📌 গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় রাজশাহীর হিমাগারমালিকদের লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আলুর পচন রোধে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে, যার ফলে প্রতি ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ বাড়ছে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণের কারণে পচনের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে
গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় রাজশাহী অঞ্চলের হিমাগারমালিকরা লোডশেডিংয়ের সমস্যায় পড়েছেন। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর আলুর পচন রোধে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে তাঁদের। ফলে প্রতি ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে। প্রতিদিন ১ থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত জেনারেটর চালাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজশাহীর ৩৯টি হিমাগারের মধ্যে ৩৭টি সচল থাকলেও লোডশেডিংয়ের কারণে আলুর পচনের ঝুঁকি বাড়ছে
- 📌 রাজশাহী জেলার হিমাগারগুলোতে মোট ৪ লাখ ৩৩ হাজার ২৫০ টন আলু সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে
- 📌 ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু সংরক্ষণের কারণে আলু পচে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের
- 📌 রাজশাহীর তানোর উপজেলার তালন্দ এলাকায় অবস্থিত তামান্না স্পেশাল কোল্ডস্টোরেজ থেকে প্রতিদিন পচা আলু ফেলে দেওয়া হচ্ছে
- 📌 রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি জানান, ওভারলোডিংয়ের কারণে আলু পচে যাচ্ছে
📰 বিস্তারিত
রাজশাহীর হিমাগারমালিকরা জানিয়েছেন, গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর আলুর পচন রোধে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে তাঁদের। ফলে প্রতি ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে। প্রতিদিন ১ থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত জেনারেটর চালাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী বলেন, ‘লোডশেডিংয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে মালিকদের অব্যবস্থাপনার কারণে আলু পচে যাচ্ছে। তাঁরা মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত আলু লোড নিয়েছেন।’ সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, ‘ওভারলোডিংয়ের কারণে আলু পচে যাচ্ছে। একটি হিমাগারে বছরে ২৫ থেকে ৩০ বার আলুর অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়। এ জন্য আলু বের করে বাতাস দেওয়াও প্রয়োজন। এতে খরচ হয়। অতিরিক্ত লোডের কারণে অনেক হিমাগার এবার এই কাজটি করছে না।’
ইফতেখারুল ইসলাম উদাহরণ দিয়ে বলেন, রাজশাহীর আলাইবিদিরপুরে রহমান ব্রাদার্স-১ কোল্ডস্টোরেজের ধারণক্ষমতা ১৪-১৫ হাজার টন হলেও সেখানে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রায় সব হিমাগারেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আলু নেওয়া হয়েছে।
তবে রাজশাহী কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, মৌসুমের শুরুতে চাপে পড়ে কিছু হিমাগার অতিরিক্ত আলু নিতে বাধ্য হয়েছিল। তাঁর দাবি, এ কারণে আলুরও কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে হিমাগারমালিকদের খরচ বেড়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলেও ১-২ ঘণ্টা পর্যন্ত হিমাগার ঠান্ডা থাকে। কিন্তু এর বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকলে জ্বালানি তেল পুড়িয়ে জেনারেটর চালাতে হয়। এক ঘণ্টা জেনারেটর চালালেই বাড়তি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিদিন ১-২ ঘণ্টা জেনারেটর চালাতে হচ্ছে।
‘এমনিতেই বিদ্যুৎ বিল বেশি। হিমাগারগুলোকে মাসে ২৫ থেকে ২৮ লাখ টাকা বিল দিতে হয়। এর সঙ্গে জেনারেটরের খরচ যোগ হলে আমাদের আরও সমস্যা হয়। এ জন্য আমরা চাই, হিমাগারগুলোতে যেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।’ — ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক, রাজশাহী কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী জেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফজলুর রহমান, ইফতেখারুল ইসলাম ডনি, আহাদ আলী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৯টি (হিমাগার), ৩৭টি (সচল হিমাগার), ৪ লাখ ৩৩ হাজার ২৫০ টন (ধারণক্ষমতা), ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা (প্রতি ঘণ্টায় খরচ), ১ থেকে ২ ঘণ্টা (জেনারেটর চালানোর সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!