📌 আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত নারীদের মাত্র ৫% কর্মসংস্থান রয়েছে। একই শ্রমবাজারে পুরুষের তুলনায় নারীরা গড়ে ২২-২৫% কম মজুরি পায়। কর্মসংস্থান হারেও নারী-পুরুষের মধ্যে ৩৭.৭% ব্যবধান রয়েছে
বাংলাদেশের শ্রমবাজারে নারী-পুরুষের মজুরি ও কর্মসংস্থানের বৈষম্য নিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উজ্জ্বল তথ্য প্রকাশ পেয়েছে যে, উচ্চশিক্ষিত নারীদের মাত্র ৫ শতাংশই কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ করছে। একই ধরনের কাজে পুরুষের তুলনায় নারীরা গড়ে ২২ থেকে ২৫ শতাংশ কম মজুরি পায়। একজন পুরুষ মাসে ১ হাজার টাকা আয় করলে একই কাজে নারী মাসে গড়ে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা পায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত নারীদের মাত্র ৫ শতাংশ কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ করছে
- 📌 একই কাজে পুরুষের তুলনায় নারীরা গড়ে ২২-২৫ শতাংশ কম মজুরি পায়
- 📌 পুরুষের কর্মসংস্থান হার ৭৭.৯ শতাংশ, নারীর ৪০.২ শতাংশ — ৩৭.৭ শতাংশ ব্যবধান
- 📌 নারীদের ৮৭ শতাংশ মজুরিভিত্তিক কর্মী অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করে
- 📌 বাংলাদেশে ব্যবস্থাপনা পদে নারীর উপস্থিতি মাত্র ৬.২ শতাংশ (দক্ষিণ এশিয়া গড় ১০.৮, বৈশ্বিক ৩০)
- 📌 নারীরা সপ্তাহে গড়ে ২৭.৭ ঘণ্টা ঘরোয়া কাজ করে, পুরুষরা ৭.৭ ঘণ্টা
- 📌 আইএলও সুপারিশ: সমান মজুরি নীতি, লিঙ্গবৈষম্য মুক্ত ন্যূনতম মজুরি, কর্মক্ষেত্র নিরাপত্তা
📰 বিস্তারিত
আইএলওর গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের শ্রমবাজারে নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য একটি গভীর সমস্যা। ২০২৩ সালের শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত "দ্য জেন্ডার পে গ্যাপ ইন বাংলাদেশ" প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারীরা পুরুষের তুলনায় কম মজুরি পাওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও কম পায়। কর্মসংস্থান হারেও নারী-পুরুষের মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে — পুরুষের ৭৭.৯ শতাংশের বিপরীতে নারীর মাত্র ৪০.২ শতাংশই কর্মসংস্থানে যুক্ত।
উচ্চশিক্ষিত নারীদের অবস্থাও খুবই উদ্বেগজনক। দেশের উচ্চশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩৫ শতাংশ নারী, কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশই কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ করছে। এছাড়া, নারীদের মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থানের ৪১ শতাংশ উৎপাদন খাতে, যেখানে পুরুষদের এই হার মাত্র ২৩ শতাংশ। নারীদের মধ্যে ১৯ শতাংশ গৃহস্থালি কাজে এবং ১২ শতাংশ শিক্ষা খাতে কর্মরত।
আইএলওর প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নারীরা পুরুষের তুলনায় বেশি সময় ঘরোয়া কাজে ব্যয় করেন। সপ্তাহে গড়ে নারীরা ২৭.৭ ঘণ্টা ঘরোয়া কাজ করে, যেখানে পুরুষরা মাত্র ৭.৭ ঘণ্টা। কর্মক্ষেত্রে পুরুষেরা সপ্তাহে গড়ে ৫১.৯ ঘণ্টা কাজ করেন, নারীরা ৪৬ ঘণ্টা। এই অতিরিক্ত ঘরোয়া কাজের চাপের কারণে নারীদের পক্ষে উচ্চ মজুরির কাজ নেওয়া এবং ক্যারিয়ারে অগ্রসর হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধান ও শ্রম আইনে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও সমান মজুরির বিধান রয়েছে। তবে বাস্তবে এই বিধানগুলি কার্যকর হয়নি। ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে সব খাত সমানভাবে আসে না, এবং নারীদের বেশি অংশগ্রহণকারী খাতগুলোর কাজের মূল্যায়নে লিঙ্গভিত্তিক পক্ষপাত থাকতে পারে।
"বাংলাদেশে নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য কাঠামোগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক কারণগুলির সমন্বয়ে গঠিত। একই কাজের জন্য ভিন্ন মজুরি দেওয়া শুধু একটি কারণ নয় — মজুরি নির্ধারণের দুর্বলতা, নিম্ন মজুরির কাজে নারীদের বেশি অংশগ্রহণ, ঘরোয়া কাজের চাপ ও শ্রমবাজারের সামগ্রিক বৈষম্য সব মিলিয়ে এই সমস্যা তৈরি করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নারী ও পুরুষ শ্রমিক, আইএলও গবেষক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫%, ২২-২৫%, ৭৭.৯%, ৪০.২%, ৩৭.৭%, ৬.২%, ২৭.৭ ঘণ্টা, ৭.৭ ঘণ্টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!