📌 বিদ্যুৎ সংকটে সৈয়দপুরের শিল্পনগরীতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানাগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা কমেছে ৩০ শতাংশ। শ্রমিকদের আয় কমেছে, ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন
নীলফামারী জেলার শিল্পনগরী সৈয়দপুরে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে থমকে গেছে শিল্প উৎপাদন। গত দুই সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় কারখানাগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মেশিন বন্ধ থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে ব্যবসায়িক ক্ষতি বাড়ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সৈয়দপুর শিল্পনগরীতে দিনে-রাতে মিলিয়ে গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে
- 📌 স্থানীয় কারখানাগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে
- 📌 বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকদের আয় কমেছে, অনেকেই সময়মতো মজুরি পাচ্ছেন না
- 📌 প্রিন্টিং প্রেস, বেকারি ও ওয়ার্কশপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করতে পারছে না
- 📌 সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীতে প্রায় ৫০টি কলকারখানা রয়েছে, যা পুরোপুরি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল
- 📌 জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতির কারণে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ১২.৫ মেগাওয়াট কম
📰 বিস্তারিত
নীলফামারী জেলার শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত সৈয়দপুরে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে মিলিয়ে গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানায় মেশিন বন্ধ থাকায় উৎপাদন কমেছে, আবার বিদ্যুৎ ফিরে এলেও উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত সময় লাগছে।
সৈয়দপুর শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জানান, একটি মেশিন চালু করতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু বিদ্যুৎ স্থায়ী না থাকায় উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় না। ফলে দৈনিক উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
বিদ্যুৎ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে শ্রমিকদের আয়েও। মঈন নামে এক ওয়ার্কশপ শ্রমিক বলেন, ‘বিদ্যুৎ থাকলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে যে আয় হয়, বিদ্যুৎ না থাকলে সেটি আর হয় না। অনেক সময় কয়েক ঘণ্টা বসে থাকার পর কাজ না করেই বাড়ি ফিরতে হয়।’
প্রিন্টিং ব্যবসায়ী মো. আমজাদ আলী জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকত না। ফলে সময়মতো অর্ডার দিতে না পারায় ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর উপব্যবস্থাপক মো. নুরেল হক জানান, সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় প্রায় ৫০টি কলকারখানা রয়েছে। এসব কারখানা পুরোপুরি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির কারণে স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এতে শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’
‘এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে শুধু এক ঘণ্টার উৎপাদন বন্ধ হয় না। মেশিন চালু করতে, শ্রমিকদের আবার কাজে ফেরাতে এবং উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনতে আরও সময় লাগে। এতে প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে।’ — রাজু পোদ্দার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নোয়াহ্ রয়েল রিল্যাক্স মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সৈয়দপুর, নীলফামারী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাজু পোদ্দার, আমিনুল ইসলাম, মো. নুরেল হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮-১০ ঘণ্টা, ৫০টি কারখানা, ১২.৫ মেগাওয়াট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!