📌 জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মাদক সিন্ডিকেটের অস্তিত্বের পেছনে রাজনৈতিক প্রশ্রয় থাকার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা মাদক ব্যবসায় জড়িতদের সুরক্ষা দিচ্ছেন এবং পুলিশের সংস্কার বাধাগ্রস্ত হয়েছে
রাজবাড়ী: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি মাদক সিন্ডিকেটের অস্তিত্বের পেছনে রাজনৈতিক প্রশ্রয় থাকার তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মাদক ব্যবসায় জড়িত সিন্ডিকেটগুলো স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সুরক্ষা ছাড়া টিকে থাকতে পারে না। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজবাড়ী পৌরসভার পৌর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মাদক সিন্ডিকেটের অস্তিত্বের পেছনে রাজনৈতিক প্রশ্রয় থাকার অভিযোগ তুলেছেন নাহিদ ইসলাম; তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের সময় থেকে এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে, বর্তমানে বিএনপির নেতাকর্মীরা সিন্ডিকেটকে সুরক্ষা দিচ্ছেন।
- 📌 পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠিয়েছেন তিনি; মাদকসেবীদের গ্রেফতার হলেও সিন্ডিকেটের পেছনে থাকা রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন।
- 📌 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ এলাকায় মাদক চোরাচালান বন্ধ না হওয়ায় সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের জবাবদিহির দাবি করেছেন নাহিদ ইসলাম; তিনি বলেছেন, সংসদেও এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
- 📌 গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের হয়রানি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন; তিনি দাবি করেছেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হচ্ছে।
- 📌 ব্যাংকিং খাতের সংস্কার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নাহিদ ইসলাম; তিনি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন।
- 📌 ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে সুস্পষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার কথা বলেছেন; তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন দলীয়করণ হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মাদক নির্মূলের জন্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ খুচরা মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের গ্রেফতার করছে। কিন্তু মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং তাদের পেছনে থাকা রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা না হলে মাদক নির্মূল সম্ভব হবে না।’
কক্সবাজারে মাদক চোরাচালানের বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ এলাকায় মাদক চোরাচালান বন্ধ করা যাচ্ছে না। মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে না।’
নাহিদ ইসলাম পুলিশ সংস্কারের বিষয়ে বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুলিশ বাহিনী সংস্কারের কিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকারও পুলিশকে পুরনো কায়দায় ব্যবহার করছে। সরকারের সমালোচনা করায় এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে।’
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান বিএনপি সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। সাংবাদিকদের হয়রানি ও মারধরের শিকার হতে হচ্ছে। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশও বাস্তবায়ন করা হয়নি।’
ব্যাংকিং খাতের সংস্কার নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ব্যাংকিং খাতে এখনো কোনো সংস্কার হয়নি। আশানুরূপ সংস্কার না হওয়ায় ব্যাংকব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দিন দিন কমে যাচ্ছে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সরকারি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে কয়েকশ মানুষ হতাহত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন দলীয়করণ হয়েছে। ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে সুস্পষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হবে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।’
"মাদকের সিন্ডিকেট স্থানীয় পর্যায়ের হোক কিংবা জাতীয় পর্যায়ের, রাজনৈতিক প্রশ্রয় ছাড়া তা টিকে থাকতে পারে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজবাড়ী পৌরসভার পৌর মিলনায়তন, রাজবাড়ী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাহিদ ইসলাম (এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ অক্টোবর (সভার তারিখ), ৩০ জন (গ্রেপ্তার), ১১ দলীয় জোট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!