📌 মিরপুরের শাহ আলী এলাকার রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা ম্যাট্রিক্স ড্রেসেস আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুল হাসান ফয়সাল জানিয়েছেন, ব্যবসায়িক মন্দা ও স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে কারখানাটি চালু রাখা সম্ভব হয়নি
রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী এলাকায় অবস্থিত রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা ম্যাট্রিক্স ড্রেসেস গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। কারখানাটিতে কর্মরত ছিলেন ১৭৭ জন শ্রমিক। কর্মচারীসহ মোট জনবল ছিল ১৯০ জন। প্রতিষ্ঠানটি গত বছর প্রায় ২০ কোটি টাকার তৈরি পোশাক ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করেছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ম্যাট্রিক্স ড্রেসেস কারখানাটি মিরপুরের শাহ আলী এলাকায় অবস্থিত ছিল
- 📌 কারখানাটিতে ১৭৭ জন শ্রমিক ও ১৯০ জন কর্মচারী ছিলেন
- 📌 প্রতিষ্ঠানটি গত বছর প্রায় ২০ কোটি টাকার পোশাক রপ্তানি করেছিল
- 📌 ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুল হাসান ফয়সাল জানান, ব্যবসায়িক মন্দা ও স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে কারখানাটি বন্ধ করতে হয়েছে
- 📌 প্রতিষ্ঠানটির মালিক জানান, ১৯ বছর ধরে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার পরও কারখানাটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি
📰 বিস্তারিত
ম্যাট্রিক্স ড্রেসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাহবুবুল হাসান ফয়সাল গত শুক্রবার বিকেএমইএর সদস্যদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি বার্তা পাঠান। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি নানান উপায়ে চেষ্টা করেছি, প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখার। কিন্তু সফল হতে পারলাম না। শুধু ব্যবসায়িক মন্দার জন্যই না, কিছু মানুষের স্বার্থান্বেষী চেষাতেও প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছি।’
মাহবুবুল হাসান ফয়সাল আরও জানান, কোনো ব্যাংকঋণ ছাড়াই ১৯ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ব্যবসায়িক প্রতিকূলতা ও স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে কারখানাটি বন্ধ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানটি বিক্রির চেষ্টা করছি, যাতে এটি কারও না কারও হাত ধরে বেঁচে থাকে।’
মাহবুবুল হাসান ফয়সালের মতে, ২০০৬ সালে তিনি পাঁচজন অংশীদার নিয়ে ম্যাট্রিক্স স্টাইল নামে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে অংশীদারদের সঙ্গে বিরোধের কারণে ব্যবসাটি আড়াই বছরের বেশি টিকতে পারেনি। এরপর তিনি নিজেই ম্যাট্রিক্স ড্রেসেস নামে নতুন কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে প্রতিষ্ঠানটি বারবার ক্ষতির মুখে পড়ে।
২০১১ সালে তিনি মিরপুরের রূপনগরে একটি কমার্শিয়াল শেড ভাড়া নিয়ে কারখানা স্থানান্তর করেন। ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স সংগ্রহ করে নিজের নামে রপ্তানি শুরু করেন। কয়েকটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান নিয়মিত ছোট ছোট ক্রয়াদেশ দিতে থাকে। ব্যবসাও বাড়তে থাকে। কিন্তু রানা প্লাজা ধসের পর সরকারি সংস্থা ও ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্স কড়াকড়ি আরোপ করে। ম্যাট্রিক্স ড্রেসেসের ভবনটি বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নির্মিত না হওয়ায় সেটিকেও ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই)।
এরপর ২০২২ সালের শেষ দিকে কারখানাটি মিরপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনের পেছনে একটি ভাড়া শেডে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে ২০২৩ সালে ৪১ লাখ ডলারের, অর্থাৎ ৪৪ কোটি ২৮ লাখ টাকার তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়। ফ্রান্স, পোল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, হল্যান্ড, জার্মানি, স্পেন ও ইতালির ১০ থেকে ১১টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাজ করত ম্যাট্রিক্স ড্রেসেস।
কিন্তু ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। তখন ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে সাড়ে ১২ হাজার টাকায় উন্নীত হয়। মাহবুবুল হাসান ফয়সাল জানান, এতে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু ক্রেতারা বাড়তি মূল্য দিতে রাজি হয়নি। উল্টো একটি পুরোনো ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ক্রয়াদেশ দেওয়া বন্ধ করে দেয়।
‘আমি যেন ফ্যাক্টরির একটা সুব্যবস্থা করে সমস্ত পাওনাদারের পাওনা পরিশোধ করে একটা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারি।’ — মাহবুবুল হাসান ফয়সাল, এমডি, ম্যাট্রিক্স ড্রেসেস
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মিরপুর, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাহবুবুল হাসান ফয়সাল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭৭ জন শ্রমিক, ১৯০ জন কর্মচারী, ২০ কোটি টাকা রপ্তানি, ১৯ বছর ব্যবসা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!