📌 বঙ্গভঙ্গ রদের পর পূর্ববাংলার মুসলমান সমাজে সাংস্কৃতিক শূন্যতা দেখা দেয়। স্কুল-কলেজে সরস্বতীপূজার বিপরীতে মিলাদুন্নবী পালনের মাধ্যমে তারা নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয় গড়ে তোলেন। প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুর্তাজা আলী, কামরুদ্দীন আহমদ ও কবি আবুল হোসেনের স্মৃতিকথায় উঠে এসেছে সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
বঙ্গভঙ্গ রদের দুই বছর পর ১৯১৩ সালে মৌলভীবাজার সরকারি হাইস্কুলের তৃতীয় শ্রেণির এক মুসলমান বালক সরস্বতীপূজার সময় সহপাঠীদের আনন্দ উদযাপন দেখে মনমরা হয়ে পড়েন। প্রাবন্ধিক সৈয়দ মুর্তাজা আলীর ভাই সৈয়দ মুজতবা আলীর বর্ণনায় উঠে আসা এই দৃশ্য ছিল তৎকালীন পূর্ববাংলার মুসলমান সমাজের সাংস্কৃতিক শূন্যতার প্রতিচ্ছবি। স্কুলে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছাত্রছাত্রীরা সরস্বতীপূজা উদযাপন করলেও মুসলমান ছাত্রদের জন্য ছিল না কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯১৩ সালে মৌলভীবাজার সরকারি হাইস্কুলে মুসলমান বালকের সরস্বতীপূজা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ার ঘটনা ছিল পূর্ববাংলার মুসলমান সমাজের সাংস্কৃতিক শূন্যতার প্রতিফলন
- 📌 সৈয়দ মুর্তাজা আলীর বর্ণনায় উঠে আসে সিলেট গভর্নমেন্ট হাইস্কুলে মিলাদুন্নবী পালনের মাধ্যমে মুসলমান ছাত্রদের সাংস্কৃতিক চর্চার সূচনা
- 📌 কামরুদ্দীন আহমদের স্মৃতিকথায় মিলাদুন্নবী পালনের বর্ণনা পাওয়া যায়, যেখানে মুসলমান ছাত্রদের সংখ্যা কম থাকায় এক ঘরে মিলাদ আয়োজনের চিত্র ফুটে ওঠে
- 📌 কবি আবুল হোসেনের বর্ণনায় কুষ্টিয়া হাই স্কুলে মুসলমান ছাত্রদের ফাতেহায়ে দোয়াজ দাহম পালনের মাধ্যমে নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরার প্রচেষ্টা প্রতিফলিত হয়
- 📌 মিলাদুন্নবী পালনের মাধ্যমে মুসলমান ছাত্রছাত্রীরা স্কুল-কলেজে নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয় গড়ে তুলতে সক্ষম হন
📰 বিস্তারিত
সৈয়দ মুর্তাজা আলী তাঁর আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেন, পূর্ববাংলার মুসলমান সমাজে তৎকালীন সময়ে সাংস্কৃতিক শূন্যতা বিরাজ করছিল। সরস্বতীপূজার সময় স্কুল সাজানো হলেও মুসলমান ছাত্রদের জন্য ছিল না কোনো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক আয়োজন। এই শূন্যতা পূরণে মিলাদুন্নবী পালনের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা যখন সিলেট গবর্নমেন্ট হাইস্কুলে পড়তাম, তখন স্কুলে খুব আড়ম্বরের সঙ্গে মিলাদ উৎসব হত।’ মিলাদুন্নবী পালনের মাধ্যমে মুসলমান ছাত্ররা নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরতে সক্ষম হন।
কামরুদ্দীন আহমদের বর্ণনায় দেখা যায়, তাঁদের স্কুলে সরস্বতীপূজার আয়োজন হলেও মুসলমান ছাত্রদের জন্য ছিল ফাতেহায়ে দোয়াজ দাহম পালনের আয়োজন। তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের স্কুলে ফাতেহায়ে দোয়াজ দাহম–এ মিলাদ হতো, তবে মুসলমান ছাত্রের সংখ্যা এত কম ছিল যে মৌলবী সাহেবের সব তালবে আলেম নিমন্ত্রণ করে এনেও একটি ঘর ভর্তি করা যেত না।’ মিলাদ আয়োজনে মুসলমান ছাত্রদের অংশগ্রহণ ছিল সীমিত, তবে তা ছিল তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কবি আবুল হোসেন তাঁর স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেন, কুষ্টিয়া হাই স্কুলে মুসলমান ছাত্ররা ফাতেহায়ে দোয়াজ দাহম উপলক্ষে নিজেদের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। তিনি লিখেছেন, ‘ফাতেহায়ে দোয়াজ দাহম অনুষ্ঠানে হিন্দু ছাত্রদের দেখিনি; কিন্তু প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আরও কয়েকজন হিন্দু শিক্ষক অনুষ্ঠানে ছিলেন।’ মুসলমান ছাত্রদের এই আয়োজন ছিল তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ।
“আমরা যখন সিলেট গবর্নমেন্ট হাইস্কুলে পড়তাম, তখন স্কুলে খুব আড়ম্বরের সঙ্গে মিলাদ উৎসব হত। এই উপলক্ষে আমরা স্কুল বাটিকাকে সুন্দররূপে সাজাতাম। সভা করে বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় পয়গম্বরের ভাবধারা ও জীবনী সম্বন্ধে আলোচনা করতাম।”
“আমাদের স্কুলে ফাতেহায়ে দোয়াজ দাহম–এ মিলাদ হতো, তবে মুসলমান ছাত্রের সংখ্যা এত কম ছিল যে মৌলবী সাহেবের সব তালবে আলেম নিমন্ত্রণ করে এনেও একটি ঘর ভর্তি করা যেত না।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পূর্ববাংলা (বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সৈয়দ মুর্তাজা আলী, কামরুদ্দীন আহমদ, আবুল হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯১৩ সাল, ৬০ টাকা, ৪৯ টাকা, ৪৪ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!