📌 ইরান সরকার অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন। রাজতন্ত্রপন্থী ও কুর্দি গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে সরকার ১১১টি সেলের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। অর্থনৈতিক সংকট ও সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে দেশে অস্থিরতা বাড়ছে
ইরান সরকার অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের পর থেকে দেশের অভ্যন্তরে রাজতন্ত্রপন্থী ও কুর্দি গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে সরকারের দমন অভিযান তীব্র হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সর্বশেষ ৮ সদস্যের একটি নেটওয়ার্ক গ্রেপ্তার করেছে, যাদেরকে ‘বিপ্লববিরোধী’ ও ‘রাজতন্ত্রপন্থী’ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৬টি প্রদেশে ১১১টি রাজতন্ত্রপন্থী সেলের সদস্য গ্রেপ্তার**: ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৮ মার্চ থেকে এই গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।
- 📌 **ফার্স প্রদেশে গ্রেপ্তারকৃতরা জানুয়ারির বিক্ষোভে মলোটভ ককটেল ব্যবহার**: আইআরজিসি দাবি, তারা বিক্ষোভে জ্বালানোর কাজে জড়িত ছিলেন।
- 📌 **রাজতন্ত্রপন্থী নেতা রেজা পাহলভি ইরানিদের বিক্ষোভে আহ্বান**: ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানের শেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলভি দেশজুড়ে বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
- 📌 **কুর্দি গোষ্ঠীকে সরকারের প্রধান হুমকি**: ইরানের পশ্চিম সীমান্তে কুর্দি যোদ্ধারা দেশের সবচেয়ে বড় অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র হুমকি হিসেবে চিহ্নিত।
- 📌 **জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠন দমন অভিযানের নিন্দা**: ইরানের বিক্ষোভ দমনে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নিষ্ঠুরতার নিন্দা করেছে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো।
📰 বিস্তারিত
ইরানের কর্তৃপক্ষ বারবার দেশের অভ্যন্তরে ছোট ছোট সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের গ্রেপ্তার ও তাদের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর প্রকাশ করছে। বিশেষ করে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের আগে ও চলাকালীন সময়ে এই ধরনের ঘটনা বেশি ঘটেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ যুদ্ধটিকে জাতীয় নিরাপত্তার লড়াই হিসেবে উপস্থাপন করে দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে থাকা বিভিন্ন পক্ষকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
সাম্প্রতিক ঘটনায়, ৮ সদস্যের একটি নেটওয়ার্কের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই নেটওয়ার্কটি ‘বিপ্লববিরোধী’ ও ‘রাজতন্ত্রপন্থী’ গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যুক্ত। ফার্স প্রদেশে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় মলোটভ ককটেল ব্যবহার ও টায়ার জ্বালানোর কাজে জড়িত ছিলেন। ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নেতারা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরও বিক্ষোভের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়ছে।
ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে রাজতন্ত্রের পতন ঘটে। ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিদেশে থাকা ছেলে রেজা পাহলভি দেশটির সরকারের অন্যতম প্রধান বিরোধী নেতা। তিনি ইরানিদের দেশজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ওই অস্থিরতার সময় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে বর্তমানে দেশটির অভ্যন্তরে বড় কোনো সংগঠিত রাজতন্ত্রপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় নেই।
ইরানের কর্তৃপক্ষ জানুয়ারির বিক্ষোভকে ‘অভ্যুত্থান’ চেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সশস্ত্র এজেন্টরা এই বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিল এবং তাদের মধ্যে রাজতন্ত্রপন্থীরাও ছিল। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের বিচার বিভাগ কয়েক ডজন বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে, যার মধ্যে জানুয়ারির বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজনও রয়েছেন।
"ইরানের বাইরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভগুলোতে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের জায়গায় রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবি বিশেষভাবে জোরালো ছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরান (ফার্স প্রদেশ, পশ্চিম সীমান্ত এলাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রেজা পাহলভি, শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি, ইরানের নেতারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬টি প্রদেশে ১১১টি সেলের সদস্য গ্রেপ্তার, ৮ সদস্যের নেটওয়ার্ক গ্রেপ্তার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!