📌 কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার কৃষকরা বাড়ির আঙিনা ও পরিত্যক্ত জায়গায় বস্তায় আদা চাষ করছেন। কম খরচে ও কম জায়গায় ২-৩ কেজি আদা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগের সহায়তায় এ পদ্ধতিতে চাষ ছড়িয়ে পড়েছে
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার কৃষকরা বাড়ির ছোটো আঙিনা, ফলবাগানের নিচে বা পরিত্যক্ত জায়গায় বস্তায় আদা চাষ করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন। অল্প খরচে ও কম জায়গায় ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় নতুন এই পদ্ধতিতে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহায়তায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বস্তা ও জিও ব্যাগে আদা চাষ ছড়িয়ে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বাড়ির আঙিনা ও পরিত্যক্ত জায়গায় বস্তায় আদা চাষ করছেন কৃষকরা।
- 📌 প্রতিটি বস্তায় মাত্র ৫০ গ্রাম বীজ রোপণ করে ২ থেকে ৩ কেজি আদা পাওয়া সম্ভব।
- 📌 উপজেলায় ২৩ জন কৃষককে ১ হাজার ১৫০টি জিও ব্যাগে আদা চাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- 📌 কৃষি বিভাগের সহায়তায় বিনা মূল্যে বীজ, সার ও বস্তা সরবরাহ করা হচ্ছে।
- 📌 ৯ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১০ হেক্টর জমিতে আদা আবাদ হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
মাধবপুর, মিরপুর, মহালক্ষীপাড়া, বেজুরা, শশীদল, আশাবাড়ি ও চান্দলাসহ ব্রাহ্মণপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা বাড়ির আঙিনা ও পরিত্যক্ত জায়গায় বস্তা বা জিও ব্যাগে আদা চাষ করছেন। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আলোছায়াঘেরা উঁচু জমি বা বাগানের নিচের অংশ আদা চাষের জন্য উপযোগী। এ পদ্ধতিতে বড় কোনো জমির প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আঙিনা বা অল্প জায়গায় বস্তা বসিয়েই চাষ করা যায়।
মাধবপুর গ্রামের কৃষাণী আয়শা আক্তার প্রথমবারের মতো বস্তায় আদা চাষ করেছেন। তিনি বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে ৫০টি বস্তায় আদা চাষ করছেন। তিনি আশা করছেন, ফলন ভালো হলে লাভবান হওয়ার সুযোগ পাবেন। লাভ হলে আগামী বছর আরও বেশি বস্তায় আদা চাষ করবেন।
মিরপুর গ্রামের কৃষাণী শরিফা বেগম বিভিন্ন মৌসুমি সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে নতুন করে আদা চাষ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, বস্তায় আদা চাষ করে ভালো লাভ করা সম্ভব বলে মনে করছেন। তাঁর আদার বাগান দেখে এলাকার অন্য কৃষকরা এ পদ্ধতিতে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
মহালক্ষীপাড়া গ্রামের কৃষক মো. কুদ্দুছ মিয়া বলেন, তাঁদের এলাকায় আগে আদা চাষের প্রচলন ছিল না। কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রদর্শনী হিসেবে ৫০টি বস্তায় আদা চাষ করেছেন। তিনি বলেন, প্রতি বস্তায় খরচ হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ফলন ভালো হলে এ চাষে লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করছেন।
"বস্তায় আদা চাষ তুলনামূলক সহজ এবং খরচও কম। কৃষকদের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে গিয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।"
উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোসা. তানিয়া আক্তার বলেন, কৃষকদের বীজ, সার ও বস্তা বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁদের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কৃষিবিদ মো. আব্দুল মতিন বলেন, ব্রাহ্মণপাড়ায় আগে আদা চাষের প্রচলন ছিল না। মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের বিনা মূল্যে বীজ, সার ও বস্তা দেওয়া হয়েছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা (মাধবপুর, মিরপুর, মহালক্ষীপাড়া, বেজুরা, শশীদল, আশাবাড়ি, চান্দলাসহ এলাকাসমূহ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আয়শা আক্তার, শরিফা বেগম, মো. কুদ্দুছ মিয়া, মোসা. তানিয়া আক্তার, মো. আব্দুল মতিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০টি বস্তা, ২-৩ কেজি আদা, ৪০-৫০ টাকা খরচ, ৯ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা, ১০ হেক্টর আবাদ, ২৩ জন কৃষক, ১ হাজার ১৫০টি জিও ব্যাগ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!