📌 বাংলাদেশে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম দেশের মধ্যে প্রতি লিটার ৬ টাকা ৩২ পয়সা বেড়েছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য দাম কমেছে। বিইআরসি নতুন দর ঘোষণা করেছে, যা ১২টা থেকে কার্যকর হবে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে দামের এই পরিবর্তন ঘটেছে
বাংলাদেশে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দামে দেশের মধ্যে বড় পরিবর্তন ঘটেছে। দেশের ভেতরে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম চার মাস ধরে বাড়ছে। এবার নতুন দর ঘোষণা করা হয়েছে প্রতি লিটার ৬ টাকা ৩২ পয়সা বাড়িয়ে ১৮৯ টাকা ৩ পয়সা। তবে বিদেশের গন্তব্যে যেতে জেট ফুয়েলের দাম কমেছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আজ বৃহস্পতিবার নতুন দর ঘোষণা করেছে, যা আজ রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেশের মধ্যে ফ্লাইটের জেট ফুয়েল দাম প্রতি লিটার ১৮৯ টাকা ৩ পয়সা (পূর্বের ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা) — বাড়েছে ৬ টাকা ৩২ পয়সা
- 📌 বিদেশী ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার দাম ১.১৮৮২ ডলার থেকে কমিয়ে ১.১৬৩৭ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে
- 📌 মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্থির — ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পর থেকে দামের এই পরিবর্তন
- 📌 দেশের মধ্যে জেট ফুয়েল বিক্রির ক্ষেত্রে ভ্যাট বেড়েছে সাড়ে ২২ শতাংশে — এনবিআর সতর্কতার কারণে
- 📌 বিইআরসি প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ গণশুনানি করে দাম নির্ধারণ শুরু করেছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গত বছরের মে মাস থেকে প্রতি মাসে জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় করছে। গত মাসে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো হয়েছিল ১৭ টাকা ৬ পয়সা। তবে এইবার বাড়ানো হয়েছে ৬ টাকা ৩২ পয়সা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পূর্বে ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ছিল মাত্র ৯৫ টাকা ১২ পয়সা। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত মার্চে প্রতি লিটার দাম বেড়ে ১০৭ টাকা হয়েছে।
বিইআরসির সূত্রে জানা যায়, দেশের মধ্যে জেট ফুয়েল বিক্রির ক্ষেত্রে দুই দফায় ভ্যাট প্রযোজ্য। এ পর্যন্ত ১৭ শতাংশ ভ্যাট আদায় করা হতো, কিন্তু এনবিআর থেকে সতর্কতার পর এ মাসে সাড়ে ২২ শতাংশ ভ্যাট ধরে হিসাব করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দাম কমলেও দেশের মধ্যে ভ্যাটের কারণে দাম বেড়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আক্রমণে ইরানে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এরপর ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে হামলা শুরু করে, ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিস্তৃত হয়। দুই পক্ষের হামলায় জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্থির করে তোলে। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর দাম কমতে শুরু করে।
প্রাক্তন সরকারের সময় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করতো। কিন্তু নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ধারা বাতিল করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল, জেট এ-১-এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনের পর ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি গ্রহণ করে বিইআরসি। এর পর থেকে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।
"দেশের মধ্যে জেট ফুয়েল বিক্রির ক্ষেত্রে ভ্যাটের কারণে দাম বেড়েছে, যদিও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দাম কমেছে। এনবিআর থেকে সতর্কতার পর ভ্যাটের হার সংশোধন করা হয়েছে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ, মধ্যপ্রাচ্য (ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮৯ টাকা ৩ পয়সা (নতুন দাম), ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা (পুরাতন দাম), ৬ টাকা ৩২ পয়সা (বাড়ানো দাম), ১.১৬৩৭ ডলার (নতুন আন্তর্জাতিক দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!