📌 বিপিসি থেকে ১০ বছরে সরকারের রাজস্ব ও মুনাফা মিলিয়ে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা পেয়েছে। তবে বিপিসি আর্থিক সংকটে পড়েছে এবং সরকার থেকে ভর্তুকি চাইছে। জ্বালানি দাম বাড়ানো হয়েছে এবং বিপিসির চেয়ারম্যান লোকসান ও অর্থের ঘাটতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) থেকে ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে সরকারের রাজস্ব ও সংস্থার মুনাফা মিলিয়ে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। তবে বিপিসি আর্থিক সংকটে পড়েছে এবং সরকার থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি পাওয়ার আশা করছে। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের দাম বৃদ্ধির কারণে এবং বিপিসির আর্থিক সক্ষমতা কমে যাওয়ায় সরকার জ্বালানি দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে জ্বালানি তেল আমদানিতে শুল্ক-কর বাবদ সরকার পেয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা
- 📌 ১০ বছরে বিপিসির মুনাফা (লোকসান বাদ দিয়ে) ৫৩ হাজার ১৩২ কোটি টাকা, মোট রাজস্ব ও মুনাফা মিলে ১ লাখ ৭২ হাজার ৬৩২ কোটি টাকা
- 📌 ২০২১-২২ অর্থবছরে বিপিসি ২ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা লোকসান করেছে, বর্তমান অর্থবছরে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকার ঘাটতি
- 📌 বর্তমানে জ্বালানি আমদানিতে ব্যবহারযোগ্য অর্থ প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা, ৪০টি ঋণপত্রের জন্য দেড় হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হতে পারে
- 📌 ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর নতুন জ্বালানি দাম: ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা
- 📌 বিপিসির মুনাফার প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে, বাকি অর্থ প্রকল্প ও পরিচালন ব্যয়ে গেছে
📰 বিস্তারিত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাব অনুযায়ী, শুধু ডিজেল আমদানিতেই গত অর্থবছরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সরকারকে ১১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা শুল্ক-কর দিয়েছে। ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের শুল্ক-কর বাবদ সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপিসির হিসাব মতে, ১০ বছরে জ্বালানি তেল আমদানিতে শুল্ক-কর বাবদ সরকার পেয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে বিপিসি দীর্ঘ সময় মুনাফায় ছিল। ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত মাত্র এক বছর (২০২১-২২) লোকসান হয়েছে। সেই বছর লোকসান হয়েছিল ২ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। বাকি ৯ বছরে বিপিসির নিট মুনাফা ছিল ৫৩ হাজার ১৩২ কোটি টাকা।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত ১ মার্চ সংস্থাটির হাতে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা ছিল। কিন্তু জ্বালানি আমদানির বিলসহ বিভিন্ন দায় পরিশোধ করতে হয়েছে। বর্তমানে জ্বালানি আমদানিতে ব্যবহারযোগ্য অর্থ প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। ৪০টি ঋণপত্রের অর্থের ব্যবস্থা করতে গিয়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হতে পারে। বিপিসির মুনাফার প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান অর্থবছরে (মার্চ থেকে আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ মূল্যে তেল কিনে দেশে নিয়ন্ত্রিত দামে বিক্রি করায় প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম প্রথম আলোকে বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও মানুষের অসুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার এত দিন দাম বাড়াতে চায়নি। কিন্তু বিপিসির আর্থিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, নিয়মিত সরবরাহ ধরে রাখা এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দামের ব্যবধান থেকে পাচারের ঝুঁকি—সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছিল। গত রোববার তা আরও ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেরোসিন ১৫৫, পেট্রল ১৬০ ও অকটেনের দাম ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ও বাংলাবান্ধা স্থল কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, বন্দর পর্যন্ত প্রতি লিটার ডিজেলের গড় আমদানি ব্যয় ছিল ১২৬ টাকা ৪১ পয়সা। এর ওপর লিটারে প্রায় ৩৩ টাকা শুল্ক-কর দেওয়ায় ব্যয় দাঁড়ায় ১৫৯ টাকা ৪১ পয়সা। বন্দর থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পরিচালন, পরিবহন, ডিলার কমিশন, উন্নয়ন তহবিলসহ আরও ১৭ টাকা ২৭ পয়সা খরচ হয়। সব মিলিয়ে প্রতি লিটারে ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১৭৬ টাকা ৬৮ পয়সা।
"আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও মানুষের অসুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার এত দিন দাম বাড়াতে চায়নি। কিন্তু বিপিসির আর্থিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, নিয়মিত সরবরাহ ধরে রাখা এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দামের ব্যবধান থেকে পাচারের ঝুঁকি—সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (বিপিসি, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস, বাংলাবান্ধা স্থল কাস্টমস)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অনিন্দ্য ইসলাম (জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী), মো. রফিকুল ইসলাম (বিপিসির চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা (মোট রাজস্ব ও মুনাফা), ১১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা (ডিজেল শুল্ক-কর), ৫৩ হাজার ১৩২ কোটি টাকা (মুনাফা), ২ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা (লোকসান), ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা (বর্তমান অর্থবছরের ঘাটতি), ১১ হাজার কোটি টাকা (ব্যবহারযোগ্য অর্থ), ১৩৫ টাকা (ডিজেলের নতুন দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!