📌 বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে জাপানি বিনিয়োগকারীরা তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন কাজুইকি কাতাওকা। শুল্কায়ন জটিলতা, মুনাফা প্রত্যাবাসন ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সুরক্ষার অভাবের কারণে ব্যবসার খরচ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি
বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে জাপানি বিনিয়োগকারীরা তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো)-এর প্রতিনিধি কাজুইকি কাতাওকা। তিনি বলেন, শুল্কায়ন প্রক্রিয়া, মুনাফা প্রত্যাবাসন ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সুরক্ষার অভাব বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া, মুনাফা প্রত্যাবাসন ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সুরক্ষা প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত
- 📌 আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী চালান মূল্যের ওপর ভিত্তি করে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ না হওয়ায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত শুল্ক আদায় করতে হয়
- 📌 মুনাফা দেশে ফেরত পাঠাতে বিডা, এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকে বারবার দৌড়াতে হয় জাপানি কোম্পানিগুলোকে
- 📌 সরকারি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও অস্পষ্টতার কারণে ব্যবসার সামগ্রিক খরচ প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বেশি
- 📌 সরকার নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণের উদ্যোগ নিলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কাজুইকি কাতাওকা
📰 বিস্তারিত
জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো)-এর প্রতিনিধি কাজুইকি কাতাওকা বলেন, তিনি বাংলাদেশে এসেছেন ২০২৫ সালের জুন মাসে। এরপর থেকে এখানকার ব্যবসা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন তিনি। মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রভাব ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, শুল্কায়ন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী চালান মূল্যের ওপর ভিত্তি করে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা হলেও বাংলাদেশে অনেক কোম্পানি আন্ডার-ইনভয়েসিং করে। ফলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চালান মূল্যকে বিশ্বাস করতে পারে না এবং অতিরিক্ত শুল্ক আদায় করে।
দ্বিতীয়ত, মুনাফা নিজ দেশে ফেরত পাঠানো অত্যন্ত কঠিন। মাঝেমধ্যে টাকা পাঠানোর জন্য বিডা, এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকে বারবার দৌড়াতে হয় জাপানি কোম্পানিগুলোকে। তৃতীয়ত, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সুরক্ষার অভাব রয়েছে। সরকার এই বিষয়ে তেমন আগ্রহী নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রচুর নকল পণ্যের কারণে অনেক জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে।
"বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে শ্রমের খরচ কম হলেও পরিষেবা মূল্য ও জমি অধিগ্রহণ খরচ অনেক বেশি। সরকারি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও অস্পষ্টতার কারণে ব্যবসার সামগ্রিক খরচ প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বেশি। সরকারকে অবশ্যই অহেতুক খরচ কমাতে হবে।"
কাজুইকি কাতাওকা বলেন, সরকার নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। বিডা, বেজা ও পিপিপি কার্যালয়কে একীভূত করার মাধ্যমে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তিনি মনে করেন, এই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে আরও অপেক্ষা করতে হবে। কারণ, সরকারি কর্মকর্তাদের মানসিকতা ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ইতিবাচক মনোভাব ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাজুইকি কাতাওকা (জেট্রো প্রতিনিধি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করছে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!