📌 খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলার কৃষক মেহেদী হাসান রানা জমি লিজ নিয়ে রেড লেডি পেঁপের বাণিজ্যিক বাগান গড়ে তুলেছেন। ৮-৯ লাখ টাকা বিনিয়োগে শুরু করেছেন, বর্তমানে ৪ লাখ টাকা বিক্রি হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সঠিক পরিচর্যা করলে ১৫-১৬ লাখ টাকার বিক্রি সম্ভব।
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলায় বাণিজ্যিক কৃষিতে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করেছে মেহেদী হাসান রানা। নিজের জমি না থাকায় লিজ নেওয়া দুই একর জমিতে তিনি তাইওয়ানের উচ্চফলনশীল ‘রেড লেডি’ জাতের পেঁপের বাগান গড়ে তুলেছেন। আট থেকে নয় লাখ টাকা বিনিয়োগে শুরু করা এই উদ্যোগের বর্তমান ফলন ৪ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি। কৃষি কর্মকর্তারা আশাবাদ জানিয়েছেন, সঠিক পরিচর্যা ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে মৌসুম শেষে ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকার বিক্রি সম্ভব।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলার গোমতী ইউনিয়নের মাহবুব মেম্বার পাড়ায় মেহেদী হাসান রানা জমি লিজ নিয়ে রেড লেডি পেঁপের বাগান গড়ে তুলেছেন
- 📌 দুই বছরের জন্য ১.৫ লাখ টাকা লিজে নেওয়া দুই একর জমিতে ৮-৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে বাগান তৈরি করেছেন রানা
- 📌 বর্তমানে প্রতি কেজি পাকা পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, চার লাখ টাকা বিক্রি হয়েছে
- 📌 ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলায় ৬৫ হেক্টর জমিতে পেঁপের আবাদ হয়েছে, লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার টন উৎপাদন
- 📌 উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেছেন, রানার উদ্যোগ এলাকার কৃষকদের বাণিজ্যিক পেঁপে চাষে উৎসাহিত করবে
📰 বিস্তারিত
পাহাড়ি এলাকার প্রচলিত চাষাবাদের বাইরে বাণিজ্যিক কৃষিতে পদার্পণ করেছেন খাগড়াছড়ির রানা। ইউটিউবের কৃষি ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে ‘রেড লেডি’ জাতের পেঁপের বাগান গড়ে তুলেছেন। খেদাছড়া এলাকার বাসিন্দা রানা বলেন, “২০২২-২৩ সালের দিকে ইউটিউবে পেঁপে চাষের ভিডিও দেখে আগ্রহ তৈরি হয়। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পর কারিগরি সহায়তা নিয়ে মাঠে নামি।”
মাটিরাঙা উপজেলার এগ্রোসেল নার্সারি থেকে প্রায় দুই হাজার ‘রেড লেডি’ চারা সংগ্রহ করে তিনি মালচিং পদ্ধতি ও জৈব সার ব্যবহার করে গাছের পরিচর্যা করেছেন। বর্তমানে প্রতি কেজি পাকা পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকে পেঁপে সংগ্রহ করছেন, ফলে বাজারে নিয়ে যাওয়ার খরচ কমেছে। রানা আশাবাদী, “মৌসুম শেষে ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকার বিক্রি সম্ভব। পাহাড় ও সমতল উভয় এলাকাতেই পেঁপের চাহিদা রয়েছে। সঠিক পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।”
মাটিরাঙা উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলায় ৬৫ হেক্টর জমিতে পেঁপের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে এসব জমি থেকে ২ হাজার টন পেঁপে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, “রানা একজন আগ্রহী উদ্যোক্তা। তার উদ্যোগ এলাকার কৃষকদেরও বাণিজ্যিক পেঁপে চাষে উৎসাহিত করবে।” উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, “রেড লেডি জাতের পেঁপে বাণিজ্যিক চাষের জন্য সম্ভাবনাময়। মাটিরাঙার আবহাওয়া ও মাটি উপযোগী। সঠিক পরিচর্যা করলে কৃষকরা ভালো ফলন ও আয় করতে পারেন।”
"পাহাড় ও সমতল—দুই জায়গাতেই পেঁপের চাহিদা রয়েছে। সঠিক সেচ, জৈব সার ও নিয়মিত পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। গাছ পরিপক্ব হলে ফলন আরও বাড়বে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে পেঁপে চাষ করতে চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মাটিরাঙা উপজেলা, খাগড়াছড়ি; গোমতী ইউনিয়ন, মাহবুব মেম্বার পাড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেহেদী হাসান রানা, জয়নাল আবেদীন, মো. শাহাব উদ্দিন আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮-৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ, ১৫-১৬ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রা, ২ হাজার চারা, ৬৫ হেক্টর জমি, ৩০-৪০ টাকা/কেজি দাম
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!