📌 মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলার পঞ্চসার, রামপাল ও বজ্রযোগিনী ইউনিয়নে শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন বেড়েছে। কৃষকদের হিসাব মতে, এই মৌসুমে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার চারা বিক্রির আশা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকদের চাহিদা মিটিয়ে এখান থেকে চারা রপ্তানি হচ্ছে
মুন্সিগঞ্জের বীজতলায় শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন বেড়েছে। সদর উপজেলার পঞ্চসার, রামপাল ও বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, টমেটো, বেগুন ও মরিচের চারা উৎপাদন করা হয়। এই মৌসুমে কৃষকদের হিসাব মতে, ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার চারা বিক্রির আশা রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলায় ১০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন হচ্ছে, যা দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হচ্ছে।
- 📌 পঞ্চসার ইউনিয়নের সিকদারবাড়ি এলাকার চাষি আতিক হাসান বলেছেন, প্রতি বীজতলা থেকে কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকায় এক দফার চারা বিক্রি হয়। প্রতি মৌসুমে তাঁর বীজতলা থেকে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকার চারা বিক্রি হয়।
- 📌 মুন্সিগঞ্জের চারার চাহিদা জেলার সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। সাভার, মানিকগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, রংপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলার কৃষকরা এসব চারা কিনে নেন।
- 📌 চারা উৎপাদনের কাজে জড়িত অন্তত ১০ কৃষক ও শ্রমিকের মতে, বংশপরম্পরায় এই ব্যবসা চলছে। তবে প্রতিবছর লাভের পরিমাণ একরকম থাকে না।
📰 বিস্তারিত
মুন্সিগঞ্জের বীজতলায় শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন বেড়েছে। সদর উপজেলার পঞ্চসার, রামপাল ও বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের সারি সারি বীজতলায় বেড়ে উঠছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, টমেটো, বেগুন ও মরিচের চারা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব চারা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকের কাছে। কৃষকদের হিসাব মতে, তিন থেকে চার মাসের এ মৌসুমে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার ওই তিন ইউনিয়নের প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে প্রতিবছর আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন করা হয়। উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, বেগুন, মরিচ ও টমেটোসহ বিভিন্ন সবজির চারা উৎপাদন করা হয় এসব এলাকায়।
মুন্সিগঞ্জের চারার চাহিদা এখন জেলার সীমানা ছাড়িয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর সাভার, মানিকগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, রংপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলার কৃষকেরা এসব চারা কিনে নেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পঞ্চসার ইউনিয়নের ভট্টাচার্যেরবাগ, কেপিবাগ ও সিকদারবাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বীজতলা বাঁশের চাটাই দিয়ে ঢাকা। এর নিচে সারি সারি বীজতলায় বেড়ে উঠছে টমেটো, বেগুন, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, লাউ, মিষ্টিকুমড়া ও মরিচের চারা।
সিকদারবাড়ি এলাকার চারা ব্যবসায়ী লিটন শিকদার বলেন, মুন্সিগঞ্জের বীজতলায় উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করা হয়। এক কেজি বীজের দাম এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। এসব বীজ থেকে উৎপাদিত চারা দিয়ে কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত ফলন পান। এ কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় মুন্সিগঞ্জের চারার চাহিদা আছে। তবে প্রতিবছর লাভের পরিমাণ একরকম থাকে না বলে জানান লিটন শিকদার। তিনি বলেন, প্রতি মৌসুমে ১০-২০ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়। কোনো বছর খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ হয়, আবার কোনো বছর লাভ কমে যায়। তারপরও বংশপরম্পরায় তাঁরা এ ব্যবসা ধরে রেখেছেন।
"২৫–৩০ দিনের মধ্যেই বিক্রি চারার উৎপাদন ও পরিচর্যায় বাড়তি যত্ন নিতে হয়। অঙ্কুরিত হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই চারা বিক্রি করতে হয়। অতিরিক্ত রোদ, বৃষ্টি কিংবা পানি জমে গেলে চারার ক্ষতি হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা (পঞ্চসার, রামপাল, বজ্রযোগিনী ইউনিয়ন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আতিক হাসান, লিটন শিকদার, কৃষকদের
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ কোটি টাকা (বিক্রির আশা), ১০ হেক্টর জমি, ৩০ হাজার টাকা (প্রতি বীজতলার এক দফার চারা), ৪০-৪৫ লাখ টাকা (আতিক হাসানের মৌসুমিক বিক্রি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!