📌 প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ঘোষণা করেছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে এআই, রোবোটিক্স ও কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। সরকার বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষাব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে সরকার ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে এআই, রোবোটিক্স, মেশিন লার্নিং ও সাইবার সিকিউরিটি বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করছে। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তিনির্ভর বৈশ্বিক কাঠামোর সঙ্গে তাল মেলাতে স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে এআই, রোবোটিক্স ও কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে।
- 📌 চতুর্থ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ‘স্পোর্টস’ ও ‘কালচার’ বিষয়, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
- 📌 উচ্চশিক্ষায় টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহে কারিকুলাম সংস্কার চলছে।
- 📌 প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ গড়ে তোলা হবে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান ত্বরান্বিত করতে।
- 📌 ব্রেন ড্রেন থেকে ব্রেন সার্কুলেশনে রূপান্তর করতে বিদেশে কর্মরত বিশেষজ্ঞদের ফেলোশিপের মাধ্যমে দেশের কারিকুলামে যুক্ত করার পরিকল্পনা।
📰 বিস্তারিত
রাজধানী ঢাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর প্লেনারি সেশনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর ও দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক কাঠামোর সঙ্গে তাল মেলাতে দেশের স্টেম শিক্ষাব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। কেবল মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়েই নয়, উচ্চশিক্ষা বা টারশিয়ারি লেভেলেও স্টেম শিক্ষাকে সমানভাবে প্রাধান্য দিতে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’
মাহ্দী আমিন জানান, তাত্ত্বিক শিক্ষার সীমাবদ্ধতা দূর করে পুঁথিগত বিদ্যা ও বাস্তব প্রয়োগের দূরত্ব কমাতে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় সংস্কার চলছে। তিনি বলেন, ‘আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘স্পোর্টস’ ও ‘কালচার’ নামে দুটি নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিক্ষা, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় ইন্টারপার্সোনাল ও ট্রান্সফারেবল দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করবে।’
কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘বর্তমানে কারিগরি শিক্ষা সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত দেশের সব প্রান্তের ও সব স্তরের স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষা সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক হবে।’
উচ্চশিক্ষাকে বাস্তব জীবনের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, দেশজুড়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় আড়াই হাজার অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কীভাবে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে কারিকুলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে। তিনি বলেন, ‘মানসম্মত গবেষণা থেকে উদ্ভাবন, উদ্ভাবন থেকে নতুন স্টার্ট-আপ এবং সেখান থেকে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি টেকসই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হবে।’
‘স্টেম ফর অ্যা ফিচার-রেডি বাংলাদেশ: বিল্ডিং দ্য ব্যাকবোন অব দ্য ইনোভেটিভ ইকোনোমি’ শীর্ষক সেমিনারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন সঞ্চালনা করেন। আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের শিক্ষা প্রধান এস কিয়াং কো, দেশের শীর্ষ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তানভীর মোহাম্মদ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি-আইইউবি’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম প্রমুখ।
"আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, মেশিন লার্নিং ও সাইবার সিকিউরিটির মতো আধুনিক বিষয়গুলোকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাহ্দী আমিন (প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি, ৪র্থ শ্রেণি, আড়াই হাজার অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!