📌 ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেনকে মারধর করে হত্যা করা হয়। মামলায় ২৮ জন আসামির মধ্যে ১৭ জন এখনো পলাতক। বিচার শুরু না হলেও পিবিআই তদন্তে ৯০ ঘণ্টার ৬৪টি ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযোগপত্র দিয়েছে
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হোসেনকে মারধর করে হত্যা করা হয়। ঘটনার প্রায় দুই বছর পরও বিচার শুরু হয়নি। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ২৮ জন আসামির মধ্যে ১৭ জন এখনো পলাতক অবস্থায় রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের মাঠে টুর্নামেন্ট চলাকালে তোফাজ্জলকে চোর সন্দেহে মারধর করা হয়।
- 📌 পিবিআই তদন্তে ৯০ ঘণ্টার ৬৪টি ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর ২৮ জন আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়েছে।
- 📌 মামলায় ২৮ আসামির মধ্যে ১৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও তারা এখনো গ্রেপ্তার হননি।
- 📌 অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ১০টা ৩৩ মিনিট পর্যন্ত তোফাজ্জলকে মারধর ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
- 📌 রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে প্রক্টরিয়াল টিমের গাড়িতে তোফাজ্জলকে তুলে নেওয়া হয়, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয়।
📰 বিস্তারিত
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের মাঠে একটি টুর্নামেন্ট চলছিল। দুপুরে সেখান থেকে ছয়টি মুঠোফোন চুরি হয়। সন্ধ্যায় খেলা চলার সময় তোফাজ্জলকে দেখে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁকে ওই চুরির সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করেন। সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে তোফাজ্জলকে ধরে মারধর শুরু হয়। দুই মিনিট পর তাঁকে হলের মূল ভবনের গেস্টরুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন সময়ে ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, রাত ৮টা ১১ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারেন যে, দুপুরে চুরি হওয়া ছয়টি মুঠোফোনের চোরের সঙ্গে তোফাজ্জলের চেহারার মিল নেই। এরপরও তাঁর কাছে চুরি হওয়া ফোন উদ্ধারের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলতে থাকে। তোফাজ্জল ফোনগুলো চুরি করেছেন বলে স্বীকার করেন এবং সেগুলো কোথায় পাওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে কয়েকটি মুঠোফোন নম্বর দেন। শিক্ষার্থীরা ওই নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করেও ফোন উদ্ধার করতে পারেননি।
রাত ৮টা ৩৬ মিনিটে তোফাজ্জলকে হলের ক্যানটিনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রায় ১৪ মিনিট তাঁকে খাবার খাওয়ানো হয় এবং ওই সময় তাঁকে মারধর করা হয়নি। খাওয়া শেষে রাত ৮টা ৫২ মিনিটের দিকে ১২ থেকে ১৩ জন শিক্ষার্থী তোফাজ্জলকে ক্যানটিন থেকে হলের দক্ষিণ ভবনের গেস্টরুমে নিয়ে যান। সেখানে আরও ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী প্রবেশ ও বের হন। রাত ৯টা ৪৩ মিনিটে প্রক্টরিয়াল টিমের গাড়ি সেখান থেকে চলে যায়। এরপরও তোফাজ্জলকে মারধর করা হয়। রাত ১০টা ১৫ মিনিট থেকে ১০টা ৩৩ মিনিট পর্যন্ত কয়েকজন তাঁকে মারধর করেন।
রাত ১০টা ৩৩ মিনিটের দিকে প্রক্টরিয়াল টিমের গাড়ি আবারও হলে আসে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যস্থতায় রাত ১০টা ৫২ মিনিটে তোফাজ্জলকে গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। আনুমানিক রাত ১০টা ৫৭ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল থেকে তাঁকে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। পরে থানার পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
"২৮ আসামির মধ্যে দুজন কারাগারে, নয়জন জামিনে আছেন। বাকি ১৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও তাঁরা এখনো গ্রেপ্তার হননি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ফজলুল হক মুসলিম হল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তোফাজ্জল হোসেন, উপপরিদর্শক শাহ আলম, পিবিআই তদন্ত কর্মকর্তা হান্নানুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ জন আসামি, ১৭ জন পলাতক, ৬৪টি ভিডিও ফুটেজ, ৯০ ঘণ্টা তদন্ত, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!