📌 সিরাজগঞ্জে ড্রাগন ফলের বাম্পার ফলন ও উচ্চ বাজারদর কৃষকদের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলেছে। জেলার নয়টি উপজেলায় ১৮ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হচ্ছে। কৃষক ইদ্রিস আলী এক বিঘা জমিতে ছয় মেট্রিক টন ফল উৎপাদনের আশা করছেন
সিরাজগঞ্জের কৃষকরা ড্রাগন ফলের বাম্পার ফলন ও উচ্চ বাজারদর থেকে লাভবান হচ্ছেন। ফলন বৃদ্ধি ও লাভজনক হওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বাড়ছে এই ফলের চাষের পরিধি। বিশেষ করে চরাঞ্চল থেকে শুরু করে সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ড্রাগন ফলের বাগান গড়ে উঠছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরাজগঞ্জে ড্রাগন ফলের বাম্পার ফলন, জেলার নয়টি উপজেলায় ১৮ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হচ্ছে
- 📌 কৃষক ইদ্রিস আলী এক বিঘা জমিতে গতবছর ৫ মেট্রিক টন উৎপাদন করে, চলতি মৌসুমে ৬ মেট্রিক টন আশা করছেন
- 📌 প্রতি কেজি ড্রাগন ফলের বাজারদর বেড়েছে ১৫০-১৬০ টাকা থেকে ১৮০-২০০ টাকা
- 📌 বাউ-৩ জাতের চাষ বেশি, প্রতি বিঘা জমি থেকে ২ লাখ টাকার বেশি লাভ হচ্ছে
- 📌 কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতায় অনাবাদি জমিও উৎপাদনে আসছে
📰 বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জ জেলায় ড্রাগন ফলের চাষের পরিধি দিন দিন বাড়ছে। জেলার উল্লাপাড়া, কামারখন্দ, কাজিপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই ফলের বাগান গড়ে উঠছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের জমিগুলোও এখন ড্রাগন ফলের চাষে ব্যবহৃত হচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ১৮ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফল চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে চাষের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
ড্রাগন ফল চাষের জন্য উঁচু, দোআঁশ ও বালিজাতীয় জমি বেশি উপযোগী। সিরাজগঞ্জে বাউ-১, বাউ-২ ও বাউ-৩ জাতের ড্রাগন ফল চাষ হচ্ছে, তবে বাউ-৩ জাতের চাষই বেশি। কৃষকরা জানান, ড্রাগন ফলের বাগান তৈরির শুরুতে সিমেন্টের খুঁটি স্থাপন করে জিআই তারের মাধ্যমে কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর ওই কাঠামো ঘিরে চারা রোপণ করা হয়। চারা রোপণের প্রায় ছয় মাস পর গাছে ফুল আসে এবং ফুল থেকেই ফল পাওয়া যায়। একবার তৈরি করা কাঠামো থেকে ছয় থেকে সাত বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দইভাঙ্গা নদীর তীরবর্তী ব্রহ্মখোলা গ্রামের কৃষক ও উদ্যোক্তা এস এম ইদ্রিস আলী ড্রাগন ফল চাষের মাধ্যমে সাফল্য পেয়েছেন। তিনি প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে বাউ-৩ জাতের ড্রাগন ফলের চাষ করেছেন। ইদ্রিস আলী জানান, ‘১৯৯৯ সাল থেকে উচ্চফলনশীল ফল চাষ করছি, কিন্তু ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো ড্রাগন ফলের বাগান করেছি। শুরুতে কিছু সমস্যা হলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন ভালো ফলন পাচ্ছি।’
"গতবছর আমার বাগানে প্রায় পাঁচ মেট্রিক টন ড্রাগন ফল উৎপাদন হয়েছিল। চলতি মৌসুমে উৎপাদন আরও বেড়ে প্রায় ছয় মেট্রিক টন হতে পারে। গতবছর প্রতি কেজি ফল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি করতাম, বর্তমানে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে।"
ইদ্রিস আলী আরও বলেন, ‘ড্রাগন ফল চাষে শুরুতে কিছু সমস্যা হলেও কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এখন ভালো ফলন পাচ্ছি। বাজারে দামও ভালো। এ কারণে ড্রাগন ফল চাষ করে আগের তুলনায় ভালো আয় হচ্ছে।’ এস এম ইদ্রিস আলীর সাফল্য দেখে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যেও ড্রাগন ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে। তারা কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে নতুন করে বাগান করছেন। তুলনামূলক কম শ্রমে দীর্ঘদিন ফলন পাওয়া এবং বাজারে ভালো দাম থাকায় কৃষকদের কাছে এই ফলের চাষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ড্রাগন ফল চাষের মাধ্যমে অনেক কৃষকের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। পাশাপাশি অনাবাদি ও পতিত জমিও উৎপাদনের আওতায় আসছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, সিরাজগঞ্জের উপপরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা জানান, ‘ড্রাগন ফল সম্ভাবনাময় ও লাভজনক। কৃষকদের মধ্যে এ ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ড্রাগন ফলের চাষ আরও সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি অনাবাদি জমিও উৎপাদনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জ জেলা (উল্লাপাড়া, কামারখন্দ, কাজিপুর, সদর উপজেলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এস এম ইদ্রিস আলী, এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ হেক্টর (লক্ষ্যমাত্রা), ৫ মেট্রিক টন (গতবছর), ৬ মেট্রিক টন (চলতি মৌসুম), ১৫০-২০০ টাকা (বাজারদর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!