📌 বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফা) আজ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সামনে মানববন্ধন করে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং প্রতিষ্ঠানকে নতুন লাইসেন্স না দেওয়ার দাবি জানায়। তারা ৬০% দেশীয় মালিকানার বাধ্যবাধকতা, ১% উৎসে কর প্রত্যাহার ও স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরেছে
বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফা) আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সামনে মানববন্ধন করে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে লাইসেন্স না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি এছাড়াও মোট বিলের ওপর ১ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহার এবং স্থানীয় লেনদেনে বাংলাদেশি মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শতাধিক দেশীয় ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার সদস্য আজ এনবিআর সামনে মানববন্ধনে অংশ নেন
- 📌 বাফা দাবি: বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে নতুন লাইসেন্স না দেওয়া; ৬০% দেশীয় মালিকানার বাধ্যবাধকতা বহাল রাখা
- 📌 উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি: মোট বিলের ১% কর, কিন্তু প্রকৃত আয় ও মুনাফার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে
- 📌 স্থানীয় লেনদেনে বাংলাদেশি মুদ্রা ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি
- 📌 আধুনিক লাইসেন্সিং বিধিমালা প্রণয়নের দাবি: ব্যবসা জটিল না করে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা
- 📌 ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং শিল্পের অর্থনৈতিক প্রভাব ও কর্মসংস্থানের উপর জোর দেওয়া
📰 বিস্তারিত
বাফার উপদেষ্টা কবির আহমেদ বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তারা দশক ধরে ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং খাতে বিনিয়োগ করে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও স্থানীয় লজিস্টিকস সক্ষমতা তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হলে দেশীয় উদ্যোক্তারা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারেন। কবির আহমেদ বিদেশি বিনিয়োগের বিরোধী নন, কিন্তু ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং খাতে নীতিগত পরিবর্তনের আগে অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা প্রয়োজন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বিবেচনা করা যথেষ্ট নয়; কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দেশীয় মূল্য সংযোজন এবং ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের বিষয়গুলোও বিবেচনা করা দরকার।
উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি সম্পর্কে কবির আহমেদ বলেন, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং প্রতিষ্ঠানের মোট বিলের পুরো অর্থ তাদের আয় নয়। এতে এয়ারলাইন, শিপিং লাইন ও অন্যান্য সেবাদাতাদের প্রাপ্য অংশও রয়েছে। কর আরোপের ফলে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর মূলধন ও নগদ প্রবাহে চাপ পড়তে পারে। তিনি বলেন, করকাঠামো নির্ধারণ করতে হবে প্রকৃত আয় ও মুনাফার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।
বাফা স্থানীয় লেনদেনে বাংলাদেশি মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরেছে। কবির আহমেদ বলেন, যেখানে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহার অপরিহার্য নয়, সেখানে ডলারের ব্যবহার কমানো দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার জন্য সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং শিল্পের জন্য আধুনিক, স্বচ্ছ ও শিল্পবান্ধব লাইসেন্সিং বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন। বাফা বলেছে, নতুন বিধিমালার লক্ষ্য হওয়া উচিত ব্যবসা জটিল করা নয়; বরং নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করা, পেশাগত মানোন্নয়ন ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তারা বিশেষ সুবিধা বা সংরক্ষিত বাজার চান না। তারা চান সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা, নীতিগত স্থিতিশীলতা ও টেকসই দেশীয় ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং শিল্প। বাফা বলেছে, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং শিল্প আমদানি-রপ্তানি, সরবরাহব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
"এটা শুধু বিদেশি মালিকানার প্রশ্ন নয়; বরং এর সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রভাব, দেশীয় মূল্য সংযোজন ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বাণিজ্যিক স্বার্থ জড়িত।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কবির আহমেদ (বাফার উপদেষ্টা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১% (উৎসে কর), ৬০% (দেশীয় মালিকানার বাধ্যবাধকতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!