📌 বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে প্রশাসনিক শাস্তি হিসেবে ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে এবং পাঁচজনের বেতন সর্বনিম্ন গ্রেডে নামিয়ে আনা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী গত বছরের মার্চের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রশাসনিক শাস্তির অংশ হিসেবে একযোগে ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও পাঁচ কর্মকর্তার বেতন সর্বনিম্ন গ্রেডে নামিয়ে আনা হয়েছে। বিএসইসির ইতিহাসে এ ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবারই প্রথম একসঙ্গে এত সংখ্যক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হলো।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিএসইসির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ১৭ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে
- 📌 পাঁচ কর্মকর্তার বেতন সর্বনিম্ন গ্রেডে নামিয়ে আনা হয়েছে
- 📌 গত বছরের ৫ মার্চ বিএসইসি চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে
- 📌 সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় বিভাগীয় তদন্ত শেষে মোট ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে
- 📌 গতকাল মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রধান কার্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রশাসনিক শাস্তির আদেশপত্র বিতরণ শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেকে আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিএসইসির প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি গ্রহণ করেন। বিএসইসির সূত্রে জানা গেছে, পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ৪ মার্চ বিএসইসির তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। পরের দিন অর্থাৎ ৫ মার্চ বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও কমিশনারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সভাকক্ষে চার ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ ঘটনার পর সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন।
ওই ঘটনার পর বিএসইসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করেন। ফলে কয়েক দিন ধরে সংস্থাটির কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। গত বছরের ৬ মার্চ রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তৎকালীন চেয়ারম্যানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত গানম্যান আশিকুর রহমান ছিলেন এই মামলার বাদী।
ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি সরকারি বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত তদন্তে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও অভিযোগকারীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তদন্ত শেষে সরকারের পক্ষ থেকে মোট ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে একজন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে অন্য একটি অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাকি ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার প্রশাসনিক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
"গত বছরের মার্চের ঘটনার পর সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভাগীয় তদন্তের সুপারিশের ভিত্তিতে বিএসইসি এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আগারগাঁও, ঢাকা (বিএসইসি প্রধান কার্যালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: খন্দকার রাশেদ মাকসুদ (বিএসইসি চেয়ারম্যান), সাইফুর রহমান (সাবেক নির্বাহী পরিচালক), আশিকুর রহমান (গানম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ (অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা), ৫ (বেতন সর্বনিম্ন গ্রেডে নামানো কর্মকর্তা), ২২ (মোট শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা), ৫ মার্চ ২০২৫ (অবরুদ্ধ ঘটনা), ৬ মার্চ ২০২৫ (মামলা দায়ের), ১৯ আগস্ট ২০২৬ (শাস্তি কার্যকর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!