📌 ইসরায়েলি-মার্কিন হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ইরানের গোপন পরমাণু স্থাপনা 'তালেঘান–২' পুনর্নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইরান স্থাপনাটিকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে
ইরানের তেহরানের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত গোপন সামরিক স্থাপনা 'তালেঘান–২' ইসরায়েলি-মার্কিন হামলার পরও দ্রুতগতিতে পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। নতুন স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরান এই স্থাপনাটিকে অতীতের তুলনায় আরও শক্তিশালী ও প্রতিরক্ষামূলক কাঠামোতে রূপান্তরিত করছে। এই স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে বিশ্বাস করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 তালেঘান–২ নামক ইরানের গোপন স্থাপনাটি দ্বিতীয়বারের মতো পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে, যা ইসরায়েলের ২০২৪ ও ২০২৬ সালের হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল।
- 📌 স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, স্থাপনাটির ধ্বংসাবশেষের ওপর ত্রিপল টাঙানো হয়েছে, যা নির্মাণকাজকে আড়াল করে রাখছে।
- 📌 ডেভিড অলব্রাইট-এর নেতৃত্বে ওয়াশিংটনভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি বিশ্লেষণ করেছে যে, স্থাপনাটিতে বুলডোজার, ক্রেন, কংক্রিট মেশিন এবং ডাম্প ট্রাকসহ বিভিন্ন নির্মাণ যন্ত্র কাজ করছে।
- 📌 ইরান স্থাপনাটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছে, যা ভবিষ্যতে বিমান হামলার বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করবে।
- 📌 ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এই পুনর্নির্মাণকে 'গভীরভাবে উদ্বেগজনক' বলে আখ্যা দিয়েছে, কারণ স্থাপনাটি অতীতে পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণায় ব্যবহৃত হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
তালেঘান–২ স্থাপনাটি ইরানের গোপন 'আমাদ' কর্মসূচির অংশ ছিল। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা। তবে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার কথা অস্বীকার করে আসছে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর তোলা স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, শক্তিশালী ভূগর্ভস্থ স্থাপনাটির ধ্বংসাবশেষের ওপর ইরান বড় একটি ত্রিপল টাঙিয়েছে। এর ফলে স্যাটেলাইট ও আকাশপথের নজরদারি থেকে ত্রিপলের নিচে চলা নির্মাণকাজ আড়াল করা হচ্ছে। ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি জানিয়েছে, সেখানে বুলডোজার, ক্রেন, কংক্রিট মেশিন, ডাম্প ট্রাক এবং কংক্রিট পাম্পসহ বিভিন্ন নির্মাণযন্ত্র কাজ করছে।
২০২৪ সালের অক্টোবরে ইরানে ইসরায়েলের বিমান হামলায় প্রথমবার তালেঘান–২-এর ভবনটি ধ্বংস করা হয়েছিল। এরপর ২০২৫ সালের মে মাসে ইরান ভবনটি পুনর্নির্মাণ শুরু করে। এবার আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। ওই পুনর্নির্মাণের সময় স্যাটেলাইট ছবিতে ভবনের ভেতরে একটি বড় নলাকার কাঠামো স্থাপনের চিত্র দেখা যায়। ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষকদের ধারণা, এটি উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক ধরে রাখার জন্য তৈরি একটি বিশেষ পাত্র হতে পারে।
চলতি বছরের মার্চে ইসরায়েল আবারও তালেঘান–২-এ হামলা চালায়। হামলার পর তোলা উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, বাঙ্কার ধ্বংসকারী অস্ত্রের আঘাতে স্থাপনাটির ওপর তিনটি বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। গর্তগুলো ঠিক সেই অংশের ওপর ছিল, যেখানে সন্দেহভাজন বিস্ফোরক ধারণকারী পাত্রটি রাখা হয়েছিল। ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হামলার নির্ভুলতা দেখে ধারণা করা যায় যে অস্ত্রটি ওই পাত্রটি ধ্বংস করার পাশাপাশি ভবনের ভেতরের কাঠামোও উড়িয়ে দিয়েছে।
"যা স্পষ্ট, তা হলো ইরান এই স্থাপনাটি পুনর্নির্মাণের ব্যাপারে এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই উন্নয়নকে 'গভীরভাবে উদ্বেগজনক' বলে আখ্যা দিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তালেঘান–২, তেহরানের দক্ষিণ-পূর্বে পারচিন সামরিক কমপ্লেক্স, ইরান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডেভিড অলব্রাইট (ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি বিশ্লেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০২৪ (প্রথম ধ্বংস), ২০২৫ (পুনর্নির্মাণ শুরু), ১৩ (সেপ্টেম্বর ২০২৬, সর্বশেষ স্যাটেলাইট ছবি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!