📌 দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলন বন্ধ হলেও এশিয়া এনার্জি নাম পরিবর্তন করে জিসিএম রিসোর্সেস হিসেবে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকলেও তারা কয়লা উত্তোলনের দাবি করছে।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে নিয়মিত কয়লা উত্তোলন বন্ধ হলেও এশিয়া এনার্জি নাম পরিবর্তন করে জিসিএম রিসোর্সেস হিসেবে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তাদের শেয়ারের দাম বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে তারা কয়লা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে নিয়মিত কয়লা উত্তোলন বন্ধ হয়েছে ২০০৬ সালে
- 📌 এশিয়া এনার্জি নাম পরিবর্তন করে জিসিএম রিসোর্সেস হিসেবে কার্যক্রম চালাচ্ছে
- 📌 লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তাদের শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে
- 📌 বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে জিসিএম রিসোর্সেসের কোনো সম্পর্ক নেই
- 📌 ফুলবাড়ী কয়লাখনি নিয়ে তিনটি সরকার তিনটি কমিটি গঠন করে বিপক্ষে মতামত দেয়
- 📌 ১৯৯৪ সালের ২০ আগস্ট বিএইচপির সঙ্গে কয়লা অনুসন্ধানের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়
- 📌 ১৯৯৭ সালে এশিয়া এনার্জির কাছে লাইসেন্স হস্তান্তর করে বিএইচপি
- 📌 ২০০৪ সালের ২৮ জানুয়ারি এশিয়া এনার্জি কয়লা উত্তোলনের অনুমোদন পায়
- 📌 অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয় ২০০৬ সালের ২৭ জানুয়ারি
- 📌 ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ীতে তিন ব্যক্তি নিহত হন
📰 বিস্তারিত
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে নিয়মিত কয়লা উত্তোলন বন্ধ হলেও এশিয়া এনার্জি নাম পরিবর্তন করে জিসিএম রিসোর্সেস হিসেবে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তারা নিয়মিত কয়লা উত্তোলনের দাবি করলেও সরকারের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানা গেছে। জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানি জিসিএম রিসোর্সেসের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের এখন কোনো সম্পর্ক নেই।
ফুলবাড়ী কয়লাখনি নিয়ে ২০০৫ সালে খনি উন্নয়নের কর্মপরিকল্পনা জমা দেয় এশিয়া এনার্জি। পরবর্তীতে ২০০৬, ২০০৭ ও ২০১২ সালে তিনটি সরকার তিনটি আলাদা কমিটি গঠন করে। তিনটি কমিটির প্রতিবেদনেই ফুলবাড়ী প্রকল্পের বিপক্ষে মতামত দেওয়া হয়। বিশ্বের কয়লা কোম্পানি অস্ট্রেলিয়ার বিএইচপির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৪ সালের ২০ আগস্ট কয়লাসম্পদ অনুসন্ধানের লাইসেন্স-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করে। ফুলবাড়ীতে সমৃদ্ধ কয়লাখনির অস্তিত্ব খুঁজে পায় তারা। কিন্তু ১৯৯৭ সালে এশিয়া এনার্জি নামে একটি কোম্পানির হাতে লাইসেন্স হস্তান্তর করে বাংলাদেশ ছেড়ে যায় বিএইচপি।
এশিয়া এনার্জির ঢাকা কার্যালয়ের দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে দাবি করেন, তারা প্রতিবছর লাইসেন্স ফি ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন বিএমডির কাছে জমা দিচ্ছেন। ২০০৪ সালে অনুমোদন পাওয়ার পর উন্মুক্ত খনন পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের চেষ্টা করে এশিয়া এনার্জি। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিরোধিতা করে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আন্দোলন শুরু করে।
২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ীতে খনি এলাকায় সমাবেশ ডাকা হয়। সমাবেশে তৎকালীন বিডিআরের গুলিতে স্থানীয় তিন ব্যক্তি নিহত হন। আহত হন দুই শতাধিক। এরপর পরিস্থিতি সামাল দিতে তেল-গ্যাস কমিটির সঙ্গে চুক্তি করে তৎকালীন সরকার। এ চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল এশিয়া এনার্জিকে দেশ থেকে বহিষ্কার ও তাদের বিচার, উন্মুক্ত খনন পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন না করা।
"ফুলবাড়ী কয়লাখনি দেখিয়ে এশিয়া এনার্জি লন্ডনে শেয়ার ব্যবসা করছে প্রায় ২০ বছর ধরে। কোনো সরকারই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফুলবাড়ী, দিনাজপুর
- 👥 ব্যক্তি: আনু মুহাম্মদ (অর্থনীতিবিদ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০৬ (বন্ধ), ১৯৯৪ (চুক্তি), ২০০৪ (অনুমোদন), ২৬ আগস্ট (ফুলবাড়ী দিবস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!