📌 যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডাকভোট নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা স্থগিত করে দিয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডাকভোটের সুযোগ সীমিত করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে জজ ইন্দিরা তালওয়ানির আদেশকে সুপ্রিম কোর্ট প্রত্যাখ্যান করেছে
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডাকভোট নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা স্থগিত করে দিয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্ট মার্কিন জেলা জজ ইন্দিরা তালওয়ানির দেওয়া একটি আদেশ স্থগিত করার অনুমতি দেননি। এই সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, যা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকভোটের সুযোগ সীমিত করার লক্ষ্যে ছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডাকভোট নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা স্থগিত করে দিয়েছে।
- 📌 জেলা জজ ইন্দিরা তালওয়ানির আদেশে মেইল ভোটের নতুন নিয়ম কার্যকর করা আটকে দেওয়া হয়েছিল।
- 📌 সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে প্রশাসনের ‘মূল বিষয়ে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- 📌 বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো ও ক্ল্যারেন্স থমাস সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।
- 📌 ট্রাম্পের নিয়োগকৃত বিচারপতি ব্রেট কাভানাও প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন।
- 📌 সমালোচকরা সতর্ক করেছেন, এই বিধিনিষেধ হাজার হাজার ডাকভোটের পৌঁছানোর পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
📰 বিস্তারিত
মার্চ মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প মেইল ভোটের নিয়ম আরও কঠোর করার লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। মার্কিন ডাক পরিষেবা (ইউএস পোস্টাল সার্ভিস) নতুন নিয়মটি গ্রহণ করে, যা অঙ্গরাজ্যগুলোকে ব্যালট পাঠানোর জন্য নির্ধারিত ভোটারদের তালিকা ডাক পরিষেবাকে দিতে বাধ্য করত। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ডাক পরিষেবা আগে অনুমোদিত ব্যালটের খাম ব্যবহার করতে হতো। যদি কোনো ব্যালট নতুন নিয়ম মেনে না চলে বা নিবন্ধিত ভোটারদের তালিকায় না থাকে, তাহলে ডাক পরিষেবা ওই ব্যালট প্রত্যাখ্যান করতে পারত।
জেলা জজ ইন্দিরা তালওয়ানি এই নিয়মের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। তিনি বলেন, নিয়মটি সম্ভবত মার্কিন সংবিধান লঙ্ঘন করছে। এছাড়াও, মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় নিয়মটি বাস্তবে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। এর কিছুদিন পর ট্রাম্প প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করে। প্রশাসন আদালতকে নিয়মটি কার্যকর করার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানায়, যা মেইল ভোটকে জালিয়াতির কাজে ব্যবহার থেকে রক্ষার জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল নীতি’ বলে দাবি করে।
সুপ্রিম কোর্ট আগস্টের শেষ দিকে সাময়িকভাবে ট্রাম্পকে তাঁর নির্বাহী আদেশ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল, কিন্তু তখন আদালত পরিকল্পনাটি আইনসম্মত কি না, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সুপ্রিম কোর্ট স্বাক্ষরবিহীন এক আদেশে বলেছে, এই চ্যালেঞ্জে প্রশাসনের ‘মূল বিষয়ে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম’। বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো ও ক্ল্যারেন্স থমাস সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। আলিটো তাঁর ভিন্নমত পোষণকারী মতামতে লেখেন, কিছু বাদীর এই মামলা করার আইনগত অধিকার বা ‘স্ট্যান্ডিং’ নেই। বাকি বাদীরা এমন একটি দাবি নিয়ে এগোচ্ছেন, যেটিকে আদালত সম্প্রতি ‘হেইল মেরি পাস’ বলে অভিহিত করেছে, অর্থাৎ শেষ মুহূর্তের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রচেষ্টা।
সমালোচকরা সতর্ক করেছেন, এই বিধিনিষেধ হাজার হাজার ব্যালটের ডাকযোগে পৌঁছানোর পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে, ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনকারী অঙ্গরাজ্যে ডাকভোটের ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন গোষ্ঠী ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আলাবামা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও উইসকনসিন ইতোমধ্যে ভোটারদের কাছে ব্যালট পাঠানো শুরু করেছে।
"এই চ্যালেঞ্জে প্রশাসনের ‘মূল বিষয়ে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম’"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট, মার্কিন জেলা আদালত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, জেলা জজ ইন্দিরা তালওয়ানি, বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো, ক্ল্যারেন্স থমাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২ (ন্যাটো দেশের সংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!