জার্মানি ২০২৭ সালে ইউক্রেনের জন্য ১১৬০ কোটি ইউরো বরাদ্দ দেবার পরিকল্পনা করছে, কিন্তু সামাজিক কল্যাণ খাতে ৩০ শতাংশ ভাতা কমানোর পাশাপাশি পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বরাদ্দ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
- 📌 যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সেও সামাজিক কল্যাণ খাতে কাটবাড়ি ও বাজেট সংকোচনের ফলে জনসেবার মান অবনতির প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে।
- 📌 রাশিয়া ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, পশ্চিমা নেতারা ‘রাশিয়াবিরোধী প্রচারণা’ চালিয়ে ইউক্রেনকে সমর্থন করার জন্য সামরিক ব্যয় বাড়াচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
লাভরভের অভিযোগ, ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে পরাজিত করার লক্ষ্যে নিজেদের জনগণের কল্যাণ বিসর্জন দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘তারা জনমতকে এমন অবস্থানে ধরে রাখার চেষ্টা করছে, যেখানে মানুষকে সবকিছু বিসর্জন দিতে হবে—বেতন, চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সুযোগ-সুবিধা—যাতে ইউক্রেন রাশিয়াকে পরাজিত করতে পারে।’
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ ম্যার্ৎজকে লাভরভ বিশেষভাবে উল্লেখ করে বলেন, ‘এরা আত্মনিপীড়ক, চাইলে এদের রাজনৈতিক আত্মনিপীড়কও বলতে পারেন।’ ম্যার্ৎজ জার্মানির সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং কিয়েভকে অব্যাহতভাবে সহায়তা দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, জার্মানির পক্ষে বর্তমান কল্যাণব্যবস্থা বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। জার্মান সরকার সামাজিক কল্যাণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ কঠোর করেছে। নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ভাতা ৩০ শতাংশ কমানোর বিধান চালু করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ভাতা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
২০২৭ সালের বাজেটে জার্মানি পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সামাজিক কর্মসূচি থেকে কয়েক শ কোটি ইউরো সাশ্রয়ের পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের জন্য ১১৬০ কোটি ইউরো বরাদ্দ রেখেছে। পাশাপাশি দেশটি প্রতিরক্ষা ব্যয় রেকর্ড পর্যায়ে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সেও সামাজিক কল্যাণ খাতে কাটবাড়ি ও বাজেট সংকোচনের ফলে জনসেবার মান অবনতির প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে।
“তারা জনমতকে এমন অবস্থানে ধরে রাখার চেষ্টা করছে, যেখানে মানুষকে সবকিছু বিসর্জন দিতে হবে—বেতন, চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সুযোগ-সুবিধা—যাতে ইউক্রেন রাশিয়াকে পরাজিত করতে পারে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মস্কো (রাশিয়া), জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সের্গেই লাভরভ (রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী), ফ্রেডরিখ ম্যার্ৎজ (জার্মানির চ্যান্সেলর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ শতাংশ (ভাতা কমানো), ১১৬০ কোটি ইউরো (ইউক্রেনের বরাদ্দ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!