📌 সুনামগঞ্জের নারায়ণতলা গ্রামের ৭১ বছর বয়সী লস্কর আলী ৪৫ বছর ধরে ভেজালমুক্ত শর্ষের তেলের ব্যবসায়ে সচ্ছলতা অর্জন করেছেন। স্ত্রীর পরামর্শে শুরু করা এই ব্যবসায়ে তিনি নিজের পরিবারকে উন্নতির পথে নিয়ে গেছেন
সুনামগঞ্জের নারায়ণতলা গ্রামের এক সাধারন মানুষের সততার ব্যবসায়ে সচ্ছলতা ও সম্মান পৌঁছেছে। ৭১ বছর বয়সী মো. লস্কর আলী (৭১) ৪৫ বছর ধরে ভেজালমুক্ত শর্ষের তেলের ব্যবসায়ে অনবরত পরিশ্রম করছেন। তার এই সততার ব্যবসায়ে পরিবারকে উন্নতির পথে নিয়ে গেছেন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৭১ বছর বয়সী লস্কর আলী ৪৫ বছর ধরে ভেজালমুক্ত শর্ষের তেলের ব্যবসায়ে সচ্ছলতা অর্জন করেছেন
- 📌 স্ত্রীর পরামর্শে শুরু করা এই ব্যবসায়ে তিনি ঘোড়া-ঘানিতে শর্ষের তেল ভাঙানোর কাজে দিনরাত পরিশ্রম করেন
- 📌 বর্তমানে মাসে ৩ থেকে ৩.৫ লাখ টাকা আয় করে লস্কর আলী, যার থেকে তিনি পরিবারের সব খরচ মেটান
- 📌 ২৯ বছর ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার হিসেবে কাজ করার পর অবসর নেওয়া লস্কর আলী, এখন শুধু ঘানিতে তেলের ব্যবসায়েই মনোনিবেশ করছেন
- 📌 সুনামগঞ্জ সদর থেকে ১৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নারায়ণতলা গ্রামে বসবাসকারী লস্কর আলী, তার পরিবারও এই ব্যবসায়ের সাথে জড়িত
📰 বিস্তারিত
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণতলা গ্রামের লস্কর আলী (৭১) ১৯৮০ সালে বিয়ে করার পর সংসারে অভাবের মুখোমুখি হন। স্ত্রী ফুলজান বিবির পরামর্শে তিনি ঘানিতে শর্ষের তেল ভাঙানোর ব্যবসায় শুরু করেন। শুরুতে গ্রামের মানুষের সহায়তায় ঘানি ঘোরানো হতো, কিন্তু লস্কর আলী নিজেই এই কাজে দক্ষতা অর্জন করেন।
লস্কর আলীর বাবা-দাদা মূলত কৃষিকাজ করতেন। স্বাধীনতার পর নরসিংদী থেকে সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় এসে বসবাস শুরু করেন তারা। লস্কর আলী ১৪ বছর বয়সে বিয়ে করেন। বিয়ের বছরই সংসারে অভাব দেখা দেয়। স্ত্রীর পরামর্শে তিনি ঘানিতে শর্ষের তেল ভাঙানোর কাজ শুরু করেন। শুরুতে ঘানি ঘোরানো হতো গরু বা মানুষের সাহায্যে, কিন্তু পরে তিনি ঘোড়া দিয়ে ঘানি ঘোরানোর পদ্ধতি গ্রহণ করেন।
লস্কর আলী ও তার স্ত্রী ফুলজান বিবি মিলে শর্ষের আবাদ, কাটা-মাড়াই, শুকানো ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ করেন। বাজারে তেল বিক্রি করার পাশাপাশি, জেলা সদরে নিয়মিত ক্রেতাদের কাছে তেল সরবরাহ করেন। বর্তমানে তিনি মাসে ৩ থেকে ৩.৫ লাখ টাকা আয় করেন, যার থেকে পরিবারের সব খরচ মেটান।
"সন্ধ্যা হয়ে আসছে, আর বেশি সময় থাকব না। সন্ধ্যার আগেই আমরা কাজ শেষ করি।"
লস্কর আলী জানান, তিনি প্রতি দিন দুবার ঘানিতে তেল ভাঙান। সকাল ৭টা থেকে ১০টা এবং বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই কাজ চালিয়ে যান। প্রতি ১০ কেজি শর্ষে দিয়ে ৬ কেজি তেল হয়। তিনি নিজের জমিতে শর্ষের আবাদ করেন এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে শর্ষে কিনে আনেন। প্রতি কেজি শর্ষে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় কিনে তিনি সারা বছর ঘানিতে ভাঙান। প্রতি কেজি তেল বিক্রি করেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা।
লস্কর আলী ২৯ বছর ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার হিসেবে কাজ করেছেন। গত বছর অবসর নেওয়ার পর তিনি শুধু ঘানিতে তেলের ব্যবসায়েই মনোনিবেশ করছেন। তার ছেলে হেলাল মিয়া (৩২) এখন তার সঙ্গে এই কাজে সহায়তা করেন। লস্কর আলীর বাড়ি ৭৫ শতকের, চারপাশে বিভিন্ন ফলের গাছের আড়ালে লুকিয়ে আছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নারায়ণতলা গ্রাম, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. লস্কর আলী (৭১), হেলাল মিয়া (৩২)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫ বছর (ব্যবসায়ের দীর্ঘতা), ৭১ বছর (বয়স), ১৯ কিলোমিটার (গ্রাম থেকে জেলা সদর), ২৯ বছর (দফাদার হিসেবে কাজ), ৩২ বছর (ছেলের বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!