📌 বাংলাদেশ ইইউর ৬১টি বাধার মধ্যে ৪৮টি দূর করে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি (আইপিএ) আলোচনার পথ খুলেছে। ইইউ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে চলতি সপ্তাহ থেকে যৌথ আলোচনা শুরু করার আশ্বাস দিয়েছে
বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি আলোচনার নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ৬১টি বাধার মধ্যে ৪৮টি দ্রুত সমাধান করে ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি (আইপিএ) আলোচনার পথ সুগম করেছে। ইইউ কমিশন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে চলতি সপ্তাহ থেকে যৌথ কারিগরি আলোচনা শুরু করার আশ্বাস দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশ ৬১টি বাধার মধ্যে ৪৮টি দ্রুত সমাধান করে ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক সুগম করেছে
- 📌 ইইউ কমিশন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে চলতি সপ্তাহ থেকে এফটিএ-আইপিএ আলোচনা শুরু করার আশ্বাস দিয়েছে
- 📌 রপ্তানি পণ্যের ট্রেসিবিলিটি নিশ্চিতকরণে স্ক্যানিং কার্ডের শুল্কায়ন জটিলতা দূর করা হয়েছে
- 📌 বাণিজ্যিক স্যাম্পল আমদানির বার্ষিক সীমা বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে
- 📌 ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেছেন, বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির প্রধান গন্তব্য ইউরোপ হওয়ায় এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
📰 বিস্তারিত
গতকাল ঢাকায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউর রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে ২৭ দেশের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠক শেষে যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে উভয় পক্ষের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, গত মার্চে ইইউর রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে ধরেন। এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সাথে কাজ শুরু করা হয়। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যে ৪৮টি বাধা দূর করা সম্ভব হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সমাধান হওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন লজিস্টিক কোম্পানির লাইসেন্স নবায়নের জটিলতা দূর করা। বাণিজ্যিক স্যাম্পল আমদানির বার্ষিক সীমা বাড়িয়ে ১০ হাজার ডলার থেকে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে। রপ্তানি পণ্যের ট্রেসিবিলিটি নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত স্ক্যানিং স্মার্ট কার্ডের শুল্কায়ন জটিলতা দূর করা হয়েছে এবং এর মূল্য নির্ধারণে যৌক্তিকতা আনা হয়েছে। বাকি বাধাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশের জন্য এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেশের পণ্য রপ্তানির প্রধান গন্তব্য হলো ইউরোপ। বর্তমানে তৈরি পোশাক এই বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য। এফটিএ আলোচনা এগোলে পোশাকের পাশাপাশি কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ওষুধসহ অন্যান্য পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রও বাড়তে পারে।
"বাংলাদেশ ও ইইউর অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে হলে ব্যবসার পরিবেশ হতে হবে স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক। সরকারি ক্রয়েও স্বচ্ছতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি"
— বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৮টি বাধা দূর করা, ৬১টি বাধা চিহ্নিত, ২৭ দেশের প্রতিনিধিদল, ২০ হাজার ডলার (স্যাম্পল আমদানির সীমা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!