📌 কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দুটি প্রকল্পে প্রায় ২৬ কোটি টাকা বিনষ্ট হবার পরও সরকার বড় প্রকল্পে তোড়জোড় শুরু করেছে। প্রকল্পের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, হিমাগারগুলো কার্যকর নয় এবং কৃষকদের লাভ হয়নি
বাংলাদেশের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) দুটি ছোট হিমাগার প্রকল্পে প্রায় ২৬ কোটি টাকা বিনষ্টের পরও সরকার বড় প্রকল্পে তোড়জোড় শুরু করেছে। প্রকল্প দুটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং কৃষকদের লাভ হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডিএইর দুটি প্রকল্পে ২৬ কোটি টাকা বিনষ্ট; ১৮০টি হিমাগারের মধ্যে মাত্র ১৫০টি নির্মিত
- 📌 ১২ কোটি টাকার প্রথম প্রকল্পে ১০০টি হিমাগারের মধ্যে ৫০টি সচল নয়; বিদ্যুৎ সংযোগের অভাব
- 📌 ১৪ কোটি টাকার দ্বিতীয় প্রকল্পে ৮০টি হিমাগারের মধ্যে মাত্র ৫০টি নির্মিত; স্থান নির্বাচনে অস্বচ্ছতা
- 📌 প্রকল্পের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিমাগারগুলো কার্যকর নয়; কৃষকদের লাভ নেই
- 📌 কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ঘোষণা দিয়েছেন, প্রায় ২০০০টি হিমাগার নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে
📰 বিস্তারিত
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) দুটি প্রকল্পে প্রায় ২৬ কোটি টাকা বিনষ্ট হয়েছে। এই প্রকল্প দুটি ছিলো ফল ও সবজি সংরক্ষণের জন্য ছোট হিমাগার নির্মাণের। প্রথম প্রকল্পে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০টি হিমাগার নির্মাণের কথা থাকলেও, বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবের কারণে মাত্র ৫০টি সচল হয়েছে। দ্বিতীয় প্রকল্পে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮০টি হিমাগার নির্মাণের পরিকল্পনা ছিলো, কিন্তু মাত্র ৫০টি নির্মিত হয়েছে। প্রকল্প দুটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং কৃষকদের লাভ হয়নি।
প্রকল্পের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, হিমাগারগুলোতে ফল ও সবজির গুণগত মান ঠিক থাকে না। উদাহরণস্বরূপ, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কৃষক কামাল পারভেজ বলেছেন, হিমাগারে রাখা সবজির গুণগত মান ভালো থাকে না। সবজি কুঁচকে যায় এবং রং বদলে যায়। কুমিল্লার চান্দিনার কৃষক শরীফ হোসেনও একই অভিযোগ করেছেন। গাজীপুরের কৃষক শাহিনুর ইসলাম শাহিন জানান, হিমাগারে রাখা কাঁঠালের গুণগত মান ঠিক থাকে না এবং পেঁপের রং পরিবর্তন হয়েছে।
ডিএইর অনুসন্ধান কমিটি প্রকল্পের ২৬টি হিমাগার সরাসরি পরিদর্শন করেছে। কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, বর্তমান অবস্থায় আর কোনো হিমাগার নির্মাণ না করে অধিকতর গবেষণা করার প্রয়োজন। তবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ঘোষণা দিয়েছেন, প্রায় ২০০০টি হিমাগার নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।
"বাস্তবে যেটা পেয়েছি, সেটাই আমরা প্রকল্প মূল্যায়ন প্রতিবেদনে লিখেছি। সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে কি না, সেটা যাচাই করেছি।"
— ডিএইর অতিরিক্ত পরিচালক মো. রওশন আলম
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, গাজীপুর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, ডিএইর অতিরিক্ত পরিচালক মো. রওশন আলম, কৃষক কামাল পারভেজ, কৃষক শরীফ হোসেন, কৃষক শাহিনুর ইসলাম শাহিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬ কোটি টাকা, ১৮০টি হিমাগার, ১৫০টি নির্মিত, ১২ কোটি টাকা, ১০০টি হিমাগার, ৫০টি সচল, ১৪ কোটি টাকা, ৮০টি হিমাগার, ২৬টি পরিদর্শিত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!