📌 বাংলাদেশে গড় আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় ৪৭ শতাংশ পরিবার ঋণগ্রস্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী শীত থেকে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা এবং ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ খাদ্যসংকটে পড়তে পারে। খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির দাবি উঠেছে
বাংলাদেশে গড় আয়ের চেয়ে গড় ব্যয় বেশি হওয়ায় দেশের ৪৭ শতাংশ পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই অবস্থায় আগামী শীত থেকে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে এবং ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারে। খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করতে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন বক্তারা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪৭ শতাংশ পরিবার ঋণগ্রস্ত — গড় মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা, আর গড় ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা।
- 📌 ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ খাদ্যসংকটে পড়তে পারে — জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এর পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ।
- 📌 মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা — আগামী শীত থেকে আরও বাড়তে পারে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন দরকার।
- 📌 খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন দাবি — খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ ও ওয়েব ফাউন্ডেশন সভায় এই দাবি উঠেছে।
- 📌 সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সমন্বিত করা দরকার — বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকটে পড়া মানুষদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
📰 বিস্তারিত
জাতীয় প্রেস ক্লাবের মানিক মিয়া মিলনায়তনে আজ বৃহস্পতিবার ‘খাদ্যনিরাপত্তার সতর্কবার্তা, পুষ্টি ও দারিদ্র্য অবস্থা এবং খাদ্যব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা এই তথ্য তুলে ধরেন। খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ ও ওয়েব ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক বলেন, শহরের মানুষের আয় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হলেও গ্রামের মানুষের ক্ষেত্রে তা নয়। তিনি বলেন, “প্রতিটি এলাকার বাজারব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু সরকারের পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনতে হবে।”
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, সামনে মন্দা ও মূল্যস্ফীতির কারণে বড় সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “মানুষের আয় কমে যেতে পারে। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাদ্যসংকটের সঙ্গে আছে চুরি ও লুটপাট। সংকটের কারণে যাঁরা পিছিয়ে পড়বেন, তাঁদের সামাজিক সুরক্ষা দিতে হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের গবেষণা পরিচালক সায়মা হক বিদিশা বলেন, “দেশে মূল্যস্ফীতি ও মানুষের পুষ্টির ঘাটতি দিন দিন বাড়ছে। এ সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বরাদ্দ বাড়ানো এবং শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।”
সেভ দ্য চিলড্রেনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা তানিয়া শারমিন বলেন, “দেশে চার সদস্যের একটি পরিবারের পুষ্টিসম্পন্ন খাবারের সংস্থান করতে মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা প্রয়োজন। সে জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার আহ্বান জানাই।”
"খাদ্য অধিকার একটি মানবাধিকার, যা খাদ্য আইনে থাকা উচিত। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচিত সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা শুরু করা।"
মহসিন আলী, খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েব ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, জাতীয় প্রেস ক্লাবের মানিক মিয়া মিলনায়তন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এ কে এনামুল হক (বিআইডিএস), এম এম আকাশ, সায়মা হক বিদিশা, তানিয়া শারমিন, মহসিন আলী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৭%, ১ কোটি ৮১ লাখ, ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা, ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা, ৬০ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!