📌 চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক মেছবাহুল ইসলাম গণ-অর্থায়নের মাধ্যমে দিনাজপুরে গড়ে তুলেছেন ৩৫ একরের সমন্বিত কৃষি খামার। মাত্র তিন বছরে আর্থিক সফলতা অর্জন করা এই খামার এখন স্থানীয়দের অনুপ্রেরণার উৎস
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বামনগাঁও গ্রামে নিজের স্বপ্নের খামার পরিচালনা করতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন মেছবাহুল ইসলাম। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতক মেছবাহুল গণ-অর্থায়নের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন একটি সমন্বিত কৃষি খামার। তাঁর খামারে রয়েছে মাছ চাষ, ফসল উৎপাদন, গবাদিপশু পালন, হাঁস পালন, ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন এবং ফলের চারা উৎপাদন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চুয়েটের স্নাতক মেছবাহুল ইসলাম গণ-অর্থায়নের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন ৩৫ একরের সমন্বিত কৃষি খামার
- 📌 খামারে রয়েছে ১০ একর আয়তনের তিনটি পুকুরে মাছ চাষ, ১০ একর জমিতে কলা, পেঁপে, মরিচ, ক্যাপসিকামসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন
- 📌 খামারে দেশি জাতের ৮টি গরুর খামার, হাঁস পালন, ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন এবং সুগন্ধি জাতের ধানের আবাদ রয়েছে
- 📌 চলতি মৌসুমে লিচু, কলা ও করলা বিক্রি করে আয় হয়েছে ১০ লাখ টাকার বেশি
- 📌 খামারে প্রতিদিন ২০ জন শ্রমিক কাজ করেন এবং পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় রয়েছে
📰 বিস্তারিত
মেছবাহুল ইসলামের খামারটি দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তাঁর পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ২০ একর জমির সঙ্গে আরও ১৫ একর জমি বর্গা নিয়ে তিনি কৃষিকাজ শুরু করেন। খামারের আয় থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছেন অফিস ও গুদামঘর। খামারে চার বিঘা জমির মরিচখেতে শ্রমিকেরা পাকা মরিচ তুলছেন, পুকুরের চারপাশে তারকাঁটার বেড়ার সঙ্গে মাচায় ঝুলছে করলা, সারিবদ্ধভাবে লাগানো পেঁপেগাছে ফল ধরেছে। নার্সারিতে শ্রমিকেরা টবে লিচুর চারা প্রস্তুত করছেন। কলাবাগানে ঝুলছে বড় বড় কাঁদি, পাশেই তৈরি হচ্ছে নতুন কলার চারা।
মেছবাহুল ইসলাম বর্তমানে ১০ একর আয়তনের তিনটি পুকুরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষের পাশাপাশি প্রায় ১০ একর জমিতে কলা, পেঁপে, মরিচ, ক্যাপসিকাম, শসা, আদা, করলাসহ নানা ধরনের ফসল উৎপাদন করছেন। তাঁর খামারে রয়েছে দেশি জাতের আটটি গরুর খামার, হাঁস পালন, ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন এবং সুগন্ধি জাতের ধানের আবাদ। অফিসসংলগ্ন জমিতে আম, লিচু, আঙুরসহ বিভিন্ন ফল গাছের চারা উৎপাদন ও বিক্রি করা হয়।
প্রতিদিন ২০ জন শ্রমিক খামারে কাজ করেন। চলতি মৌসুমে শুধু লিচু, কলা ও করলা বিক্রি করেই আয় হয়েছে ১০ লাখ টাকার বেশি। নিজের উৎপাদিত ভার্মি কম্পোস্ট খামারের জমিতে ব্যবহারের পাশাপাশি আশপাশের কৃষকের কাছেও বিক্রি করা হচ্ছে। খামারে রয়েছে আধুনিক কৃষিযন্ত্র এবং পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায়। অফিসে বসে অনলাইনে পাওয়া ফরমায়েশ অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে চারা পাঠানো হচ্ছে। মাঝে মাঝে ড্রোনের সাহায্যে অফিসে বসেই প্রকল্প এলাকায় চোখ বোলান মেছবাহুল ইসলাম।
"মেছবাহুল ইসলাম নিরাপদ সবজি ও মানসম্মত চারা উৎপাদনে কাজ করছেন। কৃষি বিভাগ থেকে তাঁকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিরল উপজেলা, দিনাজপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেছবাহুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৫ একর, ২০ লাখ টাকা, ১০ লাখ টাকা, ২০ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!