📌 ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা ও উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য জুন শেষে চার লাখ আট হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এক মাসে বৃদ্ধি ৭১ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকাররা শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করছেন
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য প্রথমবারের মতো চার লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাস শেষে ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে চার লাখ আট হাজার কোটি টাকা। আগের মাস মে-তে এই পরিমাণ ছিল তিন লাখ সাঁইত্রিশ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক মাসের ব্যবধানে উদ্বৃত্ত তারল্য বৃদ্ধি পেয়েছে সাতষট্টি হাজার কোটি টাকা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য জুন শেষে চার লাখ আট হাজার কোটি টাকা — এক মাসে বৃদ্ধি সাতষট্টি হাজার কোটি টাকা
- 📌 গত বছরের জুনে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল দুই লাখ তিরাশি হাজার ছয়শ চল্লিশ কোটি টাকা
- 📌 ব্যাংকারদের মতে, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন বিনিয়োগ কমছে
- 📌 উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে
- 📌 বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে চার দশমিক সাত শতাংশে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ব্যবসায়িক পরিবেশের অনিশ্চয়তা ও উচ্চ খেলাপি ঋণকে। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং অনিশ্চিত ব্যবসায়িক পরিবেশের কারণে নতুন বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির প্রবণতা ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে ঝুঁকি গ্রহণে বিরত রাখছে। ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে চার দশমিক সাত শতাংশে।
অন্যদিকে, মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থের একটি অংশ ব্যাংকে ফিরতে শুরু করেছে। তবে এই অর্থের বড় অংশ নির্ভরযোগ্য কয়েকটি ব্যাংকে জমা হচ্ছে। এসব ব্যাংক নতুন ঋণ প্রদানের পরিবর্তে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে অর্থ বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ব্যাংকারদের মতে, উদ্বৃত্ত তারল্যের পুরোটাই নগদ অর্থ হিসেবে সংরক্ষিত নয়। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে বর্তমানে তলবি ও মেয়াদি দায়ের বিপরীতে শতকরা তের শতাংশ এসএলআর এবং চার শতাংশ সিআরআর হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। উদ্বৃত্ত তারল্য হিসেবে বিবেচিত হয় এর অতিরিক্ত অর্থ। প্রয়োজন হলে বিল-বন্ডে বিনিয়োগ করা অর্থ দ্রুত নগদায়ন করা সম্ভব।
ব্যাংকারদের আশঙ্কা, বিনিয়োগের চাহিদা না বাড়লে শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তারা জানান, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ ও অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান না হলে উদ্যোক্তাদের ঋণ নেওয়ার আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত মে মাসে ছয় হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও এখন পর্যন্ত প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি। পাশাপাশি নীতি সুদহার পঞ্চাশ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে সাড়ে নয় শতাংশ করা হয়েছে। সম্প্রতি ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান সর্বোচ্চ চার শতাংশে সীমিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
"গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও অনিশ্চিত ব্যবসায়িক পরিবেশের কারণে নতুন বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কম। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোও ঋণ বিতরণে ঝুঁকি নিতে চাইছে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: উদ্যোক্তা, ব্যাংকার
- 🔢 উদ্বৃত্ত তারল্য: চার লাখ আট হাজার কোটি টাকা
- 🔢 এক মাসে বৃদ্ধি: সাতষট্টি হাজার কোটি টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!