📌 বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে পাট উৎপাদনকারী কৃষকদের অভিযোগ, ভারতের বাজারে পাটের দাম বেশি হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পাচার করছে। পাট অধিদপ্তর ও বিজিবি সতর্কতা জারি করেছে, তবে পাচারের ঘটনা কমে আসছে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম জেলায় পাট উৎপাদনকারী কৃষকদের অভিযোগ, ভারতের বাজারে পাটের দাম বেশি হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পাচার করছে। স্থানীয়রা দাবি, নদীপথে পাট পাচার হয়ে যাচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকায় মধ্যসত্ত্বভোগীরা হাটের চেয়ে বেশি দামে পাট কিনে ভারত নিয়ে যাচ্ছেন। পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মোঃ নূরুল বাসির জানিয়েছেন, অভিযোগটি কয়েক মাস আগেই পেয়েছেন এবং মন্ত্রণালয় থেকে বিজিবিকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুড়িগ্রামের চর রলাকাটার কৃষক গাটু শেখের মতো স্থানীয়রা দাবি, পাটের বাজারে সরবরাহ হঠাৎ কমে গেছে এবং পাচার হয়ে যাচ্ছে।
- 📌 যাত্রাপুর হাটে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী কৃষক ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, নদীপথে পাচার হয়ে যাচ্ছে পাট।
- 📌 পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মোঃ নূরুল বাসির বলেছেন, অভিযোগটি পেয়েছেন এবং বিজিবিকে চিঠি দিয়েছেন।
- 📌 পাট জুট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির বলেছেন, কাঁচাপাট রপ্তানি বন্ধ থাকায় পাচারের অভিযোগ উঠছে।
- 📌 গত মাসে বিজিবি আদিতমারীর সীমান্ত দিয়ে ৪৬০ কেজি পাট জব্দ করেছিল।
- 📌 ভারতের ন্যাশনাল জুট বোর্ডের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারত বছরে ৮০-৯০ লাখ বেল পাট উৎপাদন করতে পারে, কিন্তু চাহিদা বেশি হলে আমদানি করতে হয়।
📰 বিস্তারিত
বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, কুড়িগ্রামের চর রলাকাটার পাট চাষি গাটু শেখ, "এবার পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। আমরা ভালো টাকা আয় করবো। কিন্তু বাজারে পাটের সরবরাহ কমে গেছে।" তিনি জানান, স্থানীয় বাজারে বিক্রি করলে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়, কিন্তু ভারতের বাজারে পাটের দাম ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। এই কারণে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে মধ্যসত্ত্বভোগীরা বেশি দাম দিয়ে পাট কিনে ভারত নিয়ে যাচ্ছেন।
পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মোঃ নূরুল বাসির জানিয়েছেন, "আমরা মন্ত্রণালয় থেকে বিজিবিকে চিঠি দিয়েছি। তারা সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালন করছে।" তিনি আরও বলেছেন, "সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আমাদের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।"
পাট জুট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির বলেছেন, "উদ্বৃত্ত কাঁচা পাট রপ্তানির সুযোগ থাকলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো, পাশাপাশি পাচার অভিযোগ আসতো না।" তিনি জানান, কাঁচাপাট রপ্তানি বন্ধ থাকায় পাচারের অভিযোগ উঠছে।
কুড়িগ্রামের মুখ্য পাট পরিদর্শকের কার্যালয়ের মুখ্য পরিদর্শক এটিএম খায়রুল হক বলেছেন, "উত্তরবঙ্গের পাটের আঁশ শক্ত হওয়ায় এর বাজার ভালো। স্থানীয় বাজারে এখন ৪৪শ টাকা রেট পাচ্ছে কৃষক। কৃষকরা পাচার করে না। তাদের কাছ থেকে পাট নিয়ে কেউ পাচার করে কি-না সেটা আমাদের জানা নেই।"
"এখানে যাত্রাপুর বাজারে বিক্রি করলে এখন ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। কিন্তু ভারতের বাজারে সেটি ৫/৬ হাজার। এজন্যই কৃষকদের কাছ থেকে বাজারের চেয়ে বেশি দাম নিয়ে ফড়িয়ারা সেই পাট ভারতে নিয়ে যাচ্ছে,"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুড়িগ্রাম, বাংলাদেশ; ঢাকা, বাংলাদেশ; ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গাটু শেখ, সৈয়দ মোঃ নূরুল বাসির, খন্দকার আলমগীর কবির, এটিএম খায়রুল হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯০ লাখ বেল পাট, ৪ হাজার টাকা, ৫/৬ হাজার টাকা, ৪৪শ টাকা, ৪৬০ কেজি পাট, ৮০-৯০ লাখ বেল পাট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!