📌 দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকার সংখ্যা ৮ বছরে দ্বিগুণ হয়ে ৮ লাখ ৮৫ হাজার পৌঁছেছে। শিল্প খাতে দক্ষ কর্মী সংকটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ করছে। শিক্ষা-কর্মসংস্থান মেলবন্ধনের জন্য পাঠ্যক্রম ও ইন্টার্নশিপ ব্যবস্থা উন্নত করার দাবি উঠেছে
দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকার সংখ্যা ৮ বছরে দ্বিগুণ হয়ে ৮ লাখ ৮৫ হাজার পৌঁছেছে। এর মধ্যে পুরুষ বেকারের সংখ্যা ৫ লাখ ৫৭ হাজার এবং নারী বেকারের সংখ্যা ৩ লাখ ২৮ হাজার। একই সময়ে শিল্প খাতে দক্ষ কর্মী সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো যোগ্য কর্মী পেতে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ করছে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থান মেলবন্ধনের জন্য পাঠ্যক্রমের পরিবর্তন এবং ইন্টার্নশিপ সুযোগ বাড়ানোর দাবি উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১৭ সালে ৪ লাখ ৫ হাজার উচ্চশিক্ষিত বেকার ছিল, ২০২৪ সালে সংখ্যা বেড়ে ৮ লাখ ৮৫ হাজার (পুরুষ ৫ লাখ ৫৭ হাজার, নারী ৩ লাখ ২৮ হাজার)
- 📌 জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৬০-৭০ শতাংশ গ্র্যাজুয়েটের কর্মজীবনে দক্ষতার ঘাটতি
- 📌 শিল্প খাতে ১০-১৫ জনের মধ্যে মাত্র ৫-৬ জনই সমস্যা সমাধানে সক্ষম
- 📌 সমাজসেবা অধিদপ্তরের ১৬তম গ্রেডের ৩১২টি পদে ১২ লাখ ৩৪ হাজার ৪০৯ জন আবেদন
- 📌 প্রতিটি পদে গড়ে ৩ হাজার ৯৫৬ জনের প্রতিযোগিতা
📰 বিস্তারিত
সাব্বির রহমান টাঙ্গাইলের একটি সরকারি কলেজ থেকে সমাজকর্ম বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। কিন্তু তিনি বলেন, ‘যতটা উৎফুল্ল ছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনে, আজ ঠিক ততটাই হতাশায় আছি’। সাব্বির ঢাকার আগারগাঁওয়ে বন্ধুদের সঙ্গে মেসে থাকেন এবং নিয়মিত সরকারি চাকরির আবেদন করছেন। কিন্তু চাকরি পাচ্ছেন না। তিনি মনে করেন, পড়াশোনা শেষ হলেও কর্মজীবনে ঢোকার জন্য পাঠ্যক্রমের সাথে দক্ষতা মিলছে না।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গত বছরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মোট গ্র্যাজুয়েটের ৬০-৭০ শতাংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই সমাজবিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা এবং কিছু বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়ে পড়াশোনা করেন। কিন্তু শিল্প খাতে দক্ষ কর্মী পাওয়ার জন্য সংকটের কথা বলছেন শিল্প মালিকরা। বিশেষায়িত খাতগুলোতে এই সংকট আরও স্পষ্ট। অনেক প্রার্থীর প্রযুক্তি সম্পর্কে সাধারণ ধারণা থাকলেও ব্যবসায়িক সমস্যা বোঝা বা পণ্য তৈরি করার দক্ষতা তাদের নেই।
বাংলাদেশি অটোমেশন প্ল্যাটফর্ম ‘মার্কোপোলো ডটএআই’-এর উদ্যোক্তা তাসফিয়া তাসবিন বলেন, ‘আবেদনকারীর অভাব নেই। অভাবটা যোগ্য প্রার্থীর’। তিনি জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে একেকটি পদে শত শত আবেদন আসে, কিন্তু সমস্যা সমাধানে সক্ষম হয় মাত্র ১০-১৫ জনের মধ্যে ৫-৬ জন। যোগ্য কর্মী না পেয়ে তারা বিদেশি কর্মীদের ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করান। এতে দেশের অর্থও বাইরে চলে যায়। তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি ইন্টার্নশিপের সুযোগ বাড়াতে হবে এবং পাঠ্যক্রম তৈরিতে সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করতে হবে।
"আবেদনকারীর অভাব নেই। অভাবটা যোগ্য প্রার্থীর।"
অধ্যাপক এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে নিম্নস্তরের সরকারি চাকরিতে আগ্রহ বাড়ছে। যেমন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের ১৬তম গ্রেডের ৩১২টি পদে ১২ লাখ ৩৪ হাজার ৪০৯ জনের আবেদন পড়েছে। প্রতিটি পদে গড়ে ৩ হাজার ৯৫৬ জনের প্রতিযোগিতা হয়েছে। এই চাকরিগুলো মূলত তৃতীয় শ্রেণির প্রশাসনিক কাজের জন্য, কিন্তু উচ্চশিক্ষিত তরুণরা এসব চাকরিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই অবস্থা দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎকে ঝুঁকিতে ফেলছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, টাঙ্গাইল, বাংলাদেশ
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: সাব্বির রহমান, তাসফিয়া তাসবিন, এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ লাখ ৮৫ হাজার (উচ্চশিক্ষিত বেকার), ৬০-৭০% (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট), ৫-৬ জন (যোগ্য কর্মী), ৩১২টি পদ (সমাজসেবা অধিদপ্তর), ১২ লাখ ৩৪ হাজার ৪০৯ জন (আবেদনকারী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!