📌 কুড়িগ্রাম সদরের ঘোগাদহ ইউনিয়নে সার বিতরণে ডিলারের দেরির কারণে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মামুন অর রশিদকে মারধর করেছে। পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তাকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়
কুড়িগ্রাম সদরের ঘোগাদহ ইউনিয়নে সার বিতরণে ডিলারের দেরির কারণে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মামুন অর রশিদকে মারধর করেছে। রোববার দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তাকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়। মামুন মাথা, নাক ও পিঠে আঘাত পেয়েছেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীর বাড়িতে আশ্রয় নেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মামুন অর রশিদ (উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা) ঘোগাদহ ইউনিয়নে সার বিতরণে ডিলারের দেরির কারণে মারধর হন।
- 📌 ১২০ বস্তা সার বিতরণের কথা থাকলেও ডিলার নির্ধারিত সময়ে গুদাম খোলেননি।
- 📌 ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ব্লক সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্বে থাকা মামুনকে কৃষকরা ডিলার ভেবে আক্রমণ করে।
- 📌 পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও কর্মকর্তাকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়।
- 📌 সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ওসি ঘটনাস্থলে পৌঁছান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
- 📌 মেসার্স অলিল মোল্লা নামের ডিলারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।
📰 বিস্তারিত
ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদের কাছে ডিলারের গুদামের সামনে ঘটে এই মারধর। মামুন অর রশিদ জানান, সকাল থেকে কৃষকরা সার বিতরণের জন্য গুদামের সামনে ভিড় করছিল। তিনি বারবার ডিলারকে ফোন করলেও গুদাম খোলেননি। এর মধ্যে অপেক্ষায় থাকা কৃষকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বেলা ১২টার দিকে কিছু কৃষক মামুনকে ডিলার ভেবে আক্রমণ করে। পুলিশ সদস্য থাকলেও কর্মকর্তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেননি। স্থানীয় ব্যবসায়ীর সহায়তায় তিনি তাঁর বাড়িতে আশ্রয় নেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, নির্ধারিত সময়ে গুদাম না খোলায় কৃষকেরা কর্মকর্তাকে আক্রমণ করেছে। তিনি জানান, ইউনিয়নে সারের প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু ভিড়ে অন্য পক্ষ প্রবেশ করে উসকানি দিচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করার দরকার।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. নাহিদা আফরীন বলেন, ডিলারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটিকে অনুলিপি দেওয়া হবে। তারা পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন। কর্মকর্তার ওপর হামলাকারীদের ভিডিও দেখে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, শত শত মানুষ ছিল, কিন্তু পুলিশ ছিল মাত্র তিনজন। কৃষি বিভাগ থেকে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
"ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা মেসার্স অলিল মোল্লা নামে সার ডিলারের গুদামে আজ সকাল থেকে ১২০ বস্তা সার বিতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু ডিলার নির্ধারিত সময়ে গুদাম খোলেননি। সকাল থেকে কৃষকেরা গুদামের সামনে ভিড় করতে থাকেন। আমি ডিলারকে বারবার ফোন করলেও তিনি গুদাম খোলেননি। এর মধ্যে অপেক্ষায় থাকা কৃষকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বেলা ১২টার দিকে কিছু কৃষক আকস্মিক আমাকে ডিলার ভেবে তেড়ে আসেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলা করে পেটান।"
ঘটনার পর মেসার্স অলিল মোল্লা নামের ডিলারের মালিক অলিল মোল্লাকে যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঘোগাদহ ইউনিয়ন, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মামুন অর রশিদ (উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা), আব্দুল মালেক (ইউনিয়ন চেয়ারম্যান), মোছা. নাহিদা আফরীন (উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা), কামাল হোসেন (ওসি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২০ বস্তা সার, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড, ৩ জন পুলিশ সদস্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!