📌 এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ব্যাংকিং সেবায় বিপ্লব ঘটেছে। জুন প্রান্তিক শেষে মোট আমানতের ৮২ শতাংশই এসেছে গ্রাম থেকে। শহরের তুলনায় গ্রামে আমানত পাঁচ গুণ বেশি
বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন প্রান্তিক শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট আমানতের ৮২ শতাংশই এসেছে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে। শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামে আমানত পাঁচ গুণ বেশি হওয়ায় ব্যাংকিং সেবা গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে জুন শেষে মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ১২৮ কোটি টাকা
- 📌 গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আমানতের পরিমাণ ৪২ হাজার ৫৩ কোটি টাকা
- 📌 শহরাঞ্চলের আমানতের পরিমাণ ৯ হাজার ৭৫ কোটি টাকা
- 📌 জুন শেষে মোট ঋণ বিতরণ হয়েছে ১২ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা
- 📌 তিন মাসে লেনদেন বেড়েছে ৩ হাজার ৫৬৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা
- 📌 এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে নারীদের হিসাবের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুসারে, এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জুন প্রান্তিক শেষে মোট আমানতের মধ্যে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অবদান ছিল ৮২ শতাংশের বেশি। শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামে আমানত পাঁচ গুণ বেশি হওয়ায় ব্যাংকিং সেবা গ্রামের মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো প্রত্যন্ত এলাকায় শাখা না খুলেও ব্যাংকিং সেবা প্রদান করতে পারছে। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জুন শেষে মোট হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ ২৩ হাজার ৮১টি। এর মধ্যে নারীদের হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৩৫ লাখ ৬১ হাজার ৫০৭টি, যা মোট হিসাবের প্রায় অর্ধেক।
এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ঋণ বিতরণও বৃদ্ধি পেয়েছে। জুন শেষে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা, যা মার্চ শেষে ছিল ১১ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা। তিন মাসে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৪৬৮ কোটি টাকা। একই সময়ে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা, যা মার্চ শেষে ছিল ১ লাখ ৪২ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা। লেনদেন বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৫৬৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বর্তমানে ৩০টি ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব ব্যাংকের মোট এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৪২৩টিতে, যা মার্চ শেষে ছিল ১৫ হাজার ১৮৪টি। তিন মাসে এজেন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ২৩৯টি।
"এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের পরিসর বাড়ছে। সম্প্রতি সিটিজেনস ব্যাংক ও কমিউনিটি ব্যাংকও এই সেবায় যুক্ত হচ্ছে। নারী-পুরুষ সমান আউটলেট রাখার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বিস্তার কিছুটা কমেছিল। এখন এ বিষয়ে নমনীয় হওয়ায় সামনে এজেন্ট ব্যাংকিং আরও বাড়বে বলে আশা করেন তিনি।"
এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রান্তিক মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে ২০১৪ সালে এই সেবা চালু করা হয়। ব্যাংকগুলোর পরিচালন ব্যয় কম হওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকায় শাখা না খুলেও ব্যাংকিং সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. ফিরোজ চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫১ হাজার ১২৮ কোটি টাকা (মোট আমানত), ৪২ হাজার ৫৩ কোটি টাকা (গ্রামীণ আমানত), ১২ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা (মোট ঋণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!