📌 বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বিশ্ববাজারে দ্বিগুণ হবার পরেও গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় কম। উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে জীবনযাত্রার খরচ মেটাতে শ্রমিকরা মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করছেন
বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিগুণ হবার পরেও দেশের গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় ন্যূনতম অবস্থানে রয়েছে। চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে জীবনযাত্রার খরচ মেটাতে শ্রমিকেরা মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১১ থেকে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৩ হাজার ৮৮২ কোটি ডলার হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ৮৮ শতাংশ বেশি
- 📌 চীন (২৭.৫%) ও ভিয়েতনাম (৬.৫৩%) এর পরে বাংলাদেশের ৬.৭৬ শতাংশ বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানির শেয়ার
- 📌 ১২ হাজার ৫০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি সত্ত্বেও বাংলাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি চীন, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, ভারত ও তুরস্ক এর তুলনায় কম
- 📌 ট্যানারি, জাহাজভাঙা, সিমেন্ট ও নির্মাণ খাত গুলোর তুলনায় গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি বেশি নেই
- 📌 শ্রমিকনেতা তাসলিমা আখতার বলেছেন, খাদ্য ও জীবনযাপনের খরচ বাড়ার কারণে শ্রমিকেরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন
- 📌 গত রোববার শ্রম মন্ত্রণালয় নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করলেও বিক্ষোভ অব্যাহত
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি শিল্প বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় দাঁড়িয়ে আছে। তবে শ্রমিকদের মজুরি বিষয়ে দেশটি প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি দ্বিগুণ হবার পরেও গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় কম। এইচএন্ডএম গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, চীন, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, ভারত ও তুরস্কের তুলনায় বাংলাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি ন্যূনতম অবস্থানে রয়েছে।
শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন চলছে। গত রোববার শ্রম মন্ত্রণালয় নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করলেও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। শ্রমিকনেতা তাসলিমা আখতার বলেছেন, খাদ্য ও জীবনযাপনের খরচ বাড়ার কারণে শ্রমিকেরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। তিনি বলেন, "নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে শ্রমিকের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। তাঁরা খাবারের খরচ কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন।"
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি শিল্পের মালিকপক্ষ বলছে, শ্রমিকের কম উৎপাদনশীলতা এবং কম মুনাফা হওয়ায় শ্রমিকদের বেতন তুলনামূলক কম। তবে শ্রমিকরা দাবি করছেন, আগে মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি নির্ধারণের কাজ এগিয়ে নিলে এই অস্থিরতা এড়ানো যেত।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি ২০১১ থেকে ২০২৫ সালে বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত বছর ৩ হাজার ৮৮২ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৮৮ শতাংশ বেশি। বিশ্ববাজারে গত বছর তৈরি পোশাক রপ্তানিতে সবচেয়ে বেশি শেয়ার ছিল চীনের, ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। তারপরই বাংলাদেশের অবস্থান, ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
"নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে শ্রমিকের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। তাঁরা খাবারের খরচ কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন।" — তাসলিমা আখতার, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ, চীন, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, ভারত, তুরস্ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাসলিমা আখতার, মালিকপক্ষ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ হাজার ৫০০ টাকা (ন্যূনতম মজুরি), ৩ হাজার ৮৮২ কোটি ডলার (রপ্তানি), ৮৮ শতাংশ (বৃদ্ধি), ৬.৭৬ শতাংশ (বিশ্ববাজার শেয়ার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!