📌 যমুনা নদীর চরাঞ্চলে হাজারো দরিদ্র পরিবার ঘাস ও কাইশা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। কাজিপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘাসের বাজার গড়ে উঠেছে যেখানে দাম কষাকষি করে ক্রেতারা ঘাস কিনছেন। বর্ষা মৌসুমে এই পেশা তাদের একমাত্র আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে
যমুনা নদীর চরাঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে ঘাস বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে হাজারো দরিদ্র পরিবার। যমুনা নদীর পানি কমে যাওয়ায় জেগে ওঠা অসংখ্য চরাঞ্চলে শুধু সবুজ ঘাস ও কাইশার সমারোহ দেখা যায়। সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মাইজবাড়ী, খাসরাজবাড়ী, শুভগাছা, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, মনসুর নগর ও চরগিরিশ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঘাস ও কাইশা বিক্রির চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যমুনা নদীর চরাঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে ঘাস বিক্রি করে দিনে ৪০০-৫০০ টাকা উপার্জন করছেন হাজারো পরিবার
- 📌 ঘাসের বাজারে প্রতি আঁটি কাঠাঁল পাতা ২০-৩০ টাকা, দুর্বাঘাস ৭০-৮০ টাকা, গর্বাঘাস ৮০-১২০ টাকা ও নেপিয়ার ঘাস ৩০-৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে
- 📌 মাইজবাড়ী চরর আজিবার হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে ঘাস বিক্রি করেই আমাদের সংসার চলে
- 📌 মেঘাই বাজারের ঘাস বিক্রেতা আনিছুর রহমান জানান, কাজ না থাকায় ঘাস বিক্রির টাকায় ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখাও চালিয়ে যাচ্ছেন
- 📌 কাজিপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ দিদারুল আহসান বলেন, চরাঞ্চলের শতাধিক খামারি বাণিজ্যিকভাবে ঘাস চাষ করে বিক্রি করছেন
📰 বিস্তারিত
যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত কাজিপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বর্তমানে ঘাসের হাট বসে রেখেছে। সরেজমিনে মাইজবাড়ী, ঢেকুরিয়া, কুমারিয়াবাড়ী, জর্জিরা, পানাগাড়ী, রঘুনাথপুর ও শুভগাছায় সকাল-বিকালে বিভিন্ন জাতের ঘাসের হাট গড়ে উঠেছে। এসব বাজারে ক্রেতারা ঘাস ও কাইশা কিনতে আসছেন। গরু-ছাগলের খাদ্য হিসেবে পরিচিত ঘাসের মধ্যে নেপিয়ার, দুর্বাঘাস, গর্বাঘাস, কাঠাঁলপাতাসহ আরও অনেক রকমের ঘাস বিক্রি হচ্ছে।
যমুনা নদীর পানি কমে যাওয়ায় চরাঞ্চলে জেগে ওঠা ঘাসের সমারোহের কারণে এখানে ঘাসের বাজার গড়ে উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে গো-খাদ্যের সংকট তীব্রতর হওয়ায় ঘাস বিক্রি পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। মাইজবাড়ী চরর আজিবার হোসেন বলেন, “বর্ষা মৌসুমে ঘাস বিক্রি করেই আমাদের সংসার চলে। শরৎকালে কাজ না থাকায় এই মৌসুমে ঘাস বিক্রি করে দিনে ৪০০-৫০০ টাকা উপার্জন করি।”
মেঘাই বাজারের ঘাস বিক্রেতা আনিছুর রহমান জানান, “আমরা গরিব মানুষ। কাজ না থাকায় ঘাস আর মাছ বিক্রির টাকায় আমাদের সংসার চলে। ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখাও এই টাকায় চালিয়ে যাচ্ছি। সকালে বাজারে এসে ঘাস বিক্রি করতে পারলে প্রতিদিন নৌকা খরচ বাদে গড়ে ৪০০-৫০০ টাকা উপার্জন করি।”
"যমুনা চরাঞ্চলের মানুষের জীবনধারণ খুব কষ্টের। নদী তীরবর্তী এলাকার গো-খাদ্যের যোগান দিতে মূলত ঘাসের বাজারগুলো গড়ে ওঠেছে। এসব বাজারকে কেন্দ্র করে চরাঞ্চলের অনেক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে।"
কাজিপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ দিদারুল আহসান বলেন, “চরাঞ্চলের অনেক পরিবার চর থেকে বিভিন্ন জাতের কাঁচা ঘাস ও কাইশা সংগ্রহ করে স্থানীয় হাট-বাজার বিক্রি করে। এতে করে তাদের সংসার চলে ও তাদের গবাদি পশুর চাহিদাও পূরণ হয়। এছাড়াও বাণিজ্যিকভাবে প্রায় শতাধিক খামারি ঘাস চাষ করে নিজেদের চাহিদা পূরণ করেও বিক্রি করে আসছেন।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যমুনা নদীর চরাঞ্চল (কাজিপুর উপজেলা, সিরাজগঞ্জ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আজিবার হোসেন, আনিছুর রহমান, ডাঃ দিদারুল আহসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০-৩০ টাকা (কাঠাঁল পাতা), ৭০-৮০ টাকা (দুর্বাঘাস), ৮০-১২০ টাকা (গর্বাঘাস), ৩০-৮০ টাকা (নেপিয়ার ঘাস), ৪০০-৫০০ টাকা (দৈনিক উপার্জন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!