📌 বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বর্তমানে ৩৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। নতুন সরকারের আমলে রিজার্ভ বেড়েছে এবং বাড়তি আমদানি খরচ সামলানো যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের প্রচেষ্টায় রিজার্ভের পতন ঠেকানো হয়েছে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি দাঁড়িয়েছে। নতুন সরকারের আমলে রিজার্ভের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাড়তি আমদানি খরচ সামলানো যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ গতকাল রোববার ৩৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারে (৩ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকা) দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো পর্যাপ্ত
- 📌 গত ছয় মাসে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার, এবং গত সপ্তাহে সাড়ে ৩৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছিল
- 📌 আইএমএফ-এর বিপিএম ৬ হিসাব অনুযায়ী প্রকৃত রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের বেশি
- 📌 নতুন সরকারের আমলে রিজার্ভের পতন ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য
- 📌 মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে তেল-গ্যাস ও সারের দাম বেড়ে গেলেও রিজার্ভের পর্যাপ্ততা আমদানি খরচ সামলাতে সহায়তা করছে
- 📌 বিদেশি ঋণ শোধে ডলারের জোগান থাকায় অর্থনৈতিক চাপ কমে আসছে
- 📌 বিনিয়োগ পরিস্থিতি স্থবির থাকলেও বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধির কারণে রিজার্ভের অবস্থা ভালো
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সাধারণত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকলেই গ্রহণযোগ্য ধরা হয়। তবে বর্তমানে চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো পর্যাপ্ত রিজার্ভ রয়েছে। গত ছয় মাসে রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহেও রিজার্ভের পরিমাণ সাড়ে ৩৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছিল, তবে ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারের বিল পরিশোধের কারণে রিজার্ভের পরিমাণ কমেছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্ত হিসেবে মোট রিজার্ভের পাশাপাশি প্রকৃত রিজার্ভের হিসাবও দেওয়া হয়, যা বিপিএম ৬ নামে পরিচিত। এই হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। নতুন সরকারের আমলে, অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রিজার্ভের পরিমাণ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের প্রচেষ্টায় রিজার্ভের পতন ঠেকানো হয়েছে। তিনি বলেছেন, যথেষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা না থাকলে দেশের খাদ্য, জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি ব্যাহত হবে। ডলারের দাম বাড়তে পারে এবং মূল্যস্ফীতিও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে দেশ দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে। শ্রীলঙ্কা তেমন পরিস্থিতিতে পড়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে তেল-গ্যাস ও সারের দাম বেড়ে গেলেও বর্তমানে রিজার্ভে পর্যাপ্ত ডলার থাকায় বাড়তি আমদানি খরচ সামাল দেওয়া যাচ্ছে। বিদেশি ঋণ শোধে ডলারের জোগান থাকায় অর্থনৈতিক চাপ কমে আসছে। রিজার্ভের অবস্থা ভালো থাকার অন্যতম কারণ হলো দেড়-দুই বছর ধরে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে এবং রেমিট্যান্স আয় বেড়েছে।
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, রিজার্ভ ভালো থাকার অন্যতম কারণ হলো বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধি। তিনি আরও বলেছেন, যখন আমদানির চাহিদা বাড়বে, তখন রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়বে। বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপও বাড়ছে। ২০২৯ সালের নাগাদ ৭ বিলিয়ন ডলারের মতো বিদেশি ঋণ শোধ করতে হবে।
"রিজার্ভ ভালো থাকার অন্যতম কারণ হলো দেড়-দুই বছর ধরে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে। রেমিট্যান্স আয় বেড়েছে। ভালো রিজার্ভ থাকায় জ্বালানি পণ্য আনতে বাড়তি তিন-চার বিলিয়ন ডলার খরচ করতে পেরেছি। বিদেশি ঋণও শোধ করা যাচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, মোস্তাফিজুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৬ বিলিয়ন ডলার (রিজার্ভ), ৩১ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম ৬), ৩ বিলিয়ন ডলার (গত ছয় মাসে বৃদ্ধি), ৭ বিলিয়ন ডলার (২০২৯ সালের ঋণ পরিশোধ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!