📌 পঞ্চগড়ের কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থা। বিকাশের মাধ্যমে সরাসরি শ্রমিকদের ওয়ালেটে বেতন পৌঁছানোয় কমেছে সময় ও নিরাপত্তা ঝুঁকি। শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা ও কর্তৃপক্ষের সুবিধার কথা তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্টরা।
পঞ্চগড়ের বিস্তীর্ণ চা-বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনে এসেছে নতুন পরিবর্তন। দেশের সর্ব উত্তরের এই চা-বাগানগুলোতে এখন থেকে শ্রমিকেরা বিকাশের ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে সরাসরি তাঁদের বেতন পাচ্ছেন। প্রথমবারের মতো কোনো চা-বাগানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন প্রদানের এই উদ্যোগ শুধু অর্থ পরিশোধের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়ও যুক্ত করেছে নতুন অভিজ্ঞতা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেশের সর্ব উত্তরের কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থা
- 📌 আগে শ্রমিকদের বেতন পেতে নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে গিয়ে ক্যাশ টাকা তুলতে হতো
- 📌 এখন বিকাশের মাধ্যমে সরাসরি শ্রমিকদের ওয়ালেটে বেতন পৌঁছাচ্ছে
- 📌 শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, ডিজিটাল ব্যবস্থায় সময় ও অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে
- 📌 বাগান কর্তৃপক্ষের মতে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন প্রদানে নিরাপত্তা ও সময় দুটিই বৃদ্ধি পেয়েছে
📰 বিস্তারিত
পঞ্চগড়ের কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটে কর্মরত শ্রমিকেরা এখন বিকাশের মাধ্যমে সরাসরি তাঁদের মাসিক বেতন পাচ্ছেন। পূর্বে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য ক্যাশ টাকা বহন ও বিতরণ করতে হতো, যার ফলে সময়ের পাশাপাশি অর্থ বহনের ঝুঁকিও ছিল। এখন নির্ধারিত সময়ে শ্রমিকদের বিকাশ ওয়ালেটে বেতন পৌঁছানোয় সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে।
এই পরিবর্তনের ফলে শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবনে যুক্ত হয়েছে নতুন অভিজ্ঞতা। তাঁরা এখন নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা খরচ করতে পারছেন। কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটের শ্রমিক মাজেদুর রহমান বলেন, ‘এটা যদি আরও আগে হতো, তাহলে আমাদের জন্য আরও সুবিধা হতো। এখন যেভাবে টাকা পাচ্ছি, তাতে অনেক সুবিধা হয়েছে। প্রয়োজনমতো টাকা খরচ করছি এবং বাকিটা রেখে দিচ্ছি।’
ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থার সুবিধা তুলে ধরে আরেক শ্রমিক বানু আক্তার বলেন, ‘এখন মোবাইলেই বেতনের টাকা চলে আসছে। যখন প্রয়োজন হচ্ছে, তখনই টাকা তুলে নিতে পারছি। আগে অফিসে গিয়ে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে টাকা তুলতে হতো। এখন মোবাইলেই টাকা পেয়ে যাচ্ছি।’
এই ব্যবস্থার ফলে বাগান কর্তৃপক্ষের কাজের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। পূর্বে নয়টি ডিভিশনে আলাদাভাবে শ্রমিকদের বেতন বিতরণ করতে হতো। এখন একই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এক ক্লিকেই সবার কাছে বেতন পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স বিভাগের ম্যানেজার মুন্সি মো. আল ইমরান হোসেন বলেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের কাছে প্রথম অগ্রাধিকার ছিল। আগে যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার বিষয়টি ছিল, সেটি এখন সমাধান হয়েছে। এক ক্লিকেই একই সময়ে সবার কাছে বেতনের টাকা চলে যাচ্ছে।’
বেতন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সময় সাশ্রয়ের কথা উল্লেখ করে প্রদীপ কুমার ভার্মা বলেন, ‘আমাদের নয়টি ডিভিশনে প্রায় শ্রমিকেরা কাজ করেন। তাঁদের বেতন এক দিনে পরিশোধ করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। বিকাশের মাধ্যমে বেতন পরিশোধ করায় আমাদের কাজ অনেক সহজ হয়েছে।’
‘এখন মোবাইলেই বেতনের টাকা চলে আসছে। যখন প্রয়োজন হচ্ছে, তখনই টাকা তুলে নিতে পারছি।’ — শ্রমিক বানু আক্তার
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পঞ্চগড়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শ্রমিক মাজেদুর রহমান, শ্রমিক বানু আক্তার, মুন্সি মো. আল ইমরান হোসেন, প্রদীপ কুমার ভার্মা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: নয়টি ডিভিশন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!