📌 মৌলভীবাজারের ৯৩টি চা-বাগানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। প্রক্রিয়াজাত চায়ের মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার ও চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে
মৌলভীবাজার জেলার সাতটি উপজেলায় অবস্থিত ৯৩টি চা-বাগানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চা উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চা-পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রতিটি ধাপে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানাগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উৎপাদিত চায়ের গুণগত মান কমে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মৌলভীবাজারের ৯৩টি চা-বাগানে উৎপাদন ব্যাহত
- 📌 চা-পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য
- 📌 উৎপাদিত চায়ের গুণগত মান কমে যাওয়ার শঙ্কা
- 📌 উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সংশয়
- 📌 চলতি বছর ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
📰 বিস্তারিত
চা উৎপাদনের প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য প্রথমে কচিপাতা শুকানো, তারপর রোলিং মেশিনে ভেঙে গুঁড়ো করা এবং জারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরায় শুকানোর কাজ সম্পন্ন করতে হয়। এই প্রতিটি ধাপেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ের কারণে মৌলভীবাজারের অধিকাংশ চা-বাগান কারখানা সচল রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে মূল্যবান যন্ত্রপাতি বিকল হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ফিনলে চা কোম্পানির চিফ অপারেটিং অফিসার তাহসিন আহমদ চৌধুরীসহ একাধিক চা বিশেষজ্ঞ ও ব্যবস্থাপকরা জানান, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদিত চায়ের গুণগত মান ধরে রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। ক্লোনেল চা-বাগানের ব্যবস্থাপক রনি ভৌমিক জানান, জেনারেটরের মাধ্যমে কারখানা চালাতে গিয়ে বাগান পরিচালনায় বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন সিলেট শাখার চেয়ারম্যান জিএম শিবলী বলেন, উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় চায়ের মান নষ্ট হচ্ছে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মিসআহউদ্দিন আহমদ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চা উৎপাদনে ক্ষতির কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, সরকার সমস্যা সমাধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং শিগগিরই সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজার বিউবো পরিচালন ও সংরক্ষণ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইন্দ্রোজিৎ দেবনাথ জানান, কিছুদিনের মধ্যেই বিদ্যুৎ সংকট কেটে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
"বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চায়ের গুণগত মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে বছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়েও সংশয় রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মৌলভীবাজার জেলা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জিএম শিবলী, মেজর জেনারেল মিসআহউদ্দিন আহমদ, তাহসিন আহমদ চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯৩টি চা-বাগান, ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!